জাতিসংঘে পেজেশকিয়ানের বক্তব্য শুরুতেই মার্কিন কর্মকর্তার সম্মেলন কক্ষ ত্যাগ

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বক্তব্য শুরু করতেই মার্কিন প্রতিনিধি দলের কর্মকর্তা কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান।

জাতিসংঘে পেজেশকিয়ানের বক্তব্য শুরুতেই মার্কিন কর্মকর্তার সম্মেলন কক্ষ ত্যাগ

জাতিসংঘে পেজেশকিয়ানের বক্তব্য শুরুতেই মার্কিন কর্মকর্তার সম্মেলন কক্ষ ত্যাগ


জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে বিশ্বনেতাদের বক্তব্য চলাকালে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন ও উত্তেজনার এক স্পষ্ট চিত্র ফুটে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দীর্ঘদিনের বিরোধের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা। জাতিসংঘ অধিবেশনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যখন তার ভাষণ শুরু করেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই মার্কিন প্রতিনিধি দলের এক সদস্যকে সম্মেলন কক্ষ ত্যাগ করতে দেখা যায়। এই ঘটনাটি সেখানে উপস্থিত বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং বিশ্ব রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। 


 
অধিবেশনের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মঞ্চে উঠে ভাষণ দেওয়া শুরু করতেই ডেস্কে অবস্থানরত মার্কিন প্রতিনিধি দলের ওই সদস্য নিজের নথিপত্র ও ব্রিফকেস গুটিয়ে নেন। এরপর তিনি চশমা খুলে টেবিল থেকে উঠে দাঁড়িয়ে ধীরগতিতে অধিবেশন কক্ষের বাইরের দিকে হেঁটে যান।  
ইরানের প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের মূল বিষয়বস্তু ছিল পশ্চিমা বিশ্বের বৈষম্যমূলক নীতি, কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাবের তীব্র সমালোচনা। পেজেশকিয়ান তার ভাষণে শুরুতেই উল্লেখ করেন যে, তার দেশ দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক অন্যায় ও সন্ত্রাসবাদের শিকার হয়ে আসছে। তিনি বিশ্বমঞ্চে বলেন, ইরান কখনোই কোনো সংঘাত বা যুদ্ধ চায় না, তবে দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষায় তারা সব সময় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকবে।  


প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যের সূচনালগ্নেই মার্কিন কর্মকর্তার কক্ষ ত্যাগ করার বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া বা কূটনৈতিক প্রতিবাদ হিসেবে দেখছেন। বিশ্বমঞ্চে কোনো দেশের নীতি বা বক্তব্যের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে সম্মেলন বয়কট করা বা সভা ত্যাগ করা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে অত্যন্ত পরিচিত একটি কৌশল। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যকার ঐতিহাসিক শত্রুতা, পারমাণবিক চুক্তি সম্পর্কিত মতপার্থক্য এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে মার্কিন প্রশাসন এমন অবস্থান গ্রহণ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।  


ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি ছিল জাতিসংঘের এই বার্ষিক সাধারণ সভার দিকে। এমন এক সময়ে এই রাজনৈতিক ঘটনাটি ঘটল যখন পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল রূপ ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই দৃশ্যটি বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির কঠিন বাস্তবতাকে আবারও স্পষ্ট করে তুলে ধরেছে।


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর