যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থীদের ভিসা নিয়ম বদলে বাংলাদেশিদের বাড়ল নতুন প্রস্তুতির চাপ

সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর নতুন নিয়মে এফ-১ ও জে-১ শিক্ষার্থীদের অবস্থানের সময়সীমা বদলেছে, বাড়তি সময়ের জন্য নতুন আবেদন লাগতে পারে এখন।

যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থীদের ভিসা নিয়ম বদলে বাংলাদেশিদের বাড়ল নতুন প্রস্তুতির চাপ

যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থীদের ভিসা নিয়ম বদলে বাংলাদেশিদের বাড়ল নতুন প্রস্তুতির চাপ


যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অভিবাসন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে এফ-১ শিক্ষার্থী, জে-১ বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী এবং বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের জন্য দীর্ঘদিনের “অবস্থানের মেয়াদ” কাঠামো পরিবর্তন করে নির্দিষ্ট সময়ের ভর্তি বা অবস্থানের নিয়ম চালু করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার এই পরিবর্তন বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। 

আগের ব্যবস্থায় এফ-১ শিক্ষার্থীরা সাধারণত “অবস্থানের মেয়াদ” বা ডিউরেশন অব স্ট্যাটাসের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারতেন। অর্থাৎ শিক্ষার্থী যতদিন অনুমোদিত শিক্ষা কার্যক্রমের নিয়ম মেনে চলতেন, ততদিন তার অবস্থানের সময় নির্দিষ্ট কোনো সাধারণ মেয়াদে বাঁধা থাকত না। নতুন ব্যবস্থায় এই কাঠামো বদলে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

নতুন নিয়ম অনুযায়ী এফ-১ ও জে-১ শ্রেণির ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভর্তি করা হবে। সাধারণভাবে সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত সময়সীমা প্রযোজ্য হতে পারে, তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বা বিনিময় কর্মসূচির মেয়াদ এবং অন্যান্য নিয়ম বিবেচনায় বিষয়টি নির্ধারিত হবে। চার বছরের হিসাব শিক্ষার্থীর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের দিন থেকে নয়, বরং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কার্যক্রমের শুরুর তারিখ থেকে গণনা করা হবে। 

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এর অর্থ হলো শুধু ভিসার মেয়াদ দেখে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময় হিসাব করা যাবে না। ভিসা, পাসপোর্ট, আই-২০, আই-৯৪ এবং শিক্ষা কার্যক্রমের তথ্য একে অপরের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত, সেটি বুঝে চলা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আরেকটি বড় পরিবর্তন হলো পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার জন্য দেওয়া ছাড়ের সময়। নতুন নিয়মে এফ-১ শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনা শেষ বা নির্ধারিত কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পরের ছাড়ের সময় ৬০ দিন থেকে কমিয়ে ৩০ দিন করা হয়েছে। অর্থাৎ একজন শিক্ষার্থী যদি তার পড়াশোনা বা প্রশিক্ষণ শেষ করেন, তাহলে পরবর্তী বৈধ পদক্ষেপ নেওয়া বা যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। 

এই পরিবর্তন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করার পর চাকরি, উচ্চশিক্ষা, প্রশিক্ষণ বা অন্য বৈধ অভিবাসন অবস্থায় যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। আগে যে সময়সীমা হাতে থাকত, এখন সেটি কমে যাওয়ায় সময় ব্যবস্থাপনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

তবে নতুন নিয়ম মানেই সব শিক্ষার্থীর অবস্থান হঠাৎ শেষ হয়ে যাবে—এমন ধারণা সঠিক নয়। নিয়মে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাড়তি সময়ের আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থীর অনুমোদিত অবস্থানের সময় শেষ হওয়ার আগে তাকে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় অবস্থান বাড়ানোর আবেদন করতে হতে পারে। 

