অস্ট্রেলিয়ায় ভয়ংকর ৫০০ কুমিরের নদীতে হবে অলিম্পিক, মিলল অনুমোদনও
কুমিরের নদীতেই হবে ২০৩২ অলিম্পিকের রোয়িং, দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ফিটজরয় নদীকে ভেন্যু হিসেবে অনুমোদন দিল আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি।
অস্ট্রেলিয়ায় ভয়ংকর ৫০০ কুমিরের নদীতে হবে অলিম্পিক, মিলল অনুমোদনও
অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের ফিটজরয় নদীতেই অনুষ্ঠিত হবে ২০৩২ সালের ব্রিসবেন অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিকের রোয়িং ও ক্যানো স্প্রিন্ট প্রতিযোগিতা। কুমিরের আবাস হিসেবে পরিচিত এই নদীকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা, স্রোত ও প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও বিস্তারিত কারিগরি পরীক্ষা শেষে ভেন্যুটির পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার অনুমোদন মিলেছে।
রকহ্যাম্পটন শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ফিটজরয় নদীতে রোয়িং আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাপক আলোচনা চলছিল। নদীটিতে কুমিরের উপস্থিতির পাশাপাশি স্রোত, বন্যার ঝুঁকি এবং প্রতিযোগীদের জন্য সমান পরিবেশ নিশ্চিত করা যাবে কি না—এসব বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন বিভিন্ন দেশের রোয়িং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
এসব উদ্বেগের পর গেমস ইন্ডিপেনডেন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন অথরিটি (GIICA) স্বাধীন কারিগরি মূল্যায়ন করায়। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান WaterProof Marine Consultancy and Services B.V.-এর বিশেষজ্ঞরাও এই মূল্যায়নে যুক্ত ছিলেন।
পরীক্ষায় নদীর তলদেশ ও সম্ভাব্য প্রতিযোগিতা এলাকা জরিপ করা হয়েছে। পাশাপাশি নদীর পানির প্রবাহ, পানির উচ্চতা, বাতাস ও আবহাওয়ার পরিস্থিতি, ঢেউ এবং ফিটজরয় ব্যারাজ কীভাবে কাজ করে—এসব বিষয় বিশ্লেষণ করা হয়। সম্ভাব্য বন্যার ঝুঁকিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে প্রতিযোগিতা আয়োজন করলে নদীর আচরণ কেমন হতে পারে, তা জানতে পানিতে পরীক্ষা ও কম্পিউটারভিত্তিক মডেলিংও করা হয়েছে।
মূল্যায়নের ফল পর্যালোচনা এবং স্থান পরিদর্শনের পর ওয়ার্ল্ড রোয়িং ও প্যাডল ওয়ার্ল্ডওয়াইড ফিটজরয় নদীর কোর্সকে সমর্থন করেছে। তাদের মতে, এখানে অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিকের রোয়িং, প্যারা রোয়িং, ক্যানো স্প্রিন্ট ও প্যারা ক্যানো প্রতিযোগিতার জন্য নিরাপদ, ন্যায্য ও ধারাবাহিক প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব।
ওয়ার্ল্ড রোয়িংয়ের সভাপতি জ্যঁ-ক্রিস্তফ রোলাঁ জানিয়েছেন, বিস্তারিত বিশ্লেষণ থেকে তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে গেমস চলাকালে ফিটজরয় নদীতে অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক রোয়িংয়ের প্রয়োজন অনুযায়ী ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ দেওয়া সম্ভব।
কুমিরের বিষয়টি অবশ্য আলাদা করে আলোচনায় রয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ফিটজরয় নদীকে কুমিরের আবাস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কারিগরি মূল্যায়নের মূল লক্ষ্য ছিল প্রতিযোগিতার কোর্সের উপযোগিতা—বিশেষ করে পানি, স্রোত, বাতাস, আবহাওয়া ও বন্যার ঝুঁকি।
ফিটজরয় নদী একেবারেই নতুন কোনো রোয়িং ভেন্যু নয়। এখানে আগে থেকেই স্কুল পর্যায়ের প্রতিযোগিতা, স্থানীয় রেগাটা এবং জাতীয় দলের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ২০৩২ সালের গেমস সামনে রেখে বিদ্যমান কোর্সের অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা আরও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কুইন্সল্যান্ড সরকার জানিয়েছে, প্রতিযোগিতার জন্য নদী প্রশস্ত করা বা ড্রেজিং করার প্রয়োজন হবে না। ফিটজরয় ব্যারাজ নদীর নিচের জোয়ার-প্রভাবিত লবণাক্ত পানির অংশ থেকে ওপরের মিঠাপানির অংশকে আলাদা করে রাখে। প্রস্তাবিত প্রতিযোগিতার কোর্সটি এই উজানের অংশেই থাকবে।
তবে অনুমোদন পাওয়ার অর্থ এই নয় যে ভেন্যু তৈরির সব প্রস্তুতি শেষ। এখন GIICA বিস্তারিত পরিকল্পনা, নকশা ও নির্মাণের কাজ এগিয়ে নেবে। পাশাপাশি ভেন্যুর প্রয়োজনীয়তা, ঝুঁকি মোকাবিলা এবং ২০৩২ সালের পর অবকাঠামোগুলো কীভাবে স্থানীয় মানুষের কাজে লাগানো যাবে—এসব নিয়েও আরও মূল্যায়ন চলবে।
রকহ্যাম্পটনে অলিম্পিক আয়োজনের সঙ্গে আরও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো আবাসন। ২০৩২ সালে বিপুলসংখ্যক ক্রীড়াবিদ, কর্মকর্তা ও দর্শনার্থী এলে তাদের থাকার জন্য অতিরিক্ত আবাসন ও অন্যান্য অবকাঠামোর প্রয়োজন হবে। কুইন্সল্যান্ড সরকার বলছে, গেমসকে কেন্দ্র করে নতুন বিনিয়োগ, পর্যটন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সেন্ট্রাল কুইন্সল্যান্ডের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুফল তৈরি করতে পারে।
দীর্ঘ বিতর্ক ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ফিটজরয় নদীতে ২০৩২ সালের অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিকের রোয়িং ও ক্যানো প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা এখন পরবর্তী ধাপে যাচ্ছে। তবে কুমির নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ভেন্যুর অবকাঠামো, আবাসন এবং প্রতিযোগিতা পরিচালনার বিস্তারিত প্রস্তুতির কাজ এখনও বাকি রয়েছে।