জিবুতিতে ইয়েমেনি শরণার্থীদের ঢল, সীমিত চিকিৎসাসেবায় বাড়ছে মানবিক সংকট

যুদ্ধ থেকে পালিয়ে জিবুতিতে আশ্রয় নেওয়া ইয়েমেনি পরিবারগুলোর সামনে এখন নতুন সংকট—সীমিত চিকিৎসা, খাবার ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের মধ্যেই অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

PostImage

জিবুতিতে ইয়েমেনি শরণার্থীদের ঢল, সীমিত চিকিৎসাসেবায় বাড়ছে মানবিক সংকট


ইয়েমেনে চলমান সংঘাত থেকে প্রাণ বাঁচাতে জিবুতিতে আশ্রয় নেওয়া মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। দেশটির উত্তরাঞ্চলের ওবক এলাকায় পৌঁছানো শরণার্থীদের অনেকেই দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রার পর আশ্রয় নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। আল জাজিরার প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ওবকের মার্কাজি শরণার্থী এলাকায় অসুস্থ স্বজনদের চিকিৎসা করাতে গিয়ে পরিবারগুলো সীমিত স্বাস্থ্যসেবার ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে ইয়েমেনি শরণার্থী সালেহকে তাঁর জ্বরে আক্রান্ত ছেলেকে নিয়ে ওবকের একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে ছুটে যেতে দেখা যায়। সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধের সরবরাহ সীমিত থাকায় শরণার্থী পরিবারগুলোর জন্য অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসা করানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি যুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা মানুষগুলোর নতুন করে মানবিক সংকটে পড়ার চিত্র তুলে ধরছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক সপ্তাহেরও কম সময়ে প্রায় ৩ হাজার মানুষ ইয়েমেন থেকে জিবুতিতে পৌঁছেছেন। অনেকে ছোট নৌকায় করে বাব আল-মান্দাব প্রণালি পাড়ি দিয়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এই যাত্রায় প্রচণ্ড গরম, পানিশূন্যতা এবং নিরাপদ পানির সংকটও দেখা দিয়েছে।

জিবুতির ওবক অঞ্চলে নতুন আসা শরণার্থীদের মার্কাজি শরণার্থী গ্রামে নেওয়া হচ্ছে। সেখানে তাদের নিবন্ধন, আশ্রয় ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে দ্রুত বাড়তে থাকা মানুষের চাপের কারণে আবাসন, স্যানিটেশন, খাবার ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন মৌলিক সেবার সক্ষমতা কমে আসছে। জিবুতি সরকারও স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় চিকিৎসা কার্যক্রম জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে।

জাতিসংঘের সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র হওয়ার কারণে দেশটির ভেতরেও এক লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। একই সময়ে জিবুতিতে আশ্রয় নেওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় স্থানীয় সম্পদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। ইউএনএইচসিআর বলছে, জিবুতিতে তাদের কার্যক্রম বর্তমানে মাত্র ১৫ শতাংশ অর্থায়িত হয়েছে এবং শরণার্থীদের জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে আরও আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন।

ফলে যুদ্ধ থেকে বেঁচে জিবুতিতে পৌঁছানো ইয়েমেনি পরিবারগুলোর জন্য নিরাপদ আশ্রয় মিললেও সংকট শেষ হচ্ছে না। অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসা, পর্যাপ্ত খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধ নিশ্চিত করাই এখন মানবিক সহায়তাকারীদের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর