ব্রিকসের বিশাল শক্তি এবার বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন প্রভাবের পথে

বিশ্বের প্রায় অর্ধেক মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছে ব্রিকস, অর্থনীতিতেও বিশাল শক্তি। এবার সেই শক্তিকে বাস্তব প্রভাবে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ—বিশ্ব অর্থনীতির সমীকরণে কি আসছে বড় পরিবর্তন?

ব্রিকসের বিশাল শক্তি এবার বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন প্রভাবের পথে

ব্রিকসের বিশাল শক্তি এবার বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন প্রভাবের পথে


নয়াদিল্লিতে চলমান ব্রিকস সম্মেলনে জোটটির সামনে উঠে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ এক লক্ষ্য—বিশ্ব অর্থনীতিতে নিজেদের বিশাল জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও বাণিজ্যিক শক্তিকে আরও কার্যকর বাস্তব ব্যবস্থায় রূপ দেওয়া। বর্তমানে ১১ সদস্যের ব্রিকস বিশ্বের প্রায় ৪৯.৫ শতাংশ জনসংখ্যা, ৪০ শতাংশ বৈশ্বিক জিডিপি এবং ২৬ শতাংশ বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রতিনিধিত্ব করছে।

এই বিশাল অর্থনৈতিক ও জনমিতিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও ব্রিকসের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো—এই প্রভাবকে কীভাবে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর সহযোগিতায় পরিণত করা যায়। ভারতের ২০২৬ সালের সভাপতিত্বে আলোচনায় তাই শুধু অর্থনৈতিক সক্ষমতার কথা নয়, বরং বাণিজ্য, উন্নয়ন অর্থায়ন, অবকাঠামো, অর্থপ্রদান ব্যবস্থা এবং আর্থিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষ করে সীমান্তপারের লেনদেন সহজ করতে ব্রিকস সদস্যরা নিজেদের স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন পেমেন্ট ও মেসেজিং ব্যবস্থার মধ্যে আন্তঃসংযোগের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে। ব্রিকসের পেমেন্ট টাস্ক ফোর্স এ বিষয়ে বাস্তবসম্মত কাঠামো তৈরির উদ্যোগও এগিয়ে নিচ্ছে।

ব্রিকসের অর্থনৈতিক শক্তিকে মানুষের জীবন ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেছেন, সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে চাকরি, সম্পদ ও মানুষের সমৃদ্ধিতে রূপ দিতে হবে। একইভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্রিকসের সম্মিলিত শক্তিকে বাস্তব সমাধানে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

ব্রিকস এখন শুধু উদীয়মান অর্থনীতির একটি জোট হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকতে চাইছে না। উন্নয়ন, অর্থায়ন, বাণিজ্য ও ডিজিটাল পেমেন্টের মতো ক্ষেত্রে বাস্তব সহযোগিতা বাড়াতে পারলে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় জোটটির প্রভাব আরও দৃশ্যমান হতে পারে। তবে সদস্য দেশগুলোর ভিন্ন অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক স্বার্থের কারণে এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন সহজ হবে না।

নয়াদিল্লির এবারের সম্মেলন তাই ব্রিকসের জন্য শুধু আরেকটি শীর্ষ বৈঠক নয়; বরং বিশাল অর্থনৈতিক শক্তিকে কতটা কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতায় রূপ দেওয়া যায়, সেটিই হয়ে উঠেছে বড় পরীক্ষা।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর