গালিবাফের বড় বার্তা: যুদ্ধের পাশাপাশি কূটনীতির পথও খোলা রাখবে ইরান
যুদ্ধের ময়দানে লড়াই চলবে, একই সঙ্গে খোলা থাকবে আলোচনার দরজাও—গালিবাফের বার্তা। ইরানের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলার পরিকল্পনা নেই তেহরানের।
গালিবাফের বড় বার্তা: যুদ্ধের পাশাপাশি কূটনীতির পথও খোলা রাখবে ইরান
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মাদ বাগের গালিবাফ বলেছেন, যুদ্ধ ও কূটনীতিকে পরস্পরের বিকল্প হিসেবে দেখছে না তেহরান। তার মতে, প্রয়োজন অনুযায়ী সামরিক প্রতিরোধ চালানোর পাশাপাশি উপযুক্ত সময়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও অব্যাহত রাখতে হবে। ২০ সেপ্টেম্বর পার্লামেন্টের অধিবেশনের শুরুতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ অবস্থান তুলে ধরেন।
গালিবাফ বলেন, সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করে ইরান প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জিত হলে কূটনৈতিক উপায়ে সেই সুবিধাগুলোকে আরও সুসংহত করার চেষ্টা করবে। তার বক্তব্যে তিনি যুদ্ধ ও আলোচনার মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার পরিবর্তে দুই পথই পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবহারের কথা বলেন।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার আরও জানান, তেহরানের অবস্থান ও শর্তগুলো মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সামরিক সংঘাত চললেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগের পথ পুরোপুরি বন্ধ করছে না ইরান। তবে তেহরানের শর্তগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আগের ধরনের আলোচনা বা সমঝোতার পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
হরমুজ প্রণালি নিয়েও গালিবাফের বক্তব্য ছিল কঠোর। তিনি বলেন, ইরানের অধিকার স্বীকৃত হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ পুনরায় খোলার পরিস্থিতি তৈরি হবে না। এর ফলে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের এই অবস্থান এমন সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। একই সময়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে সম্ভাব্য আলোচনার পথও খোলা রাখার চেষ্টা চলছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধ বন্ধ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে শর্ত দেওয়ার কথাও উঠে এসেছে।
ফলে গালিবাফের বক্তব্য থেকে আপাতত যে বিষয়টি স্পষ্ট, তা হলো—তেহরান সামরিক প্রতিরোধ এবং কূটনৈতিক যোগাযোগকে একই কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এসব বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়েছে—এমন তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।