১২৬ বছরের সব রেকর্ড ভেঙে জাপানে তীব্র বৃষ্টিপাত নাগোয়া শহর পানির নিচে

রেকর্ড ভাঙা ভারী বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়ে স্থবির হয়ে পড়েছে নাগোয়া শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা জলজটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সেখানকার অধিবাসীরা

১২৬ বছরের সব রেকর্ড ভেঙে জাপানে তীব্র বৃষ্টিপাত নাগোয়া শহর পানির নিচে

১২৬ বছরের সব রেকর্ড ভেঙে জাপানে তীব্র বৃষ্টিপাত নাগোয়া শহর পানির নিচে


জাপানে সাম্প্রতিক সময়ের অভূতপূর্ব ভারী বর্ষণে স্মরণকালের তীব্র জলাবদ্ধতা ও বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। ঐতিহাসিক আবহাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে দেখা গেছে, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশটির প্রায় ১২৬ বছরের বৃষ্টিপাতের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে গেছে। বিশেষ করে দেশটির অন্যতম প্রধান শিল্প ও বাণিজ্য কেন্দ্র নাগোয়া শহরের বড় একটি অংশ পানির নিচে তলিয়ে গেছে।  


দেশটির জাতীয় আবহাওয়া দপ্তরের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, স্থানীয় একটি শক্তিশালী ক্রান্তীয় নিম্নচাপ এবং টাইফুনের যৌথ প্রভাবে মধ্য জাপানের ওপর বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে একটানা এই রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ১৮৯৮ সালে প্রাতিষ্ঠানিক ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে আবহাওয়া সম্পর্কিত তথ্য ও উপাত্ত সংরক্ষণ শুরু করার পর থেকে এত অল্প সময়ে এ ধরনের টানা বর্ষণ আগে কখনো দেখা যায়নি। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের সুদূরপ্রসারী ও ক্ষতিকর প্রভাবের কারণেই বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতা হঠাৎ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অঞ্চলটিতে এই অস্বাভাবিক ও অতিমাত্রার বৃষ্টিপাতের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

 
বৃষ্টির প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আইচি অঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র নাগোয়া শহর। জলপ্রপাতের মতো অবিরত ঝরা বৃষ্টিতে শহরের ড্রেনেজ ও জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা এক প্রকার ভেঙে পড়েছে। শহরের প্রধান সড়ক, ভূগর্ভস্থ যাতায়াত পথ, শপিং মল এবং আবাসিক এলাকার নিম্নঞ্চলগুলো কয়েক ফুটের বেশি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সড়কগুলোতে গণপরিবহনসহ শত শত যানবাহন আটকা পড়েছে এবং শহরের ব্যস্ততম সড়ক ব্যবস্থা পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।  


জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলো ইতোমধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে শহরের প্লাবিত এলাকাগুলোতে দ্রুত তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। বহু মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং অনেক বহুতল ভবনের নিচতলায় আটকা পড়া বাসিন্দাদের কাছে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে। তবে ক্রমাগত পানির উচ্চতা বাড়তে থাকায় অনেক এলাকায় উদ্ধার কাজ পরিচালনা করতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।  
যানবাহন চলাচলের পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও বিশাল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুতগতির ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি বিমানবন্দরে বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণ স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় প্রশাসন সাধারণ জনগণকে একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার জন্য এবং ভূমিধসের আশঙ্কায় থাকা পাহাড়ি অঞ্চল থেকে সবাইকে সরে যাওয়ার জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে।  


আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, আগামী কয়েকদিন দেশের কিছু কিছু জায়গায় এই ধারায় আরও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। শহরের জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে পাম্পের মাধ্যমে পানি সেচের কাজ দ্রুত চালানো হচ্ছে, তবে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সমুদ্রে পানি নামতে সময় লাগছে। সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো ধরনের বড় ঝুঁকি মোকাবিলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।  
উপকূলীয় ও নিচু এলাকার জনগণকে স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সার্বিকভাবে রেকর্ড পরিমাণ এই অতিবর্ষণে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি সামাল দেওয়াই এখন স্থানীয় সরকার ও উদ্ধারকারী বাহিনীর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর