রিয়াদে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, সফর সংক্ষিপ্ত করে হোয়াইট হাউসে ফিরলেন ট্রাম্প
রিয়াদ লক্ষ্য করে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়েছে, এর মধ্যেই আগেভাগে হোয়াইট হাউসে ফিরেছেন ট্রাম্প।
রিয়াদে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, সফর সংক্ষিপ্ত করে হোয়াইট হাউসে ফিরলেন ট্রাম্প
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুতি বাহিনীর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ভোরে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশেই প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে বলে জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর পর এটিই রিয়াদকে লক্ষ্য করে হুতিদের প্রথম নিশ্চিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা।
হামলার সময় রিয়াদে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছের জ্বালানি সংরক্ষণ এলাকা থেকে কালো ধোঁয়া ও আগুন উঠতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলে একটি জ্বালানি ট্যাংকে আগুন নেভাতে অগ্নিনির্বাপণ কর্মীদের কাজ করতে দেখা গেছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের ঘটনার সঙ্গে ওই আগুনের সরাসরি সম্পর্ক সৌদি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, তারা ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে রিয়াদের কয়েকটি ‘সংবেদনশীল স্থাপনা’ এবং লোহিত সাগরের তীরবর্তী ইয়ানবু শহরে সৌদি আরামকোর স্থাপনা লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছে। তবে তাদের সব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি বলেন, রিয়াদের পাশাপাশি বাইশ, তায়েফ, ফারাসান ও ইয়ানবুতে বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো প্রতিহত করেছে। জোট বলেছে, হুতিদের হামলা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার তারা সংরক্ষণ করে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ম্যারিল্যান্ডের ক্যাম্প ডেভিডে তাঁর অবস্থান নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করে শনিবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসে ফিরে আসেন। তাঁর পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী রোববার ফেরার কথা ছিল। হোয়াইট হাউস সূচি পরিবর্তনের নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করেনি। ফলে রিয়াদের ঘটনা বা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণেই তিনি ফিরেছেন—এমন সরাসরি সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো আনুষ্ঠানিক তথ্য এখনো নেই।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করেছে। নতুন করে হুতি–সৌদি সংঘাত বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে, বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে এবং মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনার নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
হুতিদের সাম্প্রতিক তৎপরতা শুধু সৌদি আরবের নিরাপত্তার জন্য নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও বাণিজ্য ব্যবস্থার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ইয়ানবু সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র। একই সঙ্গে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশের পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সংঘাতে এই অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
সব মিলিয়ে রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা, বিমানবন্দরের কাছে আগুন, অন্যান্য সৌদি শহর লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ এবং ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা সতর্কতা—সবকিছু মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নতুন করে অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। তবে ট্রাম্পের আগাম হোয়াইট হাউসে ফেরার সঙ্গে রিয়াদের হামলার সরাসরি সম্পর্ক এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।