হরমুজ খুললেই কয়েক সপ্তাহে এলএনজি রপ্তানি বাড়াবে কাতার

হরমুজ প্রণালি নিরাপদে খুললে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এলএনজি রপ্তানি বাড়াতে পারবে কাতার। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ১৭ শতাংশ উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি ফিরতে লাগতে পারে কয়েক বছর।

হরমুজ খুললেই কয়েক সপ্তাহে এলএনজি রপ্তানি বাড়াবে কাতার

হরমুজ খুললেই কয়েক সপ্তাহে এলএনজি রপ্তানি বাড়াবে কাতার


হরমুজ প্রণালি আবার নিরাপদ ও স্বাভাবিকভাবে খুলে গেলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ও রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহী সাদ শেরিদা আল-কাবি। রোববার নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত কাতার ইকোনমিক ফোরামের বিশেষ অধিবেশনে তিনি এ কথা জানান।

সাদ আল-কাবির বক্তব্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ হলে কাতার ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়া এলএনজি উৎপাদন স্থাপনাগুলো থেকে দ্রুত উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়াতে পারবে। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে কাতারের এলএনজি উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ ব্যাহত রয়েছে। তবে বাকি সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে সমুদ্রপথ স্বাভাবিক হওয়ার পর তুলনামূলক অল্প সময়ের মধ্যেই রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

কাতারের এলএনজি খাতে সাম্প্রতিক সংকটের বড় কারণ হলো দেশটির গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের অনিশ্চয়তা। কাতারের এলএনজি রপ্তানির জন্য এই সমুদ্রপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে প্রণালিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে শুধু কাতার নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।

তবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রপ্তানি বাড়তে পারলেও কাতারের পুরো এলএনজি উৎপাদন সক্ষমতা আগের অবস্থায় ফিরতে আরও অনেক সময় লাগতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত উৎপাদন সক্ষমতার একটি অংশ পুনরুদ্ধারে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় প্রয়োজন হতে পারে বলে কাতারএনার্জির পক্ষ থেকে আগে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ হরমুজ প্রণালি খুললে সরবরাহ দ্রুত বাড়তে পারে, কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুরোপুরি পুনর্গঠন না হওয়া পর্যন্ত কাতারের এলএনজি উৎপাদন সম্পূর্ণ যুদ্ধপূর্ব পর্যায়ে ফিরবে না।

বিশ্বের অন্যতম বড় এলএনজি রপ্তানিকারক কাতারের সরবরাহের ওপর ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের জ্বালানি বাজার অনেকটাই নির্ভরশীল। তাই হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল পুনরায় নিশ্চিত হলে কাতারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গ্যাস বাজারেও সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।

বাংলাদেশের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কাতার বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলএনজি সরবরাহকারী দেশ। হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কাতার থেকে এলএনজি পরিবহন ও সরবরাহ পুনরায় বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে। এতে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

হরমুজ প্রণালি পুনরায় নিরাপদে খুলে গেলে কাতার কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এলএনজি রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারবে বলে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রী জানিয়েছেন। তবে ক্ষতিগ্রস্ত উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি পুনরুদ্ধারে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। তাই দ্রুত রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব হলেও কাতারের এলএনজি খাত পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময় প্রয়োজন হবে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর