রুশ দুই ধনকুবেরকে নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় দিতে চায় ইইউ, আপত্তি ইউক্রেনের

ইইউর নিষেধাজ্ঞা থেকে দুই রুশ ধনকুবেরকে বাদ দেওয়ার উদ্যোগে আপত্তি জানিয়েছে ইউক্রেন। দেশটির দাবি, এতে রাশিয়ার কাছে ভুল বার্তা যেতে পারে এবং মস্কোর ওপর চাপ কমার আশঙ্কা রয়েছে।

রুশ দুই ধনকুবেরকে নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় দিতে চায় ইইউ, আপত্তি ইউক্রেনের

রুশ দুই ধনকুবেরকে নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় দিতে চায় ইইউ, আপত্তি ইউক্রেনের


ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রিই সিবিহা ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে রাশিয়ার দুই ধনকুবের আলিশের উসমানভ ও মিখাইল ফ্রিডম্যানকে বাদ দেওয়ার উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি এই পদক্ষেপকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করে সতর্ক করেছেন, এর মাধ্যমে মস্কোর কাছে ভুল বার্তা যেতে পারে।

সোমবার দেওয়া এক বক্তব্যে সিবিহা বলেন, উসমানভ ও ফ্রিডম্যানকে রাশিয়ার ইউক্রেনবিরোধী আগ্রাসনের পর নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছিল। তাঁর প্রশ্ন, এই দুই ব্যক্তির অবস্থান বা পরিস্থিতিতে এমন কী পরিবর্তন ঘটেছে যে এখন তাদের নিষেধাজ্ঞা থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সিবিহার দাবি, বাস্তবে এমন কোনো পরিবর্তন ঘটেনি এবং রাশিয়ার ওপর চাপ কমানোর পরিবর্তে তা আরও বাড়ানো উচিত।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যদেশগুলোর রাষ্ট্রদূতরা উসমানভ ও ফ্রিডম্যানকে নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে সরানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। তবে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগে সদস্যদেশগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে হবে। একই সময়ে প্রায় ৩ হাজার রুশ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা আরও তিন বছরের জন্য বাড়ানোর বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।

আলিশের উসমানভ রাশিয়ার অন্যতম পরিচিত ধনকুবের এবং মিখাইল ফ্রিডম্যানও দেশটির অন্যতম শীর্ষ ব্যবসায়ী। ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করার পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর আওতায় ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং ইউরোপে থাকা সম্পদ জব্দের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

উসমানভ ও ফ্রিডম্যানকে নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যদেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্যও দেখা দিয়েছে। স্লোভাকিয়া দুজনকেই তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেয়। পরে ফ্রান্সও উসমানভকে তালিকা থেকে সরানোর পক্ষে অবস্থান নেয়। এদিকে লুক্সেমবার্গ জানিয়েছে, উসমানভকে বাদ দেওয়া হলে ফ্রিডম্যানকেও তালিকা থেকে সরানো উচিত।

এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সিবিহা ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি রাশিয়ার ওপর চাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পরিবর্তে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তিনি নিষেধাজ্ঞার তালিকা আরও সম্প্রসারণ এবং নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ছয় মাসের পরিবর্তে এক বছর করার পক্ষেও অবস্থান জানিয়েছেন।

ইউক্রেনের আপত্তির মধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার বিরুদ্ধে তাদের নিষেধাজ্ঞা নীতিতে পরিবর্তনের এই উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে উসমানভ ও ফ্রিডম্যানকে নিষেধাজ্ঞা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ইউক্রেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাশিয়া-নীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর