লস অ্যাঞ্জেলেস ডজার্সের টানা চৌদ্দতম প্লে অফ নিশ্চিত করে নতুন ইতিহাসের মাইলফলক

টানা চৌদ্দ মৌসুম প্লে-অফে উঠে ডজার্স দেখাল পেশাদার বেসবল খেলায় তাদের একক আধিপত্য, যার চোখ এবার টানা শিরোপা জয়ের দিকে

লস অ্যাঞ্জেলেস ডজার্সের টানা চৌদ্দতম প্লে অফ নিশ্চিত করে নতুন ইতিহাসের মাইলফলক

লস অ্যাঞ্জেলেস ডজার্সের টানা চৌদ্দতম প্লে অফ নিশ্চিত করে নতুন ইতিহাসের মাইলফলক


যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ বেসবলে আবারও নিজেদের অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেল লস অ্যাঞ্জেলেস ডজার্স। প্রতিবারের মতো এবারও তারা মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে টানা চতুর্দশবারের মতো কাঙ্ক্ষিত প্লে-অফ পর্ব নিশ্চিত করেছে। সিনসিনাটিতে এক রুদ্ধশ্বাস ও উৎসবমুখর আবহে দলের এই ঐতিহাসিক মাইলফলক উদযাপন করা হয়। তবে এই বিপুল সাফল্য সত্ত্বেও দলের ম্যানেজার ডেভ রবার্টস সতীর্থদের সতর্ক করে দিয়েছেন। কারণ, তার মতে খেলাধুলার জগতে কোনো কিছুই আগে থেকে নিশ্চিত নয় এবং এই জয়ই শেষ কথা নয়। আসল পরীক্ষা এখনও বাকি রয়ে গেছে।


সোমবার রাতে সিনসিনাটিতে ম্যাচ শেষে ডজার্স দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা এক নৈশভোজে একত্রিত হন। সেখানে ম্যানেজার ডেভ রবার্টস দলের সকল সদস্যের উপস্থিতিতে চ্যাম্পেন গ্লাস উঁচিয়ে এক আবেগঘন ও প্রেরণাদায়ক বক্তব্য দেন। টানা চৌদ্দটি মৌসুমে প্লে-অফে ওঠার মতো এক মহিমান্বিত অর্জন উদযাপন করতে গিয়ে তিনি খেলোয়াড়দের মনে করিয়ে দেন যে সাফল্য ধরে রাখা কতটা কঠিন। দুইবারের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের এই দলনেতা বলেন, বেসবল খেলাটি ভীষণ কঠিন এবং এখানে কোনো জয়ই আগে থেকে নিশ্চিত বলা যায় না। শত পরিশ্রম আর অধ্যবসায় দিয়েই কেবল খেলায় জয় ছিনিয়ে আনা সম্ভব হয়। তাই প্লে-অফ নিশ্চিত হওয়া মানেই চূড়ান্ত সাফল্য নয়, বরং চূড়ান্ত লড়াইয়ের সূচনা মাত্র।


পেশাদার খেলায় নিয়মিতভাবে এমন সাফল্য বজায় রাখা প্রায় অসম্ভব এক ব্যাপার। আধুনিক খেলার বাজারে প্রতিবছর দলগুলোর শক্তির বিন্যাস বদলায়, খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে ওঠানামা থাকে এবং ইনজুরির মতো অনাকাঙ্ক্ষিত বাধা আসে। এসব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে টানা ১৪ বছর আমেরিকান বেসবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে টিকে থাকা একটি অসাধারণ পেশাদারিত্বের পরিচয় দেয়। ডজার্সের সমর্থকরা এই সাফল্যে উল্লসিত হলেও দলের মূল লক্ষ্য এখন আরও বড়। টানা তৃতীয়বারের মতো ওয়ার্ল্ড সিরিজ বা চ্যাম্পিয়নশিপ ট্রফি নিজেদের ঘরে তোলাই এখন ডজার্স শিবিরের একমাত্র স্বপ্ন ও ব্রত।


চলতি মৌসুমে ডজার্সের এই যাত্রাপথ কিন্তু খুব সহজ ছিল না। দলের বেশ কয়েকজন তারকা খেলোয়াড় মৌসুমে ইনজুরির কবলে পড়েছিলেন। আবার প্রতিপক্ষ দলগুলোর তীব্র প্রতিযোগিতাও ছিল লক্ষণীয়। তা সত্ত্বেও ডজার্স তাদের কৌশলী খেলা, অসাধারণ দলগত মনোভাব এবং নির্ভীক ব্যাটিং ও পিচিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। দলের তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের চমৎকার সমন্বয়ই এবার তাদের এই অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। মাঠের লড়াইয়ে প্রতিপক্ষকে কোনো সুযোগ না দিয়ে একের পর এক জয়ে তারা পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অবস্থান শক্ত করে নেয়।


ডজার্স ম্যানেজার ডেভ রবার্টস মনে করেন, অতীতের অর্জন নিয়ে সন্তুষ্ট থাকার কোনো সুযোগ নেই। তিনি জানান, খেলোয়াড়দের এখন আরও বেশি মনোযোগী ও সংযমী হতে হবে। কারণ প্লে-অফের লড়াইটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধাঁচের। সাধারণ মৌসুমের পারফরম্যান্স দিয়ে সেখানে বিচার করা যায় না। প্লে-অফে সামান্যতম ভুলও পুরো একটি চমৎকার মৌসুমের সব পরিশ্রমকে এক নিমেষে নস্যাৎ করে দিতে পারে। রবার্টসের বক্তব্য ছিল পরিষ্কার—তাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো শেষ হাসি হাসা এবং ট্রফি উঁচিয়ে ধরা। দলগতভাবে তাদের যে মানসিক ড্রাইভ রয়েছে, তা প্লে-অফের প্রতিটি কঠিন ম্যাচে তাদের জেতার পথ দেখাবে।


সমর্থকদের মধ্যেও এখন উত্তেজনা তুঙ্গে। পুরো ক্যালকাটা ও লস অ্যাঞ্জেলেস জুড়ে ভক্তরা এই জয়ে আনন্দে ভাসছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডজার্সের এই বিরল রেকর্ড নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনুরাগী ও ক্রীড়া বিশ্লেষকরা দলটিকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। তবে সবার নজরে এখন পরবর্তী পর্বের ম্যাচগুলো। প্লে-অফে যদি ডজার্স তাদের বর্তমান ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারে, তবে বেসবলের ইতিহাসে তাদের নাম আরও সুবর্ণ অক্ষরে লেখা থাকবে।
লস অ্যাঞ্জেলেস ডজার্স গত এক দশক ধরে যে ধারাবাহিকতা দেখিয়ে আসছে, তা বিশ্বের যেকোনো পেশাদার ক্রীড়া দলের জন্যই একটি বড় উদাহরণ। বছরের পর বছর নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েও জয়ের একই ক্ষুধা ধরে রাখা সাধারণ কথা নয়। ডজার্সের বর্তমান স্কোয়াডটিতে যে গভীরতা ও দক্ষতা রয়েছে, তাতে তারা আবারো শিরোপা জয়ের প্রবল দাবিদার। মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিয়ে তারা এখন ইতিহাসের পাতায় নিজেদের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করতে প্রস্তুত হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, ডেভ রবার্টসের নির্দেশনায় এই শক্তিশালী ডজার্স বাহিনী প্লে-অফের মঞ্চে কতটা চমক দেখাতে পারে এবং টানা শিরোপা জয়ের মহাকাব্যিক গল্পটি পূর্ণ করতে পারে কি না।


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর