ইমরান খানের তিন বোনই আটক, ৩০ দিনের জন্য কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে বড় কর্মসূচির আগে তিন বোন আটক, ৩০ দিনের জন্য কোট লাখপত কারাগারে পাঠাল পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ।

ইমরান খানের তিন বোনই আটক, ৩০ দিনের জন্য কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

ইমরান খানের তিন বোনই আটক, ৩০ দিনের জন্য কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ


পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের তিন বোনকে আটক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ সোমবার ডা. উজমা খান ও নওরীন নিয়াজিকে আটকের পর লাহোরের কোট লাখপত কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর একদিন আগে তাঁদের আরেক বোন আলিমা খানকেও আটক করা হয়। 

লাহোরের ডেপুটি কমিশনারের কার্যালয়ের আদেশ অনুযায়ী, উজমা খান ও নওরীন নিয়াজিকে পাঞ্জাব মেইনটেন্যান্স অব পাবলিক অর্ডার অধ্যাদেশ, ১৯৬০-এর আওতায় ৩০ দিনের জন্য আটক রাখা হবে। কর্তৃপক্ষের দাবি, তাঁদের কর্মকাণ্ড জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। 

সরকারি আদেশে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, উজমা ও নওরীন ২০২৩ সালের ৯ মে-র বিক্ষোভের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন এবং কর্মীদের সরকারি ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করতে উৎসাহিত করেছিলেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনসমাবেশের মাধ্যমে তাঁরা আবারও কর্মীদের সংগঠিত করছেন বলে কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে। এগুলো সরকারি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, আদালতে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। 

এর আগে আলিমা খানকেও একই আইনের অধীনে ৩০ দিনের জন্য আটকের নির্দেশ দেওয়া হয়। ফলে বর্তমানে ইমরান খানের তিন বোন—আলিমা খান, ডা. উজমা খান ও নওরীন নিয়াজি—তিনজনই আটক রয়েছেন বলে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। 

ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন পিটিআই আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী বিক্ষোভ এবং ইসলামাবাদ অভিমুখে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। দলটি কারাবন্দি ইমরান খানের মুক্তি এবং সংবিধানের সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার দাবিতে এই কর্মসূচি আহ্বান করেছে। 

পিটিআই কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে। দলটির দাবি, এসব আটক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন। অন্যদিকে সরকারি আদেশে আটকের কারণ হিসেবে জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। ফলে দুই পক্ষের বক্তব্যে ঘটনার ব্যাখ্যা নিয়ে স্পষ্ট মতপার্থক্য রয়েছে। 

ইমরান খানের ছেলে কাসিম খানও তাঁর ফুফুদের আটকের সমালোচনা করেছেন। পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গওহর আলী খান বলেছেন, দলের নেতা-কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের আটক করলে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। 

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর