আমেরিকাজুড়ে একাধিক প্রবল ঝড়ের থাবা পূর্ব উপকূলে বন্যা আর হাওয়ায়ে ঘোর আতঙ্ক
৩ মিনিটে পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্র ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে একই সাথে একাধিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘনঘটা দেখা দিয়েছে। দেশটির পূর্ব উপকূলে যেমন শক্তিশালী আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে 'নরইস্টার', তেমনি মহাসাগরের বুকে তৈরি হওয়া শক্তিশালী ঘূর্ণিবায়ু বিপদ ডেকে আনছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র হাওয়াই এবং পার্শ্ববর্তী দেশ মেক্সিকোর উপকূলে। প্রকৃতির এই বিষাক্ত রূপের কারণে কোটি কোটি মানুষের সাধারণ জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ থমকে গেছে।
পূর্বউপকূলেনরইস্টারেরতান্ডবওবন্যা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে আছড়ে পড়েছে প্রবল মৌসুমি ঝড় নরইস্টার। এর প্রভাবে পুরো এলাকা জুড়ে বইছে প্রচণ্ড বেগে ঝড়ো হাওয়া এবং শুরু হয়েছে মুষলধারে বৃষ্টি। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, অতিরিক্ত বৃষ্টির দরুন উপকূলীয় অঞ্চলে বড় ধরনের জলোচ্ছ্বাস ও বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। ইতোমধ্যে নিউইয়র্ক এবং নিউ জার্সির গভর্নর নিজ নিজ অঙ্গরাজ্যে আগাম জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। পরিস্থিতি এতোটাই সঙ্গীন যে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রায় ৭০ হাজারের বেশি বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। প্রবল বাতাসে গাছপালা উপড়ে পড়ে এবং বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে এই বিপত্তি ঘটেছে। উপকূলীয় সার্ফ সিটি এবং মানাসকোয়ান শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলো এখন পানির নিচে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়িঘরেও পানি ঢুকে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। লং আইল্যান্ডে ঝড়ের বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫২ মাইল পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে। স্থানীয় মেয়রের মতে, রাস্তায় দীর্ঘদিন পানি জমে থাকলে জনভোগান্তি আরও চরম আকার ধারণ করবে।
হাওয়ায়শক্তিশালীঘূর্ণিঝড় 'নোলোর' আতঙ্ক পূর্ব উপকূলের যখন এই অবস্থা, ঠিক তখনই প্রশান্ত মহাসাগরে চোখ রাঙাচ্ছ ঘূর্ণি ঝড় 'নোলো'। হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের দিকে দ্রুত গতিতে ধেয়ে আসছে এটি। জাতীয় হারিকেন সেন্টার থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় নোলোর বাতাসের তীব্রতা ইতোমধ্যে ঘণ্টায় ১০৫ মাইলে পৌঁছেছে। এটি ক্রমশ শক্তি সঞ্চয় করে আরও ভয়ংকর রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে হাওয়াইয়ের বিখ্যাত বিগ আইল্যান্ডে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, কিছু এলাকায় ২৫ থেকে ৩৫ ইঞ্চি পর্যন্ত রেকর্ড বৃষ্টিপাত হতে পারে, যা পাহাড়ি ঢল ও মারাত্মক ধসের কারণ হতে পারে। দুর্যোগ মোকাবিলায় রাজ্য সরকার ২৩০ জনের বেশি ন্যাশনাল গার্ড সদস্য প্রস্তুত রেখেছে এবং বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বন্যাপ্রবণ এলাকার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যেতে বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। মেক্সিকোউপকূলওআমেরিকারদক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেসতর্কতা কেবল যুক্তরাষ্ট্র নয়, মেক্সিকোর বাজা ক্যালিফোর্নিয়া উপদ্বীপের দিকেও দ্রুত বেগে ধেয়ে আসছে অপর একটি সামুদ্রিক ঝড় 'পোলো'। পোলোর স্থায়ী বাতাসের তীব্রতা বর্তমানে ঘণ্টায় ১৭৫ মাইলে গিয়ে পৌঁছেছে। মেক্সিকো সরকার ইতোমধ্যেই প্রায় ১৫ হাজার নিরাপত্তাকর্মী উপকূল জুড়ে মোতায়েন করেছে এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র বন্দর পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করেছে। মেক্সিকোর লাজারো কার্দেনাস শহরে সমুদ্রের জলচ্ছ্বাসে বসতবাড়ি ও স্থাপনা ধসে পড়ার সংবাদ এসেছে। আবহাওয়াবিদদের ধারণা, মেক্সিকোর জলবায়ুর আর্দ্রতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য অ্যারিজোনা ও নিউ মেক্সিকো পর্যন্ত ছড়াতে পারে। ফলে ওই সব এলাকাতেও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে এক অভাবনীয় প্রাকৃতিক সংকটের মুখোমুখি পুরো উত্তর আমেরিকা অঞ্চল। সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রশাসন।