আইফোন ব্যবহারকারীদের বিপুল পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে অ্যাপল সংস্থা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বৈশিষ্ট্যের বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনের অভিযোগে গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল সংস্থা।

আইফোন ব্যবহারকারীদের বিপুল পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে অ্যাপল সংস্থা

আইফোন ব্যবহারকারীদের বিপুল পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে অ্যাপল সংস্থা


বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি সংস্থা অ্যাপল তাদের জনপ্রিয় মোবাইল ফোন আইফোনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত ফিচারের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন দেওয়ার অভিযোগে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গ্রাহকদের দায়ের করা একটি সমষ্টিগত মামলার প্রেক্ষিতে ২৫ কোটি মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা আনুমানিক তিন হাজার কোটি টাকা) প্রদান করে মামলা নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি। এই সিদ্ধান্তের ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেনা নির্দিষ্ট আইফোন মডেলের ব্যবহারকারীরা ক্ষতিপূরণের অর্থের অংশ পাওয়ার জন্য আবেদনের সুযোগ পাচ্ছেন।  
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, সংস্থাটি তাদের স্মার্টফোনে ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিভিত্তিক ভার্চুয়াল সহকারী সিরির বিভিন্ন অত্যাধুনিক সক্ষমতা নিয়ে প্রচারণা চালিয়েছিল। ওই বিজ্ঞাপনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যেসব অভিনব ও উন্নত ফিচারের কথা তুলে ধরা হয়েছিল, বাস্তবে অনেক ফোনের ভেতরেই সেসব ফিচার চালু ছিল না। ভোক্তাদের অভিযোগ, বিজ্ঞাপনের সেই প্রতিশ্রুতি এবং চমকপ্রদ কার্যকারিতা দেখে প্ররোচিত হয়েই তারা চড়া দামে আইফোনের নতুন মডেলগুলো কিনেছিলেন। পরবর্তীতে তারা লক্ষ্য করেন যে বিজ্ঞাপিত অনেক সুবিধাই ফোনে উপস্থিত নেই বা সঠিকভাবে কাজ করছে না। এর ফলেই তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন দাবি করে আদালতের দ্বারস্থ হন।  


আইনি জটিলতা ও দীর্ঘমেয়াদী বিচারপ্রক্রিয়া এড়াতে অ্যাপল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে আদালত ও গ্রাহকদের সাথে ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তির চুক্তিতে পৌঁছেছে। চুক্তি অনুযায়ী, অ্যাপল সংস্থা একটি নির্ধারিত তহবিল গঠন করবে, যেখান থেকে যোগ্য আবেদনকারী গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষতিপূরণের অর্থ বণ্টন করা হবে।  
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এই ক্ষতিপূরণ সুবিধা নির্দিষ্ট কিছু শর্তের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হবে। প্রথমত, ২০২৪ সালের ১০ জুন থেকে ২০২৫ সালের ২৯ মার্চের মধ্যে যেসব গ্রাহক সরাসরি নতুন আইফোন ক্রয় করেছেন, কেবল তারাই এই সুবিধার আওতাভুক্ত হবেন। যে সকল মডেলের ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে সেগুলো হলো—আইফোন ১৬ সিরিজের সমস্ত মডেল, আইফোন ১৫ প্রো এবং আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স।  


দ্বিতীয়ত, ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ক্ষেত্রে ক্রেতাকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট আইফোনের মূল বা প্রথম মালিক হতে হবে। পরবর্তীতে কেনা সেকেন্ডহ্যান্ড বা ব্যবহৃত ফোনের মালিকরা এই সুবিধার আওতায় পড়বেন না। পাশাপাশি, ফোনটি বাণিজ্যিক বা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের বদলে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য কেনা হতে হবে।  
আবেদন প্রক্রিয়ার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে চলতি বছরের ২১ সেপ্টেম্বর থেকে যোগ্য গ্রাহকদের আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। আগ্রহী ব্যবহারকারীরা আগামী ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তাদের ক্ষতিপূরণের দাবি জমা দিতে পারবেন। নির্দিষ্ট সময়ের পর আর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। এই সময়ের মধ্যে ব্যবহারকারীরা চাইলে নিজেদের নাম মামলা থেকে প্রত্যাহারও করে নিতে পারেন। 


 
ক্ষতিপূরণের পরিমাণের ক্ষেত্রে জানানো হয়েছে যে, যোগ্য প্রমাণিত হওয়া প্রতিটি ডিভাইসের বিপরীতে গ্রাহকরা ২৫ মার্কিন ডলার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৯৫ মার্কিন ডলার পর্যন্ত অর্থ পেতে পারেন। তবে একজন ব্যক্তি শেষ পর্যন্ত কত টাকা ক্ষতিপূরণ পাবেন, তা নির্ভর করবে মোট কতজন যোগ্য গ্রাহক শেষ পর্যন্ত সফলভাবে নিজেদের দাবি বা আবেদন জমা দিচ্ছেন তার ওপর। যদি আবেদনের সংখ্যা বেশি হয় তবে জনপ্রতি প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ কমে আসবে, আর আবেদনের সংখ্যা কম হলে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ বাড়ানো হতে পারে।  


বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি নিয়ে বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে, এই ঘটনা তারই একটি বড় উদাহরণ। অনেক সময় বাজার দখলের প্রতিযোগিতায় নেমে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পণ্যের সক্ষমতা সম্পর্কে অতিরিক্ত বা অবাস্তব তথ্য প্রচার করে থাকে। কিন্তু অ্যাপলের এই মামলা নিষ্পত্তি এবং বিপুল ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি গ্রাহকদের সচেতনতা বৃদ্ধি করবে এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে সত্য তথ্য প্রচারে বাধ্য করবে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর