হরমুজ দিয়ে জাহাজ পারাপারের অর্থ নেওয়ার অভিযোগে ইরানি ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ পারাপারের অর্থ নেওয়ার অভিযোগে ইরানি ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, চাপে তেহরান।
হরমুজ দিয়ে জাহাজ পারাপারের অর্থ নেওয়ার অভিযোগে ইরানি ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
ইরানের একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা ‘BitBank’ নামের এই ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জটি ইরানের নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত অর্থলগ্নিকারী বাবাক জাঞ্জানির নিয়ন্ত্রণে এবং এটি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ নিরাপদে চলাচলের বিনিময়ে নেওয়া অর্থ প্রক্রিয়াকরণে জড়িত ছিল।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, BitBank-এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে পাওয়া অর্থ বিভিন্ন আর্থিক চ্যানেলে সরানো হয়েছে। এসব অর্থের একটি অংশ ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (IRGC) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কে পৌঁছেছে বলেও অভিযোগ করেছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় BitBank-এর সফটওয়্যার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান Pishtaz Simorgh Electronic Trade Company এবং জাঞ্জানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও তিন ব্যক্তিও রয়েছেন। ওয়াশিংটনের ভাষ্য, এসব প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির মাধ্যমে ইরানের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল।
বাবাক জাঞ্জানি ইরানের বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী ও অর্থলগ্নিকারী। যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছরের জানুয়ারিতে তাঁকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে এবং তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট Zedcex ও Zedxion নামের দুটি ডিজিটাল অ্যাসেট এক্সচেঞ্জের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়। মার্কিন ট্রেজারির অভিযোগ, জাঞ্জানির নেটওয়ার্ক ইরানের রাষ্ট্রীয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য অর্থ স্থানান্তর এবং নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর কাজে ব্যবহৃত হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরানের আর্থিক কর্মকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ অবশ্য নতুন নয়। এর আগে জুলাইয়ে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ অভিযোগ করেছিল, ইরান-সমর্থিত একটি সামুদ্রিক ‘ইনস্যুরেন্স’ ব্যবস্থা হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর কাছ থেকে অর্থ আদায় করছে। ওই ব্যবস্থায় ডিজিটাল অ্যাসেট বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের সুযোগও রাখা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই আর্থিক নেটওয়ার্ক থেকে পাওয়া অর্থ ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে। ওয়াশিংটন এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও নেটওয়ার্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাসের একটি বড় অংশ এই জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। ফলে প্রণালিটিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে কোনো বাধা বা অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা তৈরি হলে তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এর আগে সতর্ক করে বলেছিল, হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারাপারের জন্য ইরানের দাবি করা ‘টোল’ বা অন্যান্য অর্থ পরিশোধ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এসব অর্থ নগদ অর্থ, ডিজিটাল অ্যাসেট বা অন্য কোনো পণ্য ও সেবার বিনিময়েও দেওয়া হলে তা নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসতে পারে বলে জানিয়েছিল ওয়াশিংটন।
নতুন নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র মূলত ইরানের প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে থাকা ডিজিটাল আর্থিক নেটওয়ার্কগুলোকে লক্ষ্য করেছে। ওয়াশিংটনের দাবি, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডিজিটাল অ্যাসেট প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ইরান আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে অর্থ স্থানান্তরের সক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করছে।
তবে ইরান এসব মার্কিন অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে BitBank এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার সীমিত হওয়ার পাশাপাশি তাদের সঙ্গে লেনদেন করা বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও ভবিষ্যতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে সামরিক উত্তেজনা, জাহাজ চলাচল এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগের মধ্যে এই নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অর্থনৈতিক সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করল। বিশেষ করে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আর্থিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ এখন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নীতির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে।