তাহাজ্জুদের সময় বাংলাদেশি তরুণকে হত্যা, মৃত্যুদণ্ড চায় প্রসিকিউশন
টেনেসিতে দোকানে কর্মরত বাংলাদেশি তরুণ মোহসিন শাহেদ রানা গুলিতে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে প্রসিকিউশন। তবে মামলাটির বিচার এখনো চলছে।
তাহাজ্জুদের সময় বাংলাদেশি তরুণকে হত্যা, মৃত্যুদণ্ড চায় প্রসিকিউশন
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের বেলস শহরে কর্মরত বাংলাদেশি তরুণ মোহসিন শাহেদ রানা গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে প্রসিকিউশন। গত ২৩ আগস্ট ভোরে বেলস শহরের হাইওয়ে ৪১২ এলাকায় অবস্থিত সাফারি কর্নার মার্কেটে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনার পর অভিযুক্ত কোরি উইলিয়াম ডগলাস হুগেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৩ আগস্ট ভোরে দোকানে কর্মরত অবস্থায় মোহসিনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। ভোররাতে একজন ব্যক্তি দোকানে প্রবেশ করে তাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান এবং জরুরি নম্বরে খবর দেন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবার ও স্বজনদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় মোহসিন তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করছিলেন বলে জানানো হয়েছে। তবে এই তথ্যটি পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসেছে। মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগে হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ হিসেবে ডাকাতির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তের পর কোরি উইলিয়াম ডগলাস হুগের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। ক্রকেট কাউন্টি গ্র্যান্ড জুরি তার বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রির পূর্বপরিকল্পিত হত্যা, অপরাধ সংঘটনের সময় প্রথম-ডিগ্রির হত্যা, বিশেষভাবে গুরুতর ডাকাতি এবং আগ্নেয়াস্ত্র-সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে।
২৬ আগস্ট টেনেসির ২৮তম জুডিশিয়াল ডিস্ট্রিক্টের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জেনারেল ফ্রেডরিক এইজি জানান, মোহসিন হত্যা মামলায় প্রসিকিউশন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড চাওয়ার নোটিশ দিয়েছে। তবে এর অর্থ আদালত ইতোমধ্যে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে—এমন নয়। মামলাটি এখনো বিচারাধীন এবং চূড়ান্ত সাজা আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ার পর নির্ধারিত হবে।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মোহসিন টেনেসিতে কাজ করে বাংলাদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের সহায়তা করতেন। তার মরদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে নেওয়া এবং পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য একটি তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। তার আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজন ও পরিচিতদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এদিকে মামলার বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে যাচ্ছে। অভিযুক্ত কোরি হুগের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। প্রসিকিউশনের মৃত্যুদণ্ড চাওয়ার সিদ্ধান্তের পর এখন আদালতের পরবর্তী কার্যক্রম ও বিচারপ্রক্রিয়ার দিকে নজর রয়েছে।