ভয় পেরিয়ে স্বপ্নের পথে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী শিক্ষার্থীরা
আটক ও অনিশ্চয়তার ভয় বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াচ্ছে কলেজ, সংগঠন ও স্থানীয় প্রশাসন, জেগে থাকছে নতুন আশার আলো।
ভয় পেরিয়ে স্বপ্নের পথে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী শিক্ষার্থীরা
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানীয় ঘটনায় অভিবাসী পরিবার ও শিক্ষার্থীদের জীবন নিয়ে উদ্বেগ যেমন বাড়ছে, তেমনি তাদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগও জোরদার হচ্ছে। আজকের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি কানেকটিকাটে দক্ষিণ সুদানের ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ডেং ডিউ কুয়াচ ডেংকে আইসিইর আটক। তিনি সাউদার্ন কানেকটিকাট স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াবিদ। ৪ সেপ্টেম্বর নিউ হ্যাভেনের টুইড বিমানবন্দরে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ওঠার প্রস্তুতির সময় তাকে আটক করা হয়। ফেডারেল কর্তৃপক্ষের দাবি, তিনি শিক্ষার্থী ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। তবে তার আইনজীবীরা বলছেন, তার আশ্রয় ও সাময়িক সুরক্ষার আবেদন চলমান ছিল এবং তিনি সম্প্রতি কাজের অনুমতিও পেয়েছিলেন।
ঘটনাটি শিক্ষার্থী ও অভিবাসী কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয় কর্মকর্তারাও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ডেংয়ের আইনজীবীরা তার আটকের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। ফলে একজন তরুণ শিক্ষার্থীর পড়াশোনা, খেলাধুলা ও ভবিষ্যৎ এখন অভিবাসন মামলার অনিশ্চয়তার সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।
অন্যদিকে, ইলিনয়ের এলজিন কমিউনিটি কলেজে অভিবাসন-অনিশ্চয়তায় থাকা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছে শিক্ষার্থীদেরই একটি সংগঠন। ‘উই রাইজ’ নামের এই সংগঠন বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ, নিজেদের অধিকার সম্পর্কে প্রশিক্ষণ এবং বৃত্তির তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে। সংগঠনের শিক্ষার্থীরা বলছেন, অভিবাসন পরিস্থিতির কারণে কেউ যেন উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন থেকে পিছিয়ে না যায়, সেটিই তাদের লক্ষ্য।
নিউইয়র্কেও নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতে অভিবাসী পরিবার ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তার তথ্য প্রকাশ করেছে নগরীর অভিবাসীবিষয়ক দপ্তর। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিবাসন অবস্থান যাই হোক, নিউইয়র্ক সিটির প্রতিটি শিশুর বিনামূল্যে সরকারি শিক্ষার অধিকার রয়েছে। স্কুলগুলো শিক্ষার্থীদের অভিবাসন অবস্থার তথ্য জানতে চায় না এবং ভাষাগত ও মানসিক সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে সান ডিয়েগো সিটি কলেজেও আইসিইর একটি আটকের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন। শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ বলেছেন, ক্যাম্পাসের কাছাকাছি এমন ঘটনা তাদের মধ্যে ভয় তৈরি করেছে এবং কেউ কেউ ক্লাসে যাওয়া বা পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া নিয়েও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
আজকের ঘটনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী কমিউনিটির বাস্তবতার দুটি দিক স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—একদিকে আটক, আইনি অনিশ্চয়তা ও পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয়; অন্যদিকে শিক্ষার্থী, কলেজ, স্থানীয় প্রশাসন ও অধিকার সংগঠনগুলোর সহায়তার চেষ্টা। অভিবাসী শিক্ষার্থীদের কাছে তাই শিক্ষা শুধু একটি ডিগ্রি অর্জনের পথ নয়, বরং অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার একটি আশার জায়গা হয়ে উঠেছে।