ভারত থেকে কেন দ্রুত ফিরলেন শি জিনপিং? নৈশভোজে ঘিরে জল্পনা, যা জানা গেল
২৪ ঘণ্টাও থাকলেন না ভারতে শি জিনপিং, মোদির নৈশভোজেও ছিলেন অনুপস্থিত; হঠাৎ বিদায় ঘিরে জল্পনা, সামনে এলো নতুন তথ্য
ভারত থেকে কেন দ্রুত ফিরলেন শি জিনপিং? নৈশভোজে ঘিরে জল্পনা, যা জানা গেল
ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে সাত বছর পর ভারত সফরে এসেছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। কিন্তু সফরটি ২৪ ঘণ্টারও কম সময় স্থায়ী হওয়া এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ নৈশভোজে তাঁর অনুপস্থিতি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ও দাবি ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ দাবি করেন, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই ভারত ছেড়েছিলেন চীনা প্রেসিডেন্ট। তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া সরকারি তথ্য সেই দাবিকে সমর্থন করে না।
শি জিনপিং ১২ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন। একই দিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন তিনি। দুই নেতা সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা, ভারত-চীন সম্পর্ক, বাণিজ্য ভারসাম্য, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। ভারতের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে উভয় নেতা মতপার্থক্যকে বিরোধে পরিণত না করার ওপর গুরুত্ব দেন।
কিন্তু ওই দিন রাতে মোদির আয়োজিত ব্রিকস নেতাদের নৈশভোজে শি জিনপিংকে দেখা যায়নি। তাঁর পরিবর্তে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই সেখানে উপস্থিত ছিলেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ অন্য অনেক নেতা নৈশভোজে অংশ নেন।
শি কেন নৈশভোজে গেলেন না, সে বিষয়ে প্রথমদিকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, দীর্ঘ দিনের ব্যস্ত কর্মসূচির পর তিনি বিশ্রাম নিতে হোটেলে ফিরে গিয়েছিলেন।
তবে ১৯ সেপ্টেম্বর ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, শি জিনপিং সেদিন শারীরিকভাবে ভালো বোধ করছিলেন না এবং শেষ মুহূর্তে নৈশভোজে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে তাঁর গুরুতর কোনো অসুস্থতা হয়েছিল—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাঁর অসুস্থতার ধরন সম্পর্কেও চীনা কর্তৃপক্ষ কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
পরদিন ১৩ সেপ্টেম্বর শি ভারত ত্যাগ করেন। তাঁর সফর ২৪ ঘণ্টারও কম সময় স্থায়ী হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি ছড়িয়ে পড়ে যে তিনি নাকি জরুরি পরিস্থিতিতে সফর সংক্ষিপ্ত করে বেইজিং ফিরে গেছেন। আরও গুরুতর কিছু দাবিতে বলা হয়, তিনি সম্মেলনে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন কিংবা মস্তিষ্কে রক্তসঞ্চালনজনিত গুরুতর সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছিলেন।
এসব দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রকাশিত সরকারি সফরসূচির সঙ্গে ১৩ সেপ্টেম্বর তাঁর ভারত ত্যাগের সময় মিলে যায়। ভারত বা চীন—কোনো দেশের সরকারি সূত্রই তাঁর জরুরি চিকিৎসা নেওয়া বা গুরুতর অসুস্থতার খবর নিশ্চিত করেনি।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়া নেতাদের অসুস্থ হয়ে পড়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক দাবিকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। মন্ত্রণালয় এ ধরনের তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে।
সম্মেলনের একটি ঘটনাও জল্পনা বাড়ায়। নরেন্দ্র মোদি বক্তব্য দেওয়ার সময় থেমে শি জিনপিংয়ের দিকে তাকিয়ে তাঁর সবকিছু ঠিক আছে কি না জানতে চেয়েছিলেন বলে ভিডিওতে দেখা যায়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, বিষয়টি শির শারীরিক অবস্থার সঙ্গে নয়, বরং তাঁর অনুবাদ শোনার যন্ত্রের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। চীনা কর্মকর্তারা যন্ত্রটি ঠিক করার পর অনুষ্ঠান স্বাভাবিকভাবেই চলতে থাকে।
এ কারণে বর্তমানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, “অসুস্থ হয়ে শি জিনপিং তড়িঘড়ি ভারত ছেড়েছেন” বলা নিশ্চিত তথ্য নয়। তাঁর নৈশভোজে অনুপস্থিত থাকার পেছনে অসুস্থ বোধ করার তথ্য নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে এসেছে, কিন্তু সেই কারণেই তিনি নির্ধারিত সময়ের আগে ভারত ত্যাগ করেছিলেন—এমন প্রমাণ নেই। বরং তাঁর বিদায়ের সময় পূর্বনির্ধারিত সফরসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।
ফলে ঘটনাটিতে দুটি বিষয় আলাদা রাখা গুরুত্বপূর্ণ—শি জিনপিং নৈশভোজে যাননি এবং তাঁর ভালো না লাগার খবর রয়েছে; কিন্তু গুরুতর অসুস্থতা বা জরুরি চিকিৎসার কারণে ভারত সফর মাঝপথে শেষ করার দাবিটি এখনো প্রমাণিত নয়।