জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মঞ্চে বিশ্বনেতাদের ঐতিহাসিক দশটি উক্তি নিয়ে বিশেষ কুইজ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিভিন্ন সময়ে বিশ্বনেতাদের দেওয়া স্মরণীয় বক্তব্য ও ঐতিহাসিক উক্তি নিয়ে বিশেষ এই কুইজ প্রকাশ করা হয়েছে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মঞ্চে বিশ্বনেতাদের ঐতিহাসিক দশটি উক্তি নিয়ে বিশেষ কুইজ

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মঞ্চে বিশ্বনেতাদের ঐতিহাসিক দশটি উক্তি নিয়ে বিশেষ কুইজ


জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে বিশ্বনেতাদের মিলনমেলা কেবল বর্তমান বিশ্বের বৈশ্বিক সংকট ও কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু নয়, বরং এটি ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় মুহূর্তের নীরব সাক্ষী। ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা যখন নিউ ইয়র্কের এই ঐতিহাসিক মঞ্চে ভাষণ দিতে ওঠেন, তখন তাদের মুখ থেকে নিঃসৃত প্রতিটি শব্দ বৈশ্বিক রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলে। শীতল যুদ্ধের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় থেকে শুরু করে আধুনিক যুদ্ধের মধ্যে বিশ্বশান্তির আকুল আবেদন—সবকিছুরই পুনরাবৃত্তি ঘটেছে এই পবিত্র মঞ্চে। বৈশ্বিক কূটনীতির সেই স্মরণীয় অধ্যায়গুলোকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিতে কাতারভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা একটি ব্যতিক্রমী কুইজ আয়োজন করেছে।  


ঐতিহাসিক এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন সময় চরম প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রপ্রধানরা যেমন প্রতিপক্ষকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তেমনি বহু মহান নেতা শান্তি ও ঐক্যের পক্ষে বলিষ্ঠ বার্তা দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এমন একটি স্থান যেখানে ছোট বা বড়—সব দেশের নেতাই সমান গুরুত্বের সাথে নিজেদের অবস্থান বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে পারেন। দশকের পর দশক ধরে এই অধিবেশনে দেওয়া বক্তৃতাগুলো কেবল সেই সময়ের আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি প্রকাশ করেনি, বরং ভবিষ্যতের বৈশ্বিক রাজনীতির গতিপথও নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছে। 

 
আল জাজিরার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বিশ্ব রাজনীতির প্রভাবশালী ও চর্চিত নেতাদের ছবি যুক্ত করা হয়েছে। এতে ফুটে উঠেছে দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, লিবিয়ার প্রয়াত শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি, ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট উগো চাভেজ, ইউক্রেনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং বলিভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের মতো ব্যক্তিত্বদের মুখচিত্র। এই নেতাদের প্রতিটি বক্তব্যই তৎকালীন সময়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে আলোচিত ও সমালোচিত হয়েছিল।  


উদাহরণস্বরূপ, শীতল যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি কিংবা আধুনিক সময়ের যেকোনো যুদ্ধ ও সংঘাতের মধ্যে রাষ্ট্রপ্রধানদের দেওয়া আকুল আবেদন বিশ্ববাসীকে নাড়া দিয়েছে। বিশ্বনেতাদের বলা বিভিন্ন বিস্ফোরক ও কূটনৈতিক উক্তিকে কেন্দ্র করে পাঠকদের সাধারণ জ্ঞান যাচাইয়ের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে এই আয়োজনে। ১০টি প্রশ্নের এই কুইজে একটি নির্দিষ্ট বিখ্যাত উক্তি তুলে ধরা হয় এবং পাঠকদের বলতে বলা হয় যে, বক্তব্যটি কোন নেতা এই সাধারণ পরিষদের মঞ্চ থেকে প্রদান করেছিলেন।  
কূটনৈতিক ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভাষণগুলো শুধুই আনুষ্ঠানিক আলোচনার বিষয় নয়। এগুলোর সাথে জড়িয়ে থাকে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের ভাগ্য ও ভূ-রাজনীতির গভীর হিসেব-নিকেশ। কখনো কোনো নেতা পরিবেশ রক্ষার বার্তা নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন, আবার কখনো ক্ষমতার দাপট কিংবা যুদ্ধের বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছেন। ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, জাতিসংঘের মঞ্চে নেতাদের মুখ থেকে বের হওয়া একটি একক বাক্যও বিশ্ব রাজনীতির দৃশ্যপট রাতারাতি বদলে দিতে সক্ষম হয়েছে।  


প্রতি বছর যখন নিউ ইয়র্কে আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনের পর্দা ওঠে, তখন কেবল সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরাই নন, বরং পুরো পৃথিবীর সাধারণ মানুষ আগ্রহ নিয়ে নজর রাখেন সেই মঞ্চের দিকে। বিভিন্ন মত ও পথের নেতারা যখন সেখানে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন, তখন বিশ্ব জুড়ে চলে তার চুলচেরা বিশ্লেষণ। আল জাজিরার এই ইন্টারেক্টিভ কুইজটি মূলত নতুন প্রজন্ম ও সংবাদ পাঠকদের জাতিসংঘের ইতিহাস এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সম্পর্কে আরো সচেতন ও আগ্রহী করে তোলার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তরুণ সমাজ খুব সহজেই অতীত ও বর্তমান বিশ্বনেতাদের কূটনৈতিক বক্তব্য সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করতে পারবে।  
পরিশেষে বলা যায়, জাতিসংঘের মঞ্চ থেকে উচ্চারিত কথাগুলো কেবল ইতিহাসের পাতায় বা আর্কাইভেই জমা হয়ে থাকে না, বরং তা যুগের পর যুগ মানুষের মনে দাগ কেটে থাকে। সাধারণ পরিষদের এই বাৎসরিক সম্মিলন মূলত গোটা বিশ্বকে এক ছাতার নিচে এনে বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলার পথ উন্মোচন করে এবং ইতিহাস কীভাবে বারবার নতুন রূপে ফিরে আসে তা স্মরণ করিয়ে দেয়।


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর