যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা আস্থা ১২ বছরের সর্বনিম্নে, অর্থনীতি নিয়ে বাড়ছে মানুষের উদ্বেগ
জীবনযাত্রার ব্যয়, চাকরির বাজারের অনিশ্চয়তা ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা আস্থা ১২ বছরের সর্বনিম্নে নেমেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা আস্থা ১২ বছরের সর্বনিম্নে, অর্থনীতি নিয়ে বাড়ছে মানুষের উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ মানুষের অর্থনীতি নিয়ে আস্থা সেপ্টেম্বরে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ জরিপ অনুযায়ী, মার্কিন ভোক্তা আস্থা সূচক আগস্টের ৮৮ দশমিক ৬ থেকে সেপ্টেম্বরে নেমে ৮১ দশমিক ৯-এ দাঁড়িয়েছে। এটি ২০১৪ সালের এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন পর্যায়।
জীবনযাত্রার ব্যয়, চাকরির বাজার নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং ইরান যুদ্ধকে ঘিরে অর্থনৈতিক চাপ মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম নিয়ে অনিশ্চয়তা ভোক্তাদের মনোভাবের ওপর প্রভাব ফেলছে।
একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও অস্থির রয়েছে। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পশ্চিম টেক্সাসের অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় সাড়ে ৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৯ দশমিক ৩৮ ডলারে এবং ব্রেন্ট তেলের দাম প্রায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১০২ দশমিক ৫৯ ডলারে দাঁড়ায়। তবে মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ থাকায় সেপ্টেম্বরজুড়ে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসন জ্বালানির দাম কমানোর বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করছে। এর মধ্যে রঙযুক্ত ডিজেলের বিক্রি আরও বিস্তৃত করার একটি প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
অর্থনীতিতে এর প্রভাব এখন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভোক্তাদের আস্থা কমে গেলে মানুষ সাধারণত বড় ধরনের কেনাকাটা ও ব্যয়ের সিদ্ধান্তে আরও সতর্ক হয়ে ওঠে। এর প্রভাব খুচরা বিক্রি, ব্যবসা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও পড়তে পারে।
তবে ভোক্তা আস্থা কমে যাওয়া মানেই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি নিশ্চিতভাবে মন্দার দিকে যাচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। এটি মূলত মানুষের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণার একটি সূচক।
বর্তমানে মার্কিন অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় নজরের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির দাম, চাকরির বাজার এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব।