ইরান অবরোধ ঘিরে উত্তেজনা, মার্কিন যুদ্ধজাহাজে মেরিনদের তীব্র সামরিক প্রশিক্ষণ

ইরান অবরোধ কার্যকরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে মেরিনদের তীব্র সামরিক প্রশিক্ষণ, ১২২ বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন নিয়ে বাড়ছে আঞ্চলিক উত্তেজনা।

ইরান অবরোধ ঘিরে উত্তেজনা, মার্কিন যুদ্ধজাহাজে মেরিনদের তীব্র সামরিক প্রশিক্ষণ

ইরান অবরোধ ঘিরে উত্তেজনা, মার্কিন যুদ্ধজাহাজে মেরিনদের তীব্র সামরিক প্রশিক্ষণ


ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে আঞ্চলিক জলসীমায় মার্কিন নৌবাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আরব সাগরে অবস্থানরত মার্কিন উভচর হামলা জাহাজ ইউএসএস বক্সার-এ ১১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের সদস্যরা সামরিক প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছেন।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) ২৫ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের বন্দরমুখী ও ইরান থেকে বের হওয়া সামুদ্রিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ কার্যক্রমের আওতায় এখন পর্যন্ত ১২২টি বাণিজ্যিক নৌযানের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে। 

সেন্টকম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানিয়েছে, ইউএসএস বক্সারে থাকা ১১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের সদস্যরা আঞ্চলিক জলসীমায় প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। একই সময়ে জাহাজটি ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ কার্যকরে সহায়তা করছে। 

মার্কিন নৌবাহিনীর প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী, ইউএসএস বক্সার বর্তমানে আরব সাগরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। জাহাজটির সঙ্গে ইউএসএস কমস্টক, ইউএসএস পোর্টল্যান্ড এবং ১১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট রয়েছে। 

উভচর হামলা জাহাজ হিসেবে ইউএসএস বক্সার মেরিন সদস্যদের দ্রুত মোতায়েন, সমুদ্রভিত্তিক অভিযান এবং বিভিন্ন ধরনের সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হয়। ফলে এ ধরনের জাহাজে মেরিনদের প্রশিক্ষণ আঞ্চলিক সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

সেন্টকমের হিসাবে, ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ১২২টি বাণিজ্যিক নৌযানকে তাদের নির্ধারিত পথ থেকে সরিয়ে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এসব পদক্ষেপ ইরানের বন্দরমুখী এবং ইরান থেকে বের হওয়া সামুদ্রিক চলাচলের ওপর অবরোধ কার্যকর করার অংশ। 

মার্কিন কর্তৃপক্ষ এর আগে জানিয়েছিল, অবরোধ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জুনে সেন্টকম জানায়, ইরানের খার্গ দ্বীপের দিকে যাচ্ছিল এমন একটি তেলবাহী জাহাজকে সতর্কবার্তা অমান্য করার পর মার্কিন বাহিনী অচল করে দেয়। 

তবে ১২২টি জাহাজের প্রতিটির নাম, পতাকাবাহী দেশ, নির্দিষ্ট রুট এবং কোন পরিস্থিতিতে তাদের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে, সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ্যে দেওয়া হয়নি।

ইরানকে ঘিরে সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলোতে সামরিক নজরদারি ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ এই অঞ্চলে অবস্থান করছে এবং ইউএসএস বক্সারকে ঘিরে থাকা বাহিনীও সামুদ্রিক কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে। 

এই পরিস্থিতিতে মেরিনদের প্রশিক্ষণের মধ্যে সমুদ্রভিত্তিক অভিযান, জাহাজে নিরাপত্তা কার্যক্রম এবং সম্ভাব্য সামুদ্রিক হস্তক্ষেপের জন্য প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সামরিক তৎপরতার পাশাপাশি ইরান কূটনৈতিক পথেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাত দিনের একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই প্রস্তাবের মধ্যে সংঘাত বন্ধ করা এবং সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয় রয়েছে। 

ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সামরিক চাপ, অবরোধ বা হুমকির মাধ্যমে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ কার্যক্রমকে সামুদ্রিক চলাচল নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে চালিয়ে যাচ্ছে। 

ফলে একদিকে আরব সাগর ও আশপাশের জলসীমায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ও প্রশিক্ষণ অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে সংঘাত কমানোর উদ্যোগও চলছে। বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল, জ্বালানি সরবরাহ এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর এর প্রভাব আন্তর্জাতিকভাবে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। 

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর