যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ বিধি কার্যকর গ্রিন কার্ড নিয়ে উদ্বেগ ঠেকাতে আদালতে নিউইয়র্ক

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ বিধি কার্যকর গ্রিন কার্ড ও ভিসা নিয়ে অভিবাসীদের উদ্বেগ ঠেকাতে আদালতে গেল নিউইয়র্কসহ বিরোধীরা।

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ বিধি কার্যকর গ্রিন কার্ড নিয়ে উদ্বেগ ঠেকাতে আদালতে নিউইয়র্ক

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ বিধি কার্যকর গ্রিন কার্ড নিয়ে উদ্বেগ ঠেকাতে আদালতে নিউইয়র্ক


যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের গ্রিন কার্ড ও নির্দিষ্ট ভিসার আবেদন যাচাইয়ে নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ বিধি ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় অভিবাসন কর্মকর্তারা কোনো আবেদনকারী ভবিষ্যতে সরকারের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না, তা নির্ধারণে আগের তুলনায় বিস্তৃত বিবেচনার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে কোনো একটি সরকারি সুবিধা গ্রহণ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড প্রত্যাখ্যাত হবে—বিষয়টি এমন নয়। কর্মকর্তাদের আবেদনকারীর সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করার কথা রয়েছে।

নতুন বিধি কার্যকর হওয়ার আগেই এটি ঠেকাতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে নিউইয়র্কসহ একাধিক অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকার। নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের নেতৃত্বে ২১টি অন্য অঙ্গরাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে। একই বিধির বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির নেতৃত্বে শিকাগো, সান ফ্রান্সিসকো, সিয়াটলসহ কয়েকটি স্থানীয় সরকার পৃথক আইনি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। 

নতুন ব্যবস্থায় অভিবাসন কর্মকর্তারা আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক অবস্থা, আর্থিক সামর্থ্য, শিক্ষা ও দক্ষতার মতো বিষয় বিবেচনা করতে পারবেন। পাশাপাশি আয়ভিত্তিক কিছু সরকারি সুবিধার জন্য আবেদন বা সেগুলো গ্রহণের বিষয়টিও বৃহত্তর মূল্যায়নের অংশ হতে পারে। 

এই পরিবর্তন নিয়ে অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরির অন্যতম কারণ হলো, কোন পরিস্থিতি একজন আবেদনকারীর বিরুদ্ধে কতটা প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা। নিউইয়র্কের মামলাকারীদের দাবি, বিধিটি কর্মকর্তাদের অত্যন্ত বিস্তৃত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে এবং বৈধ সরকারি সহায়তা নেওয়া পরিবারগুলোও এর ফলে প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ থেকে পিছিয়ে যেতে পারে। এগুলো মামলাকারীদের অভিযোগ; আদালত এখনো এসব দাবির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করেনি। 

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন নীতির পক্ষে বলছে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের ‘স্বনির্ভরতা’র নীতিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করছে। প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি চাওয়া ব্যক্তিদের নিজেদের আর্থিকভাবে টিকিয়ে রাখার সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য হওয়া উচিত এবং সরকারি সুবিধা অভিবাসনের প্রণোদনা হওয়া উচিত নয়। 

বিধিটির বিরোধীরা অবশ্য বলছেন, এর প্রভাব শুধু সরাসরি গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। বিশেষ করে একই পরিবারের সদস্যদের অভিবাসন মর্যাদা ভিন্ন হলে—যেমন মা-বাবা অভিবাসী কিন্তু সন্তান মার্কিন নাগরিক—সরকারি স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্যসহায়তা বা অন্যান্য সুবিধা নেওয়া নিয়ে পরিবারগুলো দ্বিধায় পড়তে পারে বলে তাদের আশঙ্কা। 

নিউইয়র্ক সিটির অভিবাসনবিষয়ক দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শরণার্থী, আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তিসহ কিছু শ্রেণির মানুষের ক্ষেত্রে ‘পাবলিক চার্জ’ বিধি প্রযোজ্য নয়। ফলে নিজের অভিবাসন অবস্থার ওপর প্রভাব পড়বে ভেবে হঠাৎ সরকারি সুবিধা বন্ধ করার আগে যোগ্য আইনজীবী বা স্বীকৃত অভিবাসন সহায়তাকারীর পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নিউইয়র্কের কর্মকর্তারা ও অধিকারকর্মীরা। 

এখন নতুন বিধির ভবিষ্যৎ অনেকটাই আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। মামলাকারীরা বিধিটি বাতিল বা কার্যকারিতা বন্ধের আবেদন করেছে। আইনি লড়াই চললেও ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর