রাতের খাবার খেয়ে একে একে অচেতন ১০ পুলিশ, রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত
রাতের খাবার খেয়েই একে একে অচেতন ১০ পুলিশ, হাসপাতালে ভর্তি; খাবারে কী ছিল তা জানতে শুরু হয়েছে তদন্ত।
রাতের খাবার খেয়ে একে একে অচেতন ১০ পুলিশ, রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানাধীন পাটিকাবাড়ী পুলিশ ক্যাম্পে রাতের খাবার খাওয়ার পর ১০ পুলিশ সদস্য অচেতন হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাঁদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, ঘটনার রাতে ক্যাম্পে অন্তত ১২ জন পুলিশ সদস্য ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১০ জন বিভিন্ন সময়ে রাতের খাবার খান। খাবারের তালিকায় ছিল সাদা ভাত, মুরগির মাংস ও সবজি। খাবার খাওয়ার পর তাঁদের শরীরে ঝিমুনি ও অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দেয়। একপর্যায়ে তাঁরা অচেতন হয়ে পড়েন।
পরে রাতের বিভিন্ন সময়ে তাঁদের কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। কয়েকটি প্রতিবেদনে রাত সাড়ে ৩টার দিকে তাঁদের উদ্ধারের কথা বলা হয়েছে। অসুস্থদের মধ্যে ক্যাম্পের ইনচার্জসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্য রয়েছেন।
হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আক্রান্ত পুলিশ সদস্যরা আশঙ্কামুক্ত। প্রাথমিকভাবে খাদ্যে বিষক্রিয়া বা অন্য কোনো উপাদানের কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে নিশ্চিত কারণ জানতে পরীক্ষা ও তদন্ত চলছে। একটি প্রতিবেদনে হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আনোয়ারুল কবীরের বরাতে বলা হয়েছে, লক্ষণ দেখে চেতনানাশক জাতীয় কোনো উপাদান থাকার সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে, যদিও ঠিক কী ছিল তা তখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার পর কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম পাটিকাবাড়ী পুলিশ ক্যাম্প ও হাসপাতালে যান। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার পুলিশও ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। খাবারে কোনো ক্ষতিকর উপাদান ছিল কি না এবং কীভাবে একই সঙ্গে এতজন পুলিশ সদস্য অসুস্থ হলেন—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ক্যাম্পে দীর্ঘদিন ধরে রান্নার কাজে যুক্ত এক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন তথ্য এসেছে। প্রথম আলো ও আজকের পত্রিকা তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের কথা জানিয়েছে; তবে আমার দেশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ তাঁকে আটক বা হেফাজতে নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছে। তাই বিষয়টি নিশ্চিত তথ্য হিসেবে না বলাই সমীচীন।
ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। ফলে ‘খাবারে চেতনানাশক মেশানো হয়েছিল’ এমন সিদ্ধান্ত এখনই নিশ্চিতভাবে দেওয়া যাচ্ছে না; তদন্ত ও পরীক্ষার ফলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।