কানাডায় রেজা পাহলভিকে স্বাগত, আইআরজিসি নিয়ে কঠোর বার্তা
কানাডায় রেজা পাহলভির সফর ঘিরে আলোচনায় ইরানের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। মেলিসা ল্যান্টসম্যানের সঙ্গে বৈঠকে আইআরজিসি-সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও নিষেধাজ্ঞার বিষয়ও উঠে এসেছে।
কানাডায় রেজা পাহলভিকে স্বাগত, আইআরজিসি নিয়ে কঠোর বার্তা
ইরানের নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি কানাডা সফরে গিয়ে দেশটির কনজারভেটিভ পার্টির উপনেতা মেলিসা ল্যান্টসম্যানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দেশটির জনগণের স্বাধীনতা এবং কানাডায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকের পর মেলিসা ল্যান্টসম্যান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রেজা পাহলভিকে কানাডায় স্বাগত জানানোর কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পক্ষে এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আলোচনা করাটা তাদের জন্য সম্মানের বিষয়। একই সঙ্গে কানাডা থেকে আইআরজিসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বহিষ্কার এবং তেহরানের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
ল্যান্টসম্যানের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া এবং কানাডার নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি রেজা পাহলভির ইরানের জনগণের স্বাধীনতার জন্য কাজ করার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন এবং তার প্রতি সমর্থনের কথা জানান।
রেজা পাহলভির পক্ষ থেকেও কানাডা সফর ও বৈঠকের বিষয়টি প্রকাশ করা হয়েছে। বৈঠকে তিনি ইরানের জনগণের স্বাধীনতা এবং দেশটিতে ভবিষ্যতে একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি ইরানের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা ও সমর্থনের গুরুত্বও তুলে ধরেছেন।
রেজা পাহলভি ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর ক্ষমতাচ্যুত ইরানের শেষ শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির ছেলে। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ইরানে রাজনৈতিক পরিবর্তন, ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে প্রচার চালিয়ে আসছেন।
তবে রেজা পাহলভির সঙ্গে কানাডার বিরোধী দলের নেতাদের এই বৈঠককে কানাডা সরকারের আনুষ্ঠানিক সমর্থন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কানাডা সরকার এর আগে স্পষ্ট করেছে, তারা ইরানের কোনো নির্দিষ্ট বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকে সমর্থন করে না এবং ইরানের ভবিষ্যৎ দেশটির জনগণেরই নির্ধারণ করা উচিত।
ফলে রেজা পাহলভির কানাডা সফর ও মেলিসা ল্যান্টসম্যানের সঙ্গে বৈঠকটি সত্য হলেও, এটিকে কানাডা সরকারের পক্ষ থেকে রেজা পাহলভিকে ইরানের ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘটনা হিসেবে দেখানো ঠিক হবে না। বৈঠকটি মূলত ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, স্বাধীনতা এবং আইআরজিসি-সংক্রান্ত কানাডার অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনার অংশ।