ইয়াঙ্কিজের বুলপেনে আসছে নতুন শক্তি, বদলাচ্ছে পিচিং কৌশল
প্লে-অফের আগে বড় চমক! ইয়াঙ্কিজের বুলপেনে যোগ হতে পারে শুরুর পিচারদের নতুন শক্তি, বদলে যেতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দলের পিচিং কৌশল।
ইয়াঙ্কিজের বুলপেনে আসছে নতুন শক্তি, বদলাচ্ছে পিচিং কৌশল
মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসে নিউইয়র্ক ইয়াঙ্কিজ তাদের বুলপেন আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করছে। দীর্ঘ মৌসুমে একের পর এক ম্যাচ খেলায় দলের রিলিফ পিচারদের ওপর চাপ বাড়ছে। সামনে প্লে-অফের লড়াই থাকায় এই চাপ আরও বাড়তে পারে। তাই দলের হাতে থাকা কয়েকজন শুরুর পিচারকে প্রয়োজন অনুযায়ী বুলপেনে ব্যবহার করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ইয়াঙ্কিজের এই পরিকল্পনায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম উইল ওয়ারেন। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে তিনি দলের পিচিং পরিকল্পনায় নিজের গুরুত্ব বাড়িয়েছেন। শেষ কয়েকটি উপস্থিতিতে তিনি খুব কম রান দিয়েছেন এবং প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। ফলে তাকে শুধু নিয়মিত ম্যাচের শুরুতে নয়, প্রয়োজন হলে মাঝের ইনিংসেও ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে।
ওয়ারেনের বিশেষত্ব হলো, তিনি একাধিক ইনিংস ধরে পিচ করতে পারেন। আবার স্বল্প সময়ের জন্য মাঠে নামলে নিজের সর্বোচ্চ শক্তি ব্যবহার করার সুযোগও পান। এই কারণে ইয়াঙ্কিজ চাইলে তাকে এমন একজন পিচার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে, যিনি বুলপেন থেকে এসে একাধিক ইনিংস সামলাবেন এবং দলের মূল রিলিভারদের ওপর চাপ কমাবেন।
শুধু ওয়ারেন নন, তরুণ পিচার কার্লোস লাগ্রাঞ্জকেও ঘিরে ইয়াঙ্কিজ সমর্থকদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। চোট কাটিয়ে তিনি ধীরে ধীরে মাঠে ফেরার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। পুনর্বাসনের পর তিনি আবার ছোট লিগের ম্যাচে পিচিং শুরু করেছেন। সবকিছু পরিকল্পনামতো এগোলে মৌসুমের শেষদিকে তাকে বড় দলের সঙ্গে দেখা যেতে পারে। তাকে সরাসরি নিয়মিত শুরুর পিচার হিসেবে ব্যবহার করা হবে, নাকি বুলপেন থেকে কাজে লাগানো হবে—সেটিই এখন দেখার বিষয়।
ইয়াঙ্কিজ ইতোমধ্যে বুলপেনের শক্তি বাড়াতে অভিজ্ঞ কয়েকজন রিলিভারকেও দলে যুক্ত করেছে। এর ফলে দলের হাতে এখন আগের তুলনায় বেশি বিকল্প রয়েছে। তবে প্লে-অফের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে শুধু নির্দিষ্ট কয়েকজন রিলিভারের ওপর নির্ভর না করে শুরুর পিচারদেরও প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য ভূমিকায় ব্যবহার করা দলের জন্য বড় সুবিধা হতে পারে।
দীর্ঘ চোটের পর ফিরে আসা লুইস গিলকেও বুলপেনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে ব্যবহার করা হচ্ছে। দীর্ঘ বিরতির পর একজন পিচারকে সরাসরি নিয়মিত দায়িত্বে ফেরানোর পরিবর্তে সীমিত ইনিংসে ব্যবহার করা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ কৌশল হতে পারে। তবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তার ওপর কতটা দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা তার পারফরম্যান্স ও শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করবে।
ইয়াঙ্কিজের সামনে এখন মূল লক্ষ্য হলো প্লে-অফের আগে তাদের পিচিং বিভাগকে যতটা সম্ভব গভীর ও কার্যকর করে তোলা। কারণ অক্টোবরের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে শুধু ভালো ব্যাটিং যথেষ্ট নয়; শেষ কয়েকটি ইনিংসে প্রতিপক্ষকে আটকে রাখার মতো শক্তিশালী বুলপেনও প্রয়োজন। সেই জায়গায় শুরুর পিচারদের অতিরিক্ত বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা দলের জন্য বড় কৌশলগত সুবিধা দিতে পারে।
ইয়াঙ্কিজ তাদের সব শুরুর পিচারকে স্থায়ীভাবে বুলপেনে পাঠিয়ে দিচ্ছে। বরং প্রয়োজন অনুযায়ী একই পিচারকে ভিন্ন ভূমিকায় ব্যবহার করার পরিকল্পনাই সামনে আসছে। কোনো ম্যাচে তিনি শুরু করতে পারেন, আবার অন্য ম্যাচে দলের পরিস্থিতি অনুযায়ী মাঝের ইনিংসে বুলপেন থেকে মাঠে নামতে পারেন।
মৌসুমের শেষদিকে নিউইয়র্ক ইয়াঙ্কিজের পিচিং পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। শুরুর পিচারদের অতিরিক্ত বিকল্প হিসেবে ব্যবহার, তরুণ প্রতিভার প্রত্যাবর্তন এবং নতুন রিলিভারদের সংযোজন দলের বুলপেন আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। আর প্লে-অফের টানটান লড়াইয়ে এই বাড়তি পিচিং শক্তিই ইয়াঙ্কিজের জন্য বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।