টক্সিকোলজি রিপোর্টে ভয়াবহ তথ্য, বিষ প্রয়োগে ৪ সন্তানকে হত্যার পর মা-নানির আত্মহত্যা

টক্সিকোলজি রিপোর্টে ভয়াবহ তথ্য, বিষ প্রয়োগে চার সন্তানকে হত্যা করে মা ও নানির আত্মহত্যা, তদন্তে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য।

টক্সিকোলজি রিপোর্টে ভয়াবহ তথ্য, বিষ প্রয়োগে ৪ সন্তানকে হত্যার পর মা-নানির আত্মহত্যা

টক্সিকোলজি রিপোর্টে ভয়াবহ তথ্য, বিষ প্রয়োগে ৪ সন্তানকে হত্যার পর মা-নানির আত্মহত্যা


যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের মেকানিকভিলে চার শিশুকে হত্যার ঘটনায় প্রকাশিত টক্সিকোলজি প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ১৩ বছর বয়সী হার্পার হারমন, ১১ বছর বয়সী হাডসন হারমন এবং ১০ বছর বয়সী যমজ গ্যাভিন ও গ্রেসলিন হারমনের শরীরে ডাইফেনহাইড্রামিন এবং ক্রেটমের সক্রিয় উপাদান মাইট্রাজিনিন পাওয়া গেছে। ডাইফেনহাইড্রামিন বেনাড্রিলসহ বিভিন্ন অ্যালার্জি ও ঘুমের ওষুধে ব্যবহৃত একটি উপাদান।


২০২৬ সালের জুনে মেকানিকভিলের একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে একই পরিবারের ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন চার শিশু, তাদের ৪৪ বছর বয়সী মা সারা মায়ার্স এবং ৬৪ বছর বয়সী নানি অ্যামি স্টেডম্যান। পুলিশ পরবর্তীতে জানায়, চার শিশুর মৃত্যু হত্যাকাণ্ড এবং মায়ার্স ও স্টেডম্যানের মৃত্যু আত্মহত্যা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।


টক্সিকোলজি পরীক্ষায় চার শিশুর শরীরেই ডাইফেনহাইড্রামিনের উপস্থিতি পাওয়া যায়। একই সঙ্গে ক্রেটমে থাকা মাইট্রাজিনিনও চারজনের মধ্যে পাওয়া গেছে। ক্রেটম একটি সাইকোঅ্যাকটিভ উদ্ভিজ্জ পদার্থ, যার প্রভাব অনেক ক্ষেত্রে ওপিওয়েডের মতো হতে পারে। তবে কোন ব্যক্তির শরীরে কত পরিমাণ পদার্থ ছিল—এ বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে পূর্ণ মাত্রাগত তথ্য দেওয়া হয়নি।


তদন্তকারীদের মতে, চার শিশুর মধ্যে গ্যাভিনকে শুধু বিষ প্রয়োগ করা হয়নি; তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতও পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, গ্যাভিন সম্ভবত বিষ প্রয়োগের পরও প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিল। তবে ঘটনাটির প্রতিটি ধাপ কীভাবে ঘটেছিল, তা তদন্তের বিষয় হিসেবে এখনো বিবেচিত হচ্ছে।


ঘটনার পেছনে পারিবারিক ও সন্তানদের হেফাজত নিয়ে বিরোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন। শিশুদের বাবা ব্র্যাডি হারমন দীর্ঘদিন ধরে সন্তানদের সঙ্গে দেখা ও হেফাজতের বিষয়ে আইনি বিরোধে ছিলেন। ঘটনার কিছুদিন পরই শিশুদের বাবার সঙ্গে উটাহে যাওয়ার কথা ছিল বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আগস্টে মেকানিকভিল পুলিশ জানায়, সারা মায়ার্স ও তার মা অ্যামি স্টেডম্যান শিশুদের হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, স্টেডম্যান ঘটনার কয়েক দিন আগে বিভিন্ন ফার্মেসিতে গিয়ে ওষুধ সংগ্রহ করেছিলেন এবং ওষুধের প্রভাব সম্পর্কেও তথ্য খুঁজেছিলেন। তদন্তকারীরা মা ও নানির মধ্যে আদান-প্রদান করা বিভিন্ন বার্তা ও নথিও পর্যালোচনা করেন।

ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতে লেখা চিঠিও উদ্ধার করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের কাছে ওই চিঠি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মা ও নানি নিজেদের কর্মকাণ্ডকে শিশুদের কথিত নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে শিশুদের বাবার বিরুদ্ধে করা নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে—এমন তথ্য তদন্তকারীরা প্রকাশ করেননি।


ঘটনাটি প্রথমে প্রকাশ্যে আসে ২৩ জুন, যখন পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘ সময় দেখা না পাওয়ায় একটি কল্যাণ যাচাইয়ের অনুরোধ করা হয়। পুলিশ গিয়ে অ্যাপার্টমেন্টের ভেতর ছয়জনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। পরে মরদেহগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

মেকানিকভিলের এই ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। চার শিশুর স্মরণে স্থানীয় বাসিন্দারা সমবেত হয়ে শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা, পারিবারিক বিরোধ এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।


তদন্ত এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, টক্সিকোলজি, ডিজিটাল তথ্য, চিঠি এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে ঘটনার সম্পূর্ণ ধারাবাহিকতা নির্ধারণ করা হচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাইরে থেকে কোনো ব্যক্তি এসে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং সাধারণ মানুষের জন্য কোনো হুমকিও নেই বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর