খেলার মাঠে এলোপাতাড়ি গুলি দুজনের প্রাণহানি থমথমে নিউইয়র্কের ব্রাউনসভিল

নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে পরিচিত শিশুদের খেলার মাঠে রাত ১০টা ২০ মিনিটে এক অস্ত্রধারীর চালানো এলোপাতাড়ি গুলিতে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন দুই ব্যক্তি, যা পুরো ব্রাউনসভিল এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও শোকের ছায়া ফেলেছে।

খেলার মাঠে এলোপাতাড়ি গুলি দুজনের প্রাণহানি থমথমে নিউইয়র্কের ব্রাউনসভিল

খেলার মাঠে এলোপাতাড়ি গুলি দুজনের প্রাণহানি থমথমে নিউইয়র্কের ব্রাউনসভিল


প্রাথমিক তথ্য বিশ্লেষণ ও পুলিশের হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার বিস্তারিত সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। নিউইয়র্কের ব্রাউনসভিল এলাকার মাদার গ্যাস্টন বুলেভার্ড এবং গ্লেনমোর অ্যাভিনিউয়ের সংযোগস্থলে অবস্থিত হাওয়ার্ড প্লেগ্রাউন্ড নামের শিশু উদ্যানটিতে শুক্রবার রাতে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর জরুরি সেবা নম্বরে একের পর এক ফোন আসতে শুরু করলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।  
ঘটনাস্থলে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, গুলিবর্ষণের ঘটনাটি খেলার মাঠের ভেতরের প্রাঙ্গণেই ঘটেছিল। এতে গুরুতর আহত হন দুই পুরুষ নাগরিক। প্রথমজনের বয়স ৩৩ বছর এবং দ্বিতীয়জনের বয়স ৩৫ বছর। ৩৩ বছর বয়সী ব্যক্তির গলায় গুলি লাগে, এবং ৩৫ বছর বয়সী ব্যক্তির বুক ও গোড়ালিতে একাধিক গুলি আঘাত করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তড়িঘড়ি করে তাদের স্থানীয় দুটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসকরা দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ ইতিমধ্যে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করেছে, তারা হলেন ৩৩ বছর বয়সী ডিয়ন মিলার এবং ৩৫ বছর বয়সী অ্যান্টোইন উটসি।  



যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্রাউনসভিল এলাকাটি বরাবরই বেশ জনবহুল এবং সেখানকার বাসিন্দারা রাতের বেলাতেও হালকা চলাচলের জন্য স্থানীয় পার্কগুলোতে সমবেত হন। শুক্রবার রাত দশটার পর হাওয়ার্ড প্লেগ্রাউন্ডের পরিবেশ স্বাভাবিকই ছিল। কিন্তু রাত দশটা বিশ মিনিটের দিকে হঠাৎ করে নির্জনতা চিরে গর্জে ওঠে কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, একটানা কয়েক রাউন্ড গুলির প্রচণ্ড শব্দ শোনার পর আশপাশের ঘরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকট শব্দের পর পার্কের ভেতর থেকে লোকজনকে প্রাণভয়ে ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। গুলির আকস্মিকতায় সেখানে উপস্থিত মানুষজন আত্মরক্ষার জন্য আশেপাশের ভবনের আড়ালে ও গাছের পেছনে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। স্থানীয়দের জরুরি ফোন কলের পর কয়েক মিনিটের মধ্যে পুলিশের টহল গাড়ি এবং জরুরি চিকিৎসা দলের একাধিক গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।  
পুলিশ যখন হাওয়ার্ড প্লেগ্রাউন্ডের ভেতরে প্রবেশ করে, তখন রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে পড়ে থাকতে দেখে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পরপরই তাদের দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে কাছের ইন্টারফেইথ মেডিকেল সেন্টার এবং ব্রুকলিন হেলথ-ব্রুকডেল হাসপাতাল কেন্দ্রে পাঠানো হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা প্রাণপণ চেষ্টা করেও তাদের জীবন রক্ষা করতে পারেননি। হাসপাতালে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের মৃত্যু হয়। 


 
তদন্ত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ
ঘটনার পর পর পুলিশ পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং হাওয়ার্ড প্লেগ্রাউন্ডের চারপাশে হলুদ রঙের নিরাপত্তা ফিতা দিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়। গোয়েন্দা বিভাগের একটি বিশেষ দল অবিলম্বে ঘটনার তদন্ত শুরু করে। উদ্ধার করা হয়েছে বেশ কিছু গুলির খোসা এবং আলামত। এলাকার বিভিন্ন বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে যাতে হামলাকারী ব্যক্তি বা দলের কোনো স্পষ্ট রূপরেখা বের করা সম্ভব হয়।  


আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মুখপাত্রদের তথ্যমতে, ঠিক কী কারণে এই হামলা চালানো হয়েছে কিংবা দুই নিহতের সাথে বন্দুকধারীর কোনো পূর্ব শত্রুতা ছিল কিনা তা এখনো পরিষ্কার নয়। ঘাতক কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়েছিল নাকি এটি কোনো দলগত সংঘাতের ফল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনার পর পর হামলাকারী বা সন্দেহভাজনরা স্থান ত্যাগ করে সটকে পড়ে, তাই এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে অপরাধীকে দ্রুত খুঁজে বের করতে গোয়েন্দা তৎপরতা এবং নিয়মিত টহল অনেক বাড়ানো হয়েছে।  


স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ভয় ও উদ্বেগ
যে মাঠে প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে শিশুরা খেলাধুলা করে এবং স্থানীয় পরিবারের সদস্যরা একটু সতেজ বাতাসের আশায় সময় কাটান, সেই স্থানে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডে পুরো পাড়ায় থমথমে ভাব বিরাজ করছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষ নিজেদের ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। পরিবারের অভিভাবকরা জানান, শিশুদের জন্য নির্ধারিত খেলার মাঠগুলোতে যদি এভাবে রাতের অন্ধকারে অতর্কিত আগ্নেয়াস্ত্র হামলা ঘটে, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপদ থাকার স্থান আর কোথায় অবশিষ্ট থাকে?


শহরের এই অংশটিতে গত কয়েক বছরের মধ্যে এটি অন্যতম একটি রক্তাক্ত ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। স্থানটিকে নিরাপদ রাখতে এবং সহিংসতা প্রতিরোধে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গোয়েন্দারা স্থানীয়দের অনুরোধ করেছেন, ঘটনার সময় কোনো সন্দেহজনক গতিবিধি বা কাউকে পালিয়ে যেতে দেখলে সরাসরি তথ্য দিয়ে পুলিশকে সাহায্য করার জন্য।  


এই দুঃখজনক ঘটনাটি আবারও শহরের গণপরিসর ও শিশুদের খেলার মাঠগুলোতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক নিরাপত্তার প্রশ্নটিকে সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে। বর্তমানে তদন্তকারী দল সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ঘাতককে ধরার জন্য অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর