গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে, নতুন নিরাপত্তা চুক্তি

গ্রিনল্যান্ডে বাড়ছে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি! নতুন নিরাপত্তা চুক্তির আওতায় আরও দুটি এলাকায় মার্কিন সামরিক স্থাপনা চালুর পরিকল্পনা—আর্কটিক নিরাপত্তায় বাড়ছে ওয়াশিংটনের তৎপরতা।

গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে, নতুন নিরাপত্তা চুক্তি

গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে, নতুন নিরাপত্তা চুক্তি


গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে একটি নতুন নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সামরিক উপস্থিতির পাশাপাশি আরও দুটি এলাকায় সামরিক স্থাপনা চালুর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ডে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সামরিক স্থাপনা হলো পিতুফিক মহাকাশ ঘাঁটি। নতুন ব্যবস্থার আওতায় দক্ষিণ গ্রিনল্যান্ডের নারসারসুয়াক এলাকায় সাবেক মার্কিন সামরিক ঘাঁটি পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পূর্ব গ্রিনল্যান্ডের মেস্টারসভিগ এলাকাতেও নতুন মার্কিন সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলার কথা রয়েছে।

নারসারসুয়াকে একসময় ‘ব্লুই ওয়েস্ট ওয়ান’ নামে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হতো। শীতল যুদ্ধের সময় সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো ছিল। অন্যদিকে মেস্টারসভিগ বর্তমানে ডেনমার্কের বিশেষ বাহিনীর স্লেজ কুকুর টহল ইউনিটের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত।

ডেনমার্কের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং ন্যাটোর বৃহত্তর নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এর লক্ষ্য হিসেবে আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

তবে এই চুক্তির অর্থ গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া নয়। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড জানিয়েছে, নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে সম্মান করবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য বলেছেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ থাকবে। তবে ডেনমার্ক ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে একইভাবে ব্যাখ্যা করেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

ফলে এটি ১৯৫১ সালের যুক্তরাষ্ট্র-ডেনমার্ক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে কী ধরনের পরিবর্তন আনবে কিংবা গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের সুনির্দিষ্ট আইনগত সীমা কী হবে, তা এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।

গ্রিনল্যান্ড আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের অত্যন্ত কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে। শীতল যুদ্ধের সময় সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি সামরিক স্থাপনা এবং ১০ হাজারের বেশি সেনা ছিল। বর্তমানে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সক্রিয় ঘাঁটি হলো পিতুফিক মহাকাশ ঘাঁটি। নতুন চুক্তি কার্যকর হলে শীতল যুদ্ধের পর গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক অবকাঠামোর এটি হবে অন্যতম বড় সম্প্রসারণ।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর