কেশম দ্বীপে মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের, সংঘাত কি আরো বাড়বে?

কেশম দ্বীপের আকাশে মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের, বাড়ছে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হারানোর সংখ্যা বলে জানিয়েছে আইআরজিসি।

কেশম দ্বীপে মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের, সংঘাত কি আরো বাড়বে?

কেশম দ্বীপে মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের, সংঘাত কি আরো বাড়বে?


ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মহাকাশ বাহিনী দাবি করেছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেশম দ্বীপের আকাশে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ‘রিপার’ ড্রোন শনাক্ত করে ভূপাতিত করেছে। ঘটনাটি বুধবার ভোরে ঘটেছে বলে ইরানি সূত্রগুলো জানিয়েছে। 

আইআরজিসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কেশম দ্বীপের ওপর দিয়ে উড্ডয়নরত মার্কিন ড্রোনটি স্থানীয় সময় রাত ২টা ২৯ মিনিটের দিকে শনাক্ত করা হয়। এরপর ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট সেটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে ধ্বংস করে। ইরানি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজও আইআরজিসির বক্তব্যের ভিত্তিতে একই তথ্য প্রকাশ করেছে। 

ইরানের দাবি অনুযায়ী, এটি চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের সময় ধ্বংস হওয়া ৫২তম মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার। তবে ইরানের এই মোট সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত কেশম দ্বীপের এই নির্দিষ্ট ড্রোনটির ক্ষয়ক্ষতি বা ভূপাতিত হওয়ার দাবি প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেনি।

এমকিউ-৯ রিপার যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দূরপাল্লার সশস্ত্র নজরদারি ড্রোন। এটি দীর্ঘ সময় আকাশে অবস্থান করে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি এবং প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে পারে। কেশম দ্বীপের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দ্বীপটি হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি এবং পারস্য উপসাগর থেকে ওমান উপসাগরের দিকে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক অঞ্চলের পাশে অবস্থিত।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের সঙ্গে সংঘাতে মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোনের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হিসাবেও বড় সংখ্যার কথা উঠে এসেছে। মার্কিন সরকারের একটি নজরদারি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে এপি জানিয়েছে, এপ্রিল থেকে জুন ২০২৬ সময়কালে যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ ৩০টি এমকিউ-৯ রিপার হারিয়েছে বা সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই প্রতিবেদনে প্রতিটি ড্রোনের মূল্য প্রায় ৩ কোটি ডলার বলা হয়েছে। 

ওয়াশিংটন পোস্টের আগস্টের প্রতিবেদনে আবার বলা হয়েছিল, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার হারিয়েছে, যা মার্কিন বহরে থাকা এই ধরনের ড্রোনের আনুমানিক এক-চতুর্থাংশের সমান। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ক্ষয়ক্ষতির হিসাবের পার্থক্য রয়েছে, কারণ কোন ড্রোন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং কোনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—সে বিষয়ে হিসাবের পদ্ধতি এক নয়।

ড্রোনের ক্ষয়ক্ষতি বাড়তে থাকায় মার্কিন বিমানবাহিনী এমকিউ-৯ রিপারের উত্তরসূরি হিসেবে আরও সস্তা ও অধিক সংখ্যায় তৈরি করা যায়—এমন নতুন ড্রোন ব্যবস্থা নিয়ে কাজ দ্রুত করার উদ্যোগ নিয়েছে। ডিফেন্স ওয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ম্যাসড মডুলার এয়ারক্রাফট’ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ কোটি ডলারের এয়ারফ্রেমের ধারণা বিবেচনা করা হচ্ছে, যদিও সেন্সর ও অন্যান্য ব্যবস্থার খরচ এতে আলাদা হতে পারে।

কেশম দ্বীপ এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সামরিক উত্তেজনার গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে উঠে এসেছে। চলতি বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, তারা কেশম দ্বীপ ও ইরানের গোরুক এলাকায় রাডার এবং ড্রোন নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র লক্ষ্য করে ‘আত্মরক্ষামূলক’ হামলা চালিয়েছে।

এদিকে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। একই সময়ে ইয়েমেনের হুথি বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত আঞ্চলিক সংঘাতও ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে হরমুজ ও বাব আল-মান্দাব—দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ঘিরেই সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে। 

তবে কেশম দ্বীপে সর্বশেষ এমকিউ-৯ ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় ইরানের দাবি এবং স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য আলাদা করে দেখা জরুরি। বর্তমানে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, আইআরজিসি ড্রোনটি ধ্বংসের দাবি করেছে এবং ইরানি একাধিক সংবাদমাধ্যম সেটি প্রকাশ করেছে; কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই নির্দিষ্ট ঘটনার আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। 

এর ফলে সর্বশেষ ঘটনাটি সত্যিই মার্কিন ড্রোন বহরের ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় যুক্ত হয়েছে কি না, তা নিয়ে আরও মার্কিন সামরিক তথ্য বা স্বাধীন উপগ্রহ/ধ্বংসাবশেষের প্রমাণের অপেক্ষা থাকবে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর