মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ধাতু রপ্তানি পুনরায় শুরু করতে যাচ্ছে চীন

কয়েক মাসের বিরতির পর চীন ঘোষণা করেছে যে তারা যুক্তরাষ্ট্রে ধাতু রপ্তানি পুনরায় শুরু করবে। এতে বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট কমবে এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

PostImage

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ধাতু রপ্তানি পুনরায় শুরু করতে যাচ্ছে চীন


কয়েক মাসের স্থগিতাবস্থার পর চীন ঘোষণা করেছে যে তারা আবারও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ধাতু রপ্তানি শুরু করতে যাচ্ছে। এই সিদ্ধান্তকে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও শিল্পখাতের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সাম্প্রতিক বাণিজ্য আলোচনার সাফল্যের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলকে স্থিতিশীল করা এবং রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান উত্তেজনা প্রশমিত করা।

চীন প্রথম ধাপে অ্যালুমিনিয়াম, তামা ও বিরল মৃত্তিকা ধাতু (Rare Earth Elements)—এর মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্প উপাদান রপ্তানি পুনরায় শুরু করবে বলে জানানো হয়েছে। এসব ধাতু যুক্তরাষ্ট্রের ইলেকট্রনিকস, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য অপরিহার্য।

“আমরা বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের স্বাস্থ্যকর বিকাশে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ,” বলেন চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিউ হেচিং। “এই সিদ্ধান্ত চীনের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতার ইচ্ছাকে প্রতিফলিত করে।”

মার্কিন বাণিজ্য বিভাগও চীনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, এতে আমেরিকান শিল্প খরচ হ্রাস পাবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও গাড়ি উৎপাদন খাতে উপকরণের ঘাটতি অনেকটা কমবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায় উন্মোচন করতে পারে, যা গত কয়েক বছর ধরে শুল্ক, প্রযুক্তি বিরোধ ও কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জর্জরিত ছিল।
“এটি দুই দেশের জন্যই লাভজনক সিদ্ধান্ত,” বলেন গ্লোবাল পলিসি ইনস্টিটিউটের বাণিজ্য বিশ্লেষক ড. লরা জেনকিনস। “চীন তার বাজার পুনরুদ্ধার করছে, আর যুক্তরাষ্ট্র পাচ্ছে টেকসই সরবরাহ উৎস।”

এই ঘোষণার পর লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে ধাতুর বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়— তামা ও অ্যালুমিনিয়ামের দাম প্রায় ৩% হ্রাস পায়, যা বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়।

অর্থনৈতিক মন্দার চাপে থাকা দুই দেশই এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে চায়— চীন রপ্তানি বাড়িয়ে প্রবৃদ্ধি টানতে, আর যুক্তরাষ্ট্র মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও শিল্প খাতকে শক্তিশালী করতে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর