৯০০ মিলিয়ন পাউন্ডের আর্থিক অনিয়ম! ম্যানচেস্টার সিটিকে দায়ী করল প্রিমিয়ার লিগ

স্বাধীন কমিশনের রায়ে বড় ধাক্কা ম্যানচেস্টার সিটির। স্পনসরশিপ ও আর্থিক হিসাব নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগে ক্লাবকে দায়ী করা হয়েছে।

৯০০ মিলিয়ন পাউন্ডের আর্থিক অনিয়ম! ম্যানচেস্টার সিটিকে দায়ী করল প্রিমিয়ার লিগ

৯০০ মিলিয়ন পাউন্ডের আর্থিক অনিয়ম! ম্যানচেস্টার সিটিকে দায়ী করল প্রিমিয়ার লিগ


ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দীর্ঘদিনের আর্থিক অনিয়মের তদন্তে বড় সিদ্ধান্ত এসেছে। ২৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রিমিয়ার লিগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একটি স্বাধীন কমিশন নয় মৌসুমজুড়ে ক্লাবটির বিরুদ্ধে আনা গুরুতর আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগগুলোতে ম্যানচেস্টার সিটিকে দায়ী করেছে। একই সঙ্গে তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগগুলোরও অধিকাংশে ক্লাবটিকে দায়ী করা হয়েছে।

কমিশনের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ম্যানচেস্টার সিটি কয়েকটি স্পনসর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এমন কিছু বাণিজ্যিক চুক্তি করেছিল, যেগুলোকে কমিশন ‘সাজানো’ বা প্রকৃত আর্থিক অবস্থাকে আড়াল করার ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছে। প্রিমিয়ার লিগের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব চুক্তিতে স্পনসররা নির্ধারিত অর্থের একটি অংশ পরিশোধ করলেও বাকি অর্থ ক্লাবের মালিকানাধীন আবুধাবি ইউনাইটেড গ্রুপ ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছিল বলে কমিশন দেখতে পেয়েছে।

এ ছাড়া কমিশনের অনুসন্ধানে আরও কিছু আর্থিক ব্যবস্থা উঠে এসেছে। প্রিমিয়ার লিগের বিবৃতি অনুযায়ী, এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্লাবের প্রকৃত পরিচালন ব্যয়ের তুলনায় কম খরচ দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। খেলোয়াড়দের ভাবমূর্তির স্বত্ব নিয়ে একটি প্রতিষ্ঠানকে ঘিরেও এমন একটি ব্যবস্থা পাওয়া গেছে, যার অর্থায়নের সঙ্গে আবুধাবি ইউনাইটেড গ্রুপের সম্পৃক্ততা ছিল বলে কমিশন উল্লেখ করেছে।

স্বাধীন কমিশনের মতে, এসব ব্যবস্থার উদ্দেশ্য ছিল ম্যানচেস্টার সিটির আয় কৃত্রিমভাবে বাড়ানো এবং ব্যয় কম দেখানো। প্রিমিয়ার লিগ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সময়ে এসব ব্যবস্থার মোট প্রভাব ৯০০ মিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি ছিল। এর ফলে ক্লাবের আর্থিক হিসাব প্রকৃত পরিস্থিতি সঠিকভাবে তুলে ধরেনি এবং আর্থিক নিয়ম মেনে চলার ক্ষেত্রে ক্লাবের অবস্থাকে বাস্তবের তুলনায় ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল বলে কমিশন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।

কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ম্যানচেস্টার সিটি প্রিমিয়ার লিগের লাভ-ক্ষতি ও আর্থিক স্থায়িত্বসংক্রান্ত নিয়ম এবং উয়েফার ক্লাব লাইসেন্সিং ও আর্থিক ন্যায্যতা সংক্রান্ত নিয়মের উদ্দেশ্যে নিজেদের আয়-ব্যয়ের সঠিক তথ্য দেয়নি। কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট চুক্তিগুলো যদি ক্লাবের হিসাবে সঠিকভাবে দেখানো হতো, তাহলে নির্দিষ্ট সময়ে প্রিমিয়ার লিগ ও উয়েফার ব্যয়সীমা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় অতিক্রম করার বিষয়টি সামনে আসত।

তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ম্যানচেস্টার সিটি আপত্তি জানিয়েছে। ক্লাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রে নিজেদের নির্দোষ মনে করে এবং কমিশনের সিদ্ধান্তে আইন, নীতি ও তথ্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুল রয়েছে বলে তাদের বিশ্বাস। ক্লাব জানিয়েছে, তারা নির্ধারিত আইনি ও নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে।

প্রিমিয়ার লিগের এই সিদ্ধান্ত ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে বছরের পর বছর ধরে চলা আর্থিক তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এখন এই রায়ের পর ক্লাবটির বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আপিল প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্তের কোনো পরিবর্তন হয় কি না—সেদিকেই নজর থাকবে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর