কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ট্রাম্পের নতুন বাহিনী গঠনের ঘোষণা, প্রযুক্তিটির নামও বদলাতে চান

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নাম বদলাতে চান ট্রাম্প, মহাকাশ বাহিনীর আদলে নতুন বিশেষ বাহিনী গঠন ও উচ্চপর্যায়ের সমন্বয়ক নিয়োগের ঘোষণা দিলেন তিনি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ট্রাম্পের নতুন বাহিনী গঠনের ঘোষণা, প্রযুক্তিটির নামও বদলাতে চান

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ট্রাম্পের নতুন বাহিনী গঠনের ঘোষণা, প্রযুক্তিটির নামও বদলাতে চান


কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এ খাতকে কেন্দ্র করে নতুন বিশেষ বাহিনী গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর প্রথম মেয়াদে প্রতিষ্ঠিত মহাকাশ বাহিনীর আদলে নতুন এই বাহিনী গড়ে তোলার কথা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে প্রচলিত ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ নামটিও তাঁর পছন্দ নয় বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া বার্তায় ট্রাম্প বলেন, বর্তমানে ব্যবহৃত ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ নামটি প্রযুক্তিটির প্রকৃত ক্ষমতা যথাযথভাবে প্রকাশ করে না। তাই এর পরিবর্তে তিনি তিনটি বিকল্প নামের প্রস্তাব দিয়েছেন। বাংলায় নামগুলোর অর্থ দাঁড়ায়—‘উন্নততর বুদ্ধিমত্তা’, ‘চরম বুদ্ধিমত্তা’ এবং ‘সর্বোচ্চ বুদ্ধিমত্তা’।

কোন নামটি সবচেয়ে উপযুক্ত হবে, তা জানতে অনুসারীদের মতামতও চেয়েছেন ট্রাম্প। এ জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অনলাইন জরিপের আয়োজন করা হয়েছে।

এর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন একটি বিশেষ বাহিনী গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর প্রথম মেয়াদে প্রতিষ্ঠিত মহাকাশ বাহিনীর ধারণার সঙ্গে নতুন উদ্যোগটির কিছুটা মিল থাকবে।

তবে নতুন বাহিনীটি সরাসরি সামরিক বাহিনীর অংশ হবে, নাকি বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি বিশেষ কার্যদল হিসেবে কাজ করবে—সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

বাহিনীটির সদস্যসংখ্যা, বাজেট, সদর দপ্তর, দায়িত্ব, আইনগত ক্ষমতা কিংবা কোন সরকারি বিভাগের অধীনে এটি পরিচালিত হবে—এসব বিষয়েও ট্রাম্প তাঁর ঘোষণায় বিস্তারিত কিছু বলেননি।

একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক কার্যক্রম তদারকির জন্য শিগগিরই একজন উচ্চপর্যায়ের সমন্বয়ক নিয়োগের কথাও জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ওই কর্মকর্তা সরকারের বিভিন্ন বিভাগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে নেওয়া উদ্যোগগুলোর মধ্যে সমন্বয় করতে পারেন। তবে তাঁর ক্ষমতা ও দায়িত্বের আনুষ্ঠানিক কাঠামো এখনো পরিষ্কার করা হয়নি।

ট্রাম্পের ঘোষণার সবচেয়ে আলোচিত অংশগুলোর একটি হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব। তাঁর মতে, ‘কৃত্রিম’ শব্দটি প্রযুক্তিটির বর্তমান সক্ষমতাকে যথাযথভাবে তুলে ধরে না।

তবে ট্রাম্পের দেওয়া তিনটি বিকল্প নাম এখন পর্যন্ত শুধুই প্রস্তাব। যুক্তরাষ্ট্র সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ শব্দ পরিবর্তনের কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এমন তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

নতুন বিশেষ বাহিনী গঠনের ক্ষেত্রেও আইনগত বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে প্রতিষ্ঠিত মহাকাশ বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর একটি আনুষ্ঠানিক শাখা। সেটি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হয়েছিল।

ফলে নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বাহিনীকেও যদি একই ধরনের স্বতন্ত্র সামরিক বাহিনীতে পরিণত করার পরিকল্পনা থাকে, তাহলে কংগ্রেসের আইনগত অনুমোদনের প্রশ্ন সামনে আসতে পারে। অন্যদিকে এটি যদি বিশেষ কার্যদল বা প্রশাসনিক কাঠামো হিসেবে গঠন করা হয়, তাহলে প্রক্রিয়াটি ভিন্ন হতে পারে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। সামরিক প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, যোগাযোগ, চিকিৎসা, শিক্ষা, উৎপাদন এবং অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সামরিক ও গোয়েন্দা কার্যক্রমে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, তথ্য বিশ্লেষণ এবং স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো নিয়ে দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ চলছে।

একই সঙ্গে শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির অপব্যবহার, ভুয়া তথ্য তৈরি, প্রতারণা, সাইবার হামলা এবং জাতীয় নিরাপত্তার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

ট্রাম্প অবশ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুত অগ্রগতির ওপর জোর দিয়ে আসছেন। তাঁর প্রশাসনের অবস্থান হচ্ছে, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের কারণে যেন মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্ভাবন বাধাগ্রস্ত না হয় এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র পিছিয়ে না পড়ে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর