কোনো হুমকি বা চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না ইরান: পেজেশকিয়ান

যুদ্ধ চায় না তেহরান, তবে কোনো হুমকি ও চাপের কাছে ইরান নতি স্বীকার করবে না: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান।

কোনো হুমকি বা চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না ইরান: পেজেশকিয়ান

কোনো হুমকি বা চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না ইরান: পেজেশকিয়ান


ইরান যুদ্ধ ও সংঘাত চায় না, তবে শক্তি প্রয়োগ, চাপ কিংবা ভয়ভীতি দেখিয়ে দেশটিকে কোনো সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য করা যাবে না—এমন অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেহরানের টানাপোড়েনের মধ্যেই তিনি এই বার্তা দিলেন।

রোববার পেজেশকিয়ান বলেন, যুদ্ধ ও সংঘাত শুধু ইরানের জনগণের জন্য নয়, গোটা বিশ্বের জন্যই ক্ষতিকর। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, বলপ্রয়োগ ও হুমকির কাছে ইরান নতি স্বীকার করবে না। 

ইরানি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, তেহরান শান্তিপূর্ণ সমাধানের সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ করতে চায় না। আলোচনার মাধ্যমে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার সুযোগ থাকলে সেটি কাজে লাগানোর পক্ষে তিনি। তবে প্রতিপক্ষ আলোচনাকে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহারের চেষ্টা করতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। 

পেজেশকিয়ান বলেন, প্রতিপক্ষের ওপর তেহরানের আস্থা নেই, কিন্তু ইরান নিজে যেসব চুক্তি বা অঙ্গীকারে সম্মত হবে, সেগুলো মেনে চলবে। তাঁর বক্তব্যে একদিকে আলোচনার পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত, অন্যদিকে চাপের মুখে অবস্থান পরিবর্তন না করার বার্তা—দুটিই উঠে এসেছে। 

এর আগেও একই ধরনের কঠোর অবস্থান জানিয়েছিলেন পেজেশকিয়ান। সেপ্টেম্বরের শুরুতে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র জুনে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতার প্রতিশ্রুতিতে ফিরে এলে ইরানও তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে। একই সঙ্গে তিনি বলেছিলেন, যুদ্ধ কারও স্বার্থে নয় এবং তেহরান আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোলা রাখতে চায়। 

তবে সামরিক চাপের মুখে ইরানের অবস্থান যে কঠোর থাকবে, সেটিও বারবার বলেছেন পেজেশকিয়ান। ৮ সেপ্টেম্বর তিনি জানান, ইরান যুদ্ধের বিরোধী হলেও হামলার বিরুদ্ধে নিজেদের প্রতিরক্ষা অব্যাহত রাখবে। তাঁর ভাষায়, দেশের জনগণের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রতিরোধ চলবে। 

সাম্প্রতিক বক্তব্যে জাতীয় ঐক্যের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট। গত ১৪ সেপ্টেম্বর তিনি বলেন, দেশের ভেতরে ঐক্য ও সংহতি বজায় থাকলে বাইরের চাপের কাছে ইরান মাথা নত করবে না। একই সঙ্গে প্রতিবেশী ও বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের কথাও বলেন তিনি। 

সব মিলিয়ে পেজেশকিয়ানের সাম্প্রতিক বক্তব্যে তেহরানের দ্বিমুখী কৌশল স্পষ্ট হচ্ছে—একদিকে যুদ্ধ এড়িয়ে কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ ধরে রাখা, অন্যদিকে সামরিক বা রাজনৈতিক চাপের মুখে আত্মসমর্পণ না করার ঘোষণা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চলতে থাকায় এই অবস্থান আগামী দিনের কূটনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। 

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর