যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের স্বস্তি, চার বছরের থাকার নতুন নিয়ম আটকে দিল আদালত

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের বড় স্বস্তি, চার বছরের থাকার নতুন নিয়ম আপাতত আটকে দিল আদালত; বহাল থাকছে ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস ব্যবস্থা।

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের স্বস্তি, চার বছরের থাকার নতুন নিয়ম আটকে দিল আদালত

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের স্বস্তি, চার বছরের থাকার নতুন নিয়ম আটকে দিল আদালত


যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করা এবং ভবিষ্যতে দেশটিতে উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তির খবর এসেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের মেয়াদ সর্বোচ্চ চার বছরে সীমিত করার নতুন বিধি কার্যকর হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তা আটকে দিয়েছেন ম্যাসাচুসেটসের একটি ফেডারেল বিচারক। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ বা ডি/এস ব্যবস্থা আপাতত বহাল থাকছে। 

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করা দরকার—এটি সরাসরি এফ-১ ভিসার মেয়াদ চার বছরে সীমিত করার নিয়ম নয়। বরং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর এফ-১ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, জে-১ এক্সচেঞ্জ ভিজিটর এবং আই শ্রেণির বিদেশি গণমাধ্যম প্রতিনিধির বৈধ অবস্থানের সময়সীমা নির্দিষ্ট করার নিয়ম ছিল। ভিসা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের নথি; আর ‘স্ট্যাটাস’ হলো দেশটিতে প্রবেশের পর কতদিন এবং কোন শর্তে বৈধভাবে থাকা যাবে, তার আইনি ভিত্তি।

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বা ডিএইচএস গত জুলাইয়ে নতুন বিধি চূড়ান্ত করেছিল। সেটি ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। নতুন ব্যবস্থায় অধিকাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীকে সর্বোচ্চ চার বছরের নির্দিষ্ট সময় দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হতো। কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা চার বছরের বেশি চললে তাঁকে অতিরিক্ত সময়ের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে হতো। 

কিন্তু ১৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস জেলার ফেডারেল আদালতের বিচারক এফ. ডেনিস সেলার চতুর্থ নতুন বিধির বাস্তবায়নের ওপর দেশব্যাপী প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা দেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, মামলার নিষ্পত্তি বা আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত ডিএইচএস ও যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট নতুন নিয়মটি কার্যকর করতে পারবে না। 

ফলে বর্তমানে এফ-১ ও জে-১ শ্রেণির ক্ষেত্রে পুরোনো ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ ব্যবস্থাই কার্যকর রয়েছে। এই ব্যবস্থায় কোনো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী তাঁর অনুমোদিত শিক্ষাক্রমে নিয়ম মেনে অধ্যয়ন করলে কেবল চার বছর পার হওয়ার কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হয় না। তিনি তাঁর শিক্ষাক্রমের বৈধ সময়সীমা অনুযায়ী অবস্থান করতে পারেন। 

এই নীতি প্রায় পাঁচ দশক ধরে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ১৯৭৯ সাল থেকে শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট মেয়াদের পরিবর্তে পড়াশোনার মেয়াদ অনুযায়ী থাকার সুযোগ দেওয়া শুরু হয়। পরে ১৯৯১ সালে জে-১ এক্সচেঞ্জ ভিজিটরদের ক্ষেত্রেও অনুরূপ ব্যবস্থা সম্প্রসারিত হয়। 

ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন বিধি কার্যকর হলে শুধু চার বছরের নির্দিষ্ট সীমাই আসত না; আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও নতুন বিধিনিষেধ তৈরি হতো। একই সঙ্গে মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন, পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর কিছু সময়সীমা এবং অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং বা ওপিটি-সংক্রান্ত প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন আসত। আদালতের আদেশের কারণে এসব পরিবর্তনও আপাতত কার্যকর হচ্ছে না। 

নতুন বিধি নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাক্রমে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে। যুক্তরাষ্ট্রে অনেক পিএইচডি কর্মসূচি চার বছরের বেশি সময় ধরে চলে। চিকিৎসকদের কিছু প্রশিক্ষণ ও জে-১ কর্মসূচিও দীর্ঘ হতে পারে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী চার বছর শেষে আলাদা করে মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদন প্রয়োজন হলে গবেষণা ও পড়াশোনায় অনিশ্চয়তা বাড়বে বলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আদালতে যুক্তি দিয়েছিল। 

এ নিয়মের বিরুদ্ধে গত ১৮ আগস্ট আটটি শিক্ষা, শ্রমিক ও পেশাজীবী সংগঠন ফেডারেল আদালতে মামলা করে। মামলাকারীদের মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক শিক্ষা নিয়ে কাজ করা নাফসা, প্রেসিডেন্টস অ্যালায়েন্স অন হায়ার এডুকেশন অ্যান্ড ইমিগ্রেশন, অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিপেনডেন্ট কলেজেস অ্যান্ড ইউনিভার্সিটিজ ইন ম্যাসাচুসেটস, আমেরিকান ফেডারেশন অব টিচার্স এবং কয়েকটি শ্রমিক সংগঠন। তারা নতুন বিধিটি বাতিল এবং কার্যকর হওয়ার আগেই স্থগিত করার আবেদন জানায়। 

বিচারক সেলার তাঁর ৪৮ পৃষ্ঠার আদেশে বলেন, নতুন নিয়ম তৈরির সময় সরকার জনসাধারণের দেওয়া মন্তব্য যথাযথভাবে বিবেচনা করেছে কি না এবং বিকল্প ব্যবস্থা যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করেছে কি না তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে চার বছরের নির্দিষ্ট সময়সীমার যৌক্তিক সম্পর্ক নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। 

ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি ছিল, নির্দিষ্ট সময়সীমা চালু করলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অন্য অস্থায়ী ভিসাধারীদের ওপর নজরদারি আরও কার্যকর হবে এবং মেয়াদ বাড়ানোর সময় সরকার তাদের যোগ্যতা পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ পাবে। ডিএইচএস নতুন বিধিকে অভিবাসন ব্যবস্থায় অধিক জবাবদিহি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করেছিল।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর