পেনাং বিমানবন্দরের ডাস্টবিনে নবজাতক, কান্না শুনে জীবিত উদ্ধার
পেনাং বিমানবন্দরের স্যানিটারি বিনে জীবিত নবজাতক! কান্নার শব্দ শুনে দ্রুত তাকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তদন্তে নেমেছে মালয়েশিয়ার পুলিশ।
পেনাং বিমানবন্দরের ডাস্টবিনে নবজাতক, কান্না শুনে জীবিত উদ্ধার
মালয়েশিয়ার পেনাং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্যানিটারি বিনের ভেতর থেকে জীবিত এক নবজাতক ছেলেশিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটিকে নীল প্লাস্টিকের ব্যাগ দিয়ে আস্তর করা একটি পাত্রের মধ্যে পাওয়া যায়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটে ৩১ আগস্ট। বিমানবন্দরের প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত একটি টয়লেটে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করার সময় এক কর্মী স্যানিটারি বিনের ভেতর থেকে শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পান। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি পুলিশকে খবর দেন। পরে বিমানবন্দরকর্মীরা শিশুটিকে পাত্রের ভেতর থেকে বের করে নিরাপদে উদ্ধার করেন।
উদ্ধারের সময় শিশুটির নাভির নাড়ি তখনও প্লাসেন্টার সঙ্গে যুক্ত ছিল। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য পেনাং হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণের পর জানানো হয়, নবজাতকটির শারীরিক অবস্থা মোটামুটি ভালো রয়েছে।
ঘটনার পর বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের ধারাবাহিকতায় ২৩ বছর বয়সী এক নারী ও ২২ বছর বয়সী মিয়ানমারের এক নাগরিককে আটক করা হয়েছে। ওই পুরুষ বিমানবন্দরে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। পুলিশ জানিয়েছে, তার বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকার বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে।
তবে আটক দুজনের কেউ শিশুটির বাবা-মা কি না, তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। তাদের সঙ্গে নবজাতকের জৈবিক সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা জানতে ফরেনসিক পরীক্ষা করা হচ্ছে। ফলে শিশুটিকে কে সেখানে রেখে গেছে এবং ঘটনার পেছনে আসল কারণ কী এসব বিষয়ে তদন্ত এখনো চলছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১২ বছরের কম বয়সী শিশুকে পরিত্যাগের অভিযোগে মালয়েশিয়ার দণ্ডবিধির ৩১৭ ধারায় মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এই ধারায় দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের চূড়ান্ত দায় নির্ধারণ করা হয়নি।