বাড়তি সময়ের আবেদন করতে সাধারণত আই-৫৩৯ নামের আবেদনপত্র ব্যবহারের বিষয়টি নতুন ব্যবস্থায় উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী বা বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারীকে অনুমোদিত অবস্থানের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে প্রয়োজনীয় আবেদন জমা দিতে হবে। 

একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাও নতুন ব্যবস্থায় রয়েছে। কোনো এফ-১ শিক্ষার্থী সময়মতো অবস্থান বাড়ানোর আবেদন করলে এবং আবেদনটি অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকলে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সে পূর্ণকালীন পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে বলে নিয়মের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়েছে। জে-১ অংশগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রেও সময়মতো আবেদন করা অবস্থায় অনুমোদিত প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাওয়ার বিধান রয়েছে।

তবে শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে ব্যবস্থা নেওয়া। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করলে কাগজপত্র প্রস্তুত করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং প্রয়োজনীয় আবেদন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।

বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে পড়তে আসতে চাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্যও বিষয়টি জানা প্রয়োজন। ভিসা পাওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর বৈধ শিক্ষার্থী অবস্থান বজায় রাখা—দুটি আলাদা বিষয়। ভিসা হাতে থাকলেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়ম, আই-২০-এর তথ্য, পূর্ণকালীন পড়াশোনা, অনুমোদিত কাজ এবং অভিবাসন নিয়ম অমান্য করার সুযোগ তৈরি হয় না।

যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিষয়ক সংগঠন ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব ফরেন স্টুডেন্ট অ্যাডভাইজারস বা ন্যাফসা জানিয়েছে, নতুন নিয়ম ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস ব্যবস্থা শেষ করছে। সংগঠনটি এই পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং কংগ্রেসের প্রতি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এটি ন্যাফসার অবস্থান; এটিকে সরকারি সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা হিসেবে নয়, একটি পেশাজীবী সংগঠনের মতামত হিসেবে দেখা উচিত। 

নতুন নিয়ম শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কাজেও পরিবর্তন আনতে পারে। শিক্ষার্থীর অবস্থানের মেয়াদ, বাড়তি সময়ের আবেদন এবং অভিবাসন নথির ব্যবস্থাপনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তরগুলোকে শিক্ষার্থীদের নতুন নিয়ম সম্পর্কে জানাতে হচ্ছে।

বাংলাদেশি অভিভাবকদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। অনেক পরিবার শিক্ষার্থীর পড়াশোনা শেষ হওয়ার সময় এবং চাকরির অনুমতি বা পরবর্তী শিক্ষার পরিকল্পনা নিয়ে আগেই আর্থিক সিদ্ধান্ত নেয়। এখন শিক্ষার্থীর অনুমোদিত অবস্থানের সময় এবং পরবর্তী আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা ছাড়া বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

এখানে আরও একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—শিক্ষার্থীর অভিবাসন অবস্থা কেবল ভিসার স্টিকার দিয়ে নির্ধারিত হয় না। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আই-৯৪, আই-২০ বা ডিএস-২০১৯, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নথি এবং সংশ্লিষ্ট অভিবাসন নিয়ম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো নথিতে সমস্যা থাকলে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তর অথবা যোগ্য অভিবাসন আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।

নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের জন্য কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে নজরে রাখা দরকার। প্রথমত, আই-২০ বা সংশ্লিষ্ট নথির তথ্য সঠিক আছে কি না। দ্বিতীয়ত, শিক্ষা কার্যক্রমের নির্ধারিত শেষ তারিখ। তৃতীয়ত, পড়াশোনা শেষ হলে ৩০ দিনের সময়সীমা কীভাবে প্রযোজ্য হবে। চতুর্থত, বাড়তি সময়ের প্রয়োজন হলে কখন আবেদন করতে হবে। পঞ্চমত, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবর্তন, শিক্ষা কার্যক্রম পরিবর্তন বা অন্য কোনো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আগে অনুমোদন প্রয়োজন কি না।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর