বিতর্কিত অডিও কাণ্ডে ক্যান্টনমেন্ট থানার সদ্য বরখাস্ত ওসি ডিবি হেফাজতে

বিতর্কিত অডিও রেকর্ড ছড়ানোর অভিযোগে ক্যান্টনমেন্ট থানার প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলামকে গোয়েন্দা পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে।

বিতর্কিত অডিও কাণ্ডে ক্যান্টনমেন্ট থানার সদ্য বরখাস্ত ওসি ডিবি হেফাজতে

বিতর্কিত অডিও কাণ্ডে ক্যান্টনমেন্ট থানার সদ্য বরখাস্ত ওসি ডিবি হেফাজতে


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বিতর্কিত কণ্ঠস্বর ও ফোনালাপকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। ওই ফোনালাপের সূত্র ধরে ঢাকা মহানগর পুলিশের ক্যান্টনমেন্ট থানার সদ্য দায়িত্ব সরানো ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলামকে নেওয়া হয়েছে গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নানা গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে।


গোয়েন্দা বিভাগ সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে যে বৃহস্পতিবার রাতের দিকে উক্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে সার্বিক জিজ্ঞাসাবাদের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়। গোয়েন্দা শাখার উচ্চপদস্থ একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বিষয়ের সত্যতা প্রকাশ করেছেন। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কোন বিষয়গুলো উঠে এসেছে বা পরবর্তী সময়ে আইনগত কী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যাবে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।


এর আগে একই দিনে সকালে ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পদ থেকে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশ প্রধানের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা প্রদান করা হয়। তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে মূল কার্যালয়ে সংযুক্ত হিসেবে রাখা হয়েছে। সেখান থেকেই পরবর্তীতে তদন্ত প্রক্রিয়া পরিচালনা করার পরিকল্পনা রয়েছে।


ভাইরাল হওয়া অডিও ক্লিপে কিছু সংবেদনশীল বিষয়ে কথা বলতে শোনা যায়। মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শক্তি, সরকারের বর্তমান অবস্থান এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার বিষয়সমূহ সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই কথোপকথনে পুলিশের সার্বিক কর্মপদ্ধতি ও কার্যক্ষমতা নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করতে দেখা যায়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা চরম দুর্বল অবস্থানে রয়েছে বলেও সেখানে দাবি প্রকাশ পায়। তাছাড়া প্রশাসনিক পদোন্নতি ও বদলির ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের যে অনৈতিক চর্চা রয়েছে, সে বিষয়টির দিকেও অঙ্গুলি নির্দেশ করা হয়েছে ভাইরাল হওয়া সেই অডিওতে।
প্রকাশিত অডিওতে বলা হয় যে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা চরম বিভ্রান্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। একই সাথে বিভিন্ন পদে পদায়নের বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অনাকাঙ্ক্ষিত অভিযোগ নিয়েও অডিওতে কথাবার্তা উপস্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টি জনসমক্ষে আসার পরই সর্বস্তরে তোলপাড় শুরু হয়।


এই আলোচনার জবাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আত্মপক্ষ সমর্থন করে সামাজিক মাধ্যমে একটি বক্তব্য প্রকাশ করেছেন। অডিওর কণ্ঠ নিজের নয় বলে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন তিনি। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা অ্যাডভান্সড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স দ্বারা এটি তৈরি করা হয়েছে বলে তার দাবি। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে কারো হুবহু কণ্ঠ নকল করে বিভ্রান্তি ছড়ানো সম্ভব বলে জানান তিনি। একই সাথে যেকোনো অডিও প্রকাশের পূর্বে নিরপেক্ষ যাচাই-বাছাই ও তথ্যের উৎস নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।


আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা অডিওর সত্যতা নিশ্চিত করতে পূর্ণাঙ্গ প্রযুক্তিগত পরীক্ষা পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটি সত্যিই কৃত্রিম প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি নাকি আসল রেকর্ড, তা খতিয়ে দেখতে কাজ করছেন বিশেষজ্ঞরা। তথ্যপ্রযুক্তির অপরাধ দমন বিভাগ অডিওর পিছনের সঠিক ইতিহাস অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে। তদন্তে যদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের প্রমাণ মেলে তবে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যথা যদি এটি উক্ত কর্মকর্তার নিজের বক্তব্য হিসেবে প্রমাণিত হয়, তবে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


পুলিশ বিভাগের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে এ ধরণের ঘটনাগুলোর সঠিক তদন্ত অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো কোনো অসত্য তথ্য যেন সাধারণ মানুষের মনের মধ্যে দ্বিধা তৈরি করতে না পারে, সেজন্য পুলিশ কর্তৃপক্ষ সোচ্চার রয়েছে। সার্বিক ঘটনাটির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর