রাশিয়ার নতুন পারমাণবিক অস্ত্র: ‘বুরেভেস্তনিক’ ও ‘পোসেইডন’ এখন দেশীয় প্রযুক্তিতে!

রাশিয়া দেশের তৈরি পারমাণবিক অস্ত্র বুরেভেস্তনিক ও পোসেইডন প্রদর্শন করেছে, কৌশলগত প্রস্তুতি প্রদর্শন হিসেবে।

PostImage

রাশিয়ার নতুন পারমাণবিক অস্ত্র: ‘বুরেভেস্তনিক’ ও ‘পোসেইডন’ এখন দেশীয় প্রযুক্তিতে!


রাশিয়া ঘোষণা দিয়েছে যে তারা তাদের সর্বাধুনিক দুটি কৌশলগত অস্ত্র ব্যবস্থা—‘বুরেভেস্তনিক’ (Burevestnik) পারমাণবিকচালিত ক্ষেপণাস্ত্র এবং ‘পোসেইডন’ (Poseidon) পানির নিচের পারমাণবিক ড্রোন—সম্পূর্ণ দেশীয় উপকরণ ও প্রযুক্তিতে তৈরি করেছে এবং এখন সেগুলো কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে বিদেশি প্রযুক্তি বা উপাদানের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এনে রাশিয়া এখন সম্পূর্ণ আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

‘বুরেভেস্তনিক’ একটি পারমাণবিকচালিত ক্ষেপণাস্ত্র, যা ছোট আকারের রিঅ্যাক্টরে চালিত এবং অসীম দূরত্বে লক্ষ্যভেদে সক্ষম বলে দাবি করেছে রাশিয়া। এটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোকে ফাঁকি দিয়ে উড়ে যেতে পারে। অন্যদিকে ‘পোসেইডন’ হলো এক ধরনের স্বয়ংক্রিয় পারমাণবিক ড্রোন, যা সমুদ্রের গভীর দিয়ে হাজার হাজার কিলোমিটার অতিক্রম করে উপকূলীয় লক্ষ্যবস্তু বা নৌঘাঁটিতে আঘাত হানতে পারে।

ক্রেমলিন জানিয়েছে, এসব অস্ত্র কোনো দেশের বিরুদ্ধে হুমকি হিসেবে নয়, বরং রাশিয়ার দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন কর্মসূচির অংশ। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “রাশিয়া কারও প্রতি হুমকি নয়; অন্যান্য পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মতোই নিজেদের নিরাপত্তা ও কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষায় এসব উন্নয়ন ঘটানো হচ্ছে।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব অস্ত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মোকাবিলায় নিজেদের সক্ষমতা প্রদর্শন করছে এবং একই সঙ্গে প্রমাণ দিচ্ছে যে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা তাদের প্রযুক্তিগত অগ্রগতিকে থামাতে পারেনি।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর