ইইউর সদস্য হওয়ার আগেই একক বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে প্রার্থী দেশগুলো
ইইউতে পূর্ণ সদস্যপদ পাওয়ার আগেই প্রার্থী দেশগুলোকে বাণিজ্য, গবেষণা ও শিল্প সহযোগিতায় বাড়তি সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ইউরোপীয় কমিশন।
ইইউর সদস্য হওয়ার আগেই একক বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে প্রার্থী দেশগুলো
ইউরোপীয় ইউনিয়নে পূর্ণ সদস্যপদ পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা দেশগুলোকে সদস্য হওয়ার আগেই ইইউর একক বাজারের বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ইউরোপীয় কমিশন। কমিশনের একটি খসড়া পরিকল্পনায় প্রার্থী দেশগুলোর সঙ্গে ধাপে ধাপে অর্থনৈতিক একীভূতকরণ বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর আওতায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী দেশগুলো ইইউর বাজারে সহজতর বাণিজ্য সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি গবেষণা, উদ্ভাবন ও শিল্প সহযোগিতার বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারে।
প্রস্তাবিত উদ্যোগের লক্ষ্য হলো পূর্ণ সদস্যপদ পাওয়ার আগেই প্রার্থী দেশগুলোর অর্থনীতি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইইউর কাঠামোর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করা। এর মাধ্যমে বাণিজ্য বাড়ানো, বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা, সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং ইউরোপের কৌশলগত নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করা হবে। তবে কোনো দেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুরো একক বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে না। কোন দেশ কোন খাতে কতটা সুবিধা পাবে, তা নির্ভর করবে ইইউর নিয়মকানুনের সঙ্গে তাদের সামঞ্জস্য এবং সেগুলো বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপর।
এই পরিকল্পনায় উত্তর মেসিডোনিয়া, কসোভো, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, সার্বিয়া এবং তুরস্কের মতো দীর্ঘদিন ধরে ইইউ সদস্যপদের অপেক্ষায় থাকা দেশগুলো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি ইউক্রেন, মলদোভা, আলবেনিয়া ও মন্টেনেগ্রোর মতো প্রার্থী দেশগুলোর সঙ্গেও ইইউর অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক আরও গভীর করার উদ্যোগ রয়েছে। এর ফলে পূর্ণ সদস্যপদের আগে এসব দেশের ব্যবসা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প খাত ইইউর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ পেতে পারে।
তবে প্রস্তাবিত সুবিধার সঙ্গে বেশ কিছু শর্তও থাকবে। ইইউর পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তা স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য, সংবেদনশীল প্রযুক্তির সুরক্ষা, বিদেশি বিনিয়োগের যথাযথ যাচাই এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি অন্য ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্রের কাছে চলে যাওয়া ঠেকানোর মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, জীবপ্রযুক্তি ও মহাকাশশিল্পের মতো কৌশলগত খাতে সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা রাখা হবে।
তবে এই পরিকল্পনাকে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যাবে না। এটি ইউরোপীয় কমিশনের খসড়া পর্যায়ের প্রস্তাব, যার ওপর পরবর্তী সময়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। পরিকল্পনাটির মূল ধারণা হলো, কোনো দেশ পূর্ণ সদস্য হওয়ার আগে ধাপে ধাপে ইইউর বাজার, গবেষণা, শিল্প ও অর্থনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হবে এবং প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে পারলে সেই একীভূতকরণ আরও বিস্তৃত হবে। শেষ পর্যন্ত পূর্ণ ইইউ সদস্যপদই এসব দেশের জন্য প্রধান লক্ষ্য হিসেবে থাকবে।