ক্যারিবীয় সাগরে সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌযানে মার্কিন হামলা, নিহত চার জন

ক্যারিবীয় সাগরে মাদক পাচারে ব্যবহৃত সন্দেহে একটি নৌযানে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী, অভিযানে চার ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ক্যারিবীয় সাগরে সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌযানে মার্কিন হামলা, নিহত চার জন

ক্যারিবীয় সাগরে সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌযানে মার্কিন হামলা, নিহত চার জন


ক্যারিবীয় সাগরে মাদক পাচারে ব্যবহৃত হচ্ছে—এমন সন্দেহে একটি নৌযানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। শনিবারের ওই হামলায় নৌযানটিতে থাকা চার ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ডের তথ্যের ভিত্তিতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস রোববার ঘটনাটি জানিয়েছে। 

মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, যে এলাকায় নৌযানটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়, সেটি পরিচিত মাদক পাচারপথের মধ্যে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে চলন্ত একটি নৌযানের ছবি এবং পরে বিস্ফোরণের ঝলক দেখা গেছে বলে এপি জানিয়েছে। তবে নৌযানটিতে সত্যিই মাদক বহন করা হচ্ছিল—এমন সরাসরি প্রমাণ মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রকাশ করেনি। 

কারণ ট্রাম্প প্রশাসন গত প্রায় এক বছর ধরে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে। এপির হিসাবে, সর্বশেষ ঘটনাসহ এ ধরনের ৬৯টি সামরিক হামলায় অন্তত ২৩১ জন নিহত হয়েছেন। 

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মাদক কারবারে যুক্ত কিছু গোষ্ঠীকে ‘নারকো-টেররিস্ট’ হিসেবে বর্ণনা করছে। ট্রাম্প বলেছেন, লাতিন আমেরিকার কার্টেলগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ‘সশস্ত্র সংঘাতে’ রয়েছে। প্রশাসনের যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রে মাদকের প্রবাহ এবং অতিরিক্ত মাদক গ্রহণজনিত মৃত্যু কমাতে প্রচলিত আইন প্রয়োগের পাশাপাশি আরও কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন।

তবে এসব প্রাণঘাতী অভিযানের বৈধতা ও প্রমাণ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এপি জানিয়েছে, অধিকাংশ নৌযান হামলার ক্ষেত্রেই মার্কিন প্রশাসন লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তিরা মাদক পাচার করছিলেন—এমন বিস্তারিত প্রমাণ প্রকাশ্যে দেয়নি। সর্বশেষ হামলার ক্ষেত্রেও নৌযানটিতে মাদক থাকার প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। 

অভিযানের পরিধি সমুদ্র থেকে স্থলভাগেও বিস্তৃত করার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গত মাসে পানামা সফরের সময় জানিয়েছিলেন, কয়েকটি আঞ্চলিক দেশের সঙ্গে অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। তবে গুয়াতেমালা এমন কোনো সমঝোতার কথা অস্বীকার করেছে। ইকুয়েডর মার্চ থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ ধরনের যৌথ অভিযান শুরু করেছে বলে এপি জানিয়েছে। 

ফলে শনিবারের হামলা শুধু একটি সন্দেহভাজন নৌযান ধ্বংসের ঘটনা হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। এটি লাতিন আমেরিকায় মাদকবিরোধী অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের অংশ এবং এ ধরনের অভিযানের আইনি ভিত্তি, প্রমাণ ও প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে বিতর্কও অব্যাহত রয়েছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর