হুতিদের হামলা ঠেকাতে ট্রাম্পের সাহায্য চেয়েছিলেন সৌদি যুবরাজ

সৌদি যুবরাজ ট্রাম্পকে দুইবার ফোন করে হুতিদের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলার অনুরোধ করেছিলেন, তবে ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করেন।

হুতিদের হামলা ঠেকাতে ট্রাম্পের সাহায্য চেয়েছিলেন সৌদি যুবরাজ

হুতিদের হামলা ঠেকাতে ট্রাম্পের সাহায্য চেয়েছিলেন সৌদি যুবরাজ


ইয়েমেনে হুতি বাহিনীর সামরিক অগ্রগতি এবং লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালী ঘিরে বাড়তে থাকা নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়েছিল সৌদি আরব। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দুইবার ফোন করে ইয়েমেনের হুতিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক হামলার অনুরোধ করেছিলেন। তবে ট্রাম্প সেই অনুরোধে সম্মতি দেননি।

সৌদি নেতৃত্বের উদ্বেগের মূল কারণ ইয়েমেনে হুতিদের সাম্প্রতিক সামরিক অগ্রগতি। হুতিরা ইয়েমেনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার পাশাপাশি লোহিত সাগরের উপকূলীয় অঞ্চলেও প্রভাব বাড়িয়েছে। এতে সৌদি আরবের নিরাপত্তা এবং লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাব আল-মান্দাব প্রণালীকে ঘিরে পরিস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগকারী এই সংকীর্ণ জলপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এ পথে কোনো ধরনের বড় ধরনের নিরাপত্তা সংকট তৈরি হলে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার মধ্যে পণ্য পরিবহনে প্রভাব পড়তে পারে। ফলে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ ও সামরিক সক্ষমতা বাড়ার বিষয়টি সৌদি আরবসহ আঞ্চলিক দেশগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি যুবরাজ ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে হুতিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিষয়টি তুলেছিলেন। তবে ট্রাম্প সরাসরি মার্কিন হামলায় যাওয়ার বিষয়ে রাজি হননি। এর পরিবর্তে ওয়াশিংটন সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য এবং সম্ভাব্য লক্ষ্য শনাক্তকরণে সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

এর অর্থ হলো, যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের নিরাপত্তা উদ্বেগকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করছে না। বরং সরাসরি মার্কিন সামরিক অভিযানে না গিয়ে সীমিত সহায়তার মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলার পথ বেছে নেওয়া হচ্ছে। এতে ওয়াশিংটন একদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বজায় রাখছে, অন্যদিকে ইয়েমেনের সংঘাতে নতুন করে সরাসরি জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছে।

এদিকে ইয়েমেন পরিস্থিতি নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও হুতিদের মধ্যে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ওমানের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে যোগাযোগের খবরও সামনে এসেছে। আলোচনার অন্যতম বিষয় হচ্ছে লোহিত সাগর দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও হুতিদের মধ্যে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে চলা।

হুতিদের সামরিক অগ্রগতি শুধু সৌদি আরবের জন্য নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ ইয়েমেনের অবস্থান লোহিত সাগর ও আরব সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের কাছে। সেখানে সংঘাত বাড়লে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল, জ্বালানি পরিবহন এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থার ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর