ইরানের যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ছে দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের খরচ

ইরানের যুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি জড়িত নয় দক্ষিণ এশিয়া, তবুও জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে চাপ বাড়ছে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও নেপালের কোটি কোটি মানুষের জীবনে।

ইরানের যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ছে দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের খরচ

ইরানের যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ছে দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের খরচ


ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধের প্রভাব এখন আর শুধু মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চাপ তৈরি হওয়ায় ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও নেপালের সাধারণ মানুষও এর অর্থনৈতিক প্রভাব অনুভব করছেন। চার দেশ মিলিয়ে প্রায় ২০০ কোটি মানুষ এই অঞ্চলে বসবাস করেন।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো জ্বালানির জন্য বিভিন্ন মাত্রায় মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। ভারতের ব্যবহৃত অপরিশোধিত তেলের বড় অংশ আমদানি করতে হয়। পাকিস্তানও তেল, পরিশোধিত জ্বালানি ও এলএনজির জন্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশে স্থানীয় গ্যাস উৎপাদন থাকলেও চাহিদা পূরণে এলএনজি আমদানি করতে হয়। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটলে তার প্রভাব এসব দেশের বাজারেও পৌঁছে যায়।

এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বাড়ছে। পাকিস্তানের করাচির এক গৃহকর্মী জানান, পরিবারের আয় সীমিত হওয়ায় বাড়তি খরচ সামলাতে গিয়ে সন্তানদের স্কুলের ফি দেওয়া বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। খাবার ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচের মধ্যে কোনটি আগে সামলাবেন, সেটিও কঠিন হয়ে উঠেছে।

ভারতের নয়ডায় বসবাসকারী এক নিরাপত্তাকর্মীও জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সংসার চালাতে চাপের কথা জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে সাধারণ মানুষের হতাশা—যুদ্ধের সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পর্ক না থাকলেও এর অর্থনৈতিক চাপ তাঁদেরই বহন করতে হচ্ছে। এই প্রসঙ্গেই প্রতিবেদনের শিরোনামে উঠে এসেছে, “আমার সন্তানরা ইরানে হামলা করেনি।”

বাংলাদেশেও নিম্নআয়ের মানুষের ওপর এর প্রভাব পড়ার কথা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ঢাকার এক গৃহকর্মী জানান, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি অনেক পরিবার খরচ কমাতে গৃহকর্মী রাখাও কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে তাঁর মতো মানুষের কাজের সুযোগ ও আয় দুটিই চাপের মুখে পড়ছে।

নেপালেও জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার প্রভাব সাধারণ মানুষের সংসারে পড়ছে। দেশটি সরাসরি উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি আমদানি না করলেও ভারতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় জ্বালানি পেয়ে থাকে। ফলে ভারতের সরবরাহব্যবস্থা ও দামের পরিবর্তনের প্রভাব নেপালের বাজারেও পৌঁছে যায়।

কোনো যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব শুধু যুদ্ধরত দেশগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। জ্বালানি ও বাণিজ্যপথে অস্থিরতা তৈরি হলে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের দেশগুলোর মানুষও তার প্রভাব অনুভব করতে পারেন। দক্ষিণ এশিয়ার নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে এই বাড়তি ব্যয় খাবার, শিক্ষা, পরিবহন ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর ওপর সরাসরি চাপ তৈরি করছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর