নিউইয়র্কে আইসিই অভিযান, ৫৭ গ্রেপ্তারের ভিডিও প্রকাশ
এক বছর পর প্রকাশিত ভিডিওতে নিউইয়র্ক কারখানায় ৫৭ গ্রেপ্তারের চিত্র, অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও পরিবার বিচ্ছেদ নিয়ে নতুন বিতর্ক।
নিউইয়র্কে আইসিই অভিযান, ৫৭ গ্রেপ্তারের ভিডিও প্রকাশ
নিউইয়র্কের ক্যাটো শহরের একটি খাদ্য কারখানায় এক বছর আগে চালানো অভিবাসন অভিযানের দেহক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগের পদ্ধতি ও আটক শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর, আর ভিডিও প্রকাশ ও সংশ্লিষ্ট মামলা সামনে এসেছে ২০২৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর।
ক্যাটোর নিউট্রিশন বার কনফেকশনার্স কারখানায় অভিযানে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের বিভিন্ন সংস্থা অংশ নেয়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কয়েক ঘণ্টার অভিযানে কর্মকর্তারা মোট ৫৭ জনকে গ্রেপ্তার করেন। আরও অনেক শ্রমিককে জিজ্ঞাসাবাদ ও আটক করা হয়েছিল। ভিডিওতে কারখানার উৎপাদন এলাকা, গুদাম ও অন্যান্য জায়গায় কর্মকর্তাদের তল্লাশি চালাতে দেখা যায়।
অভিবাসী অধিকার সংগঠন নিউইয়র্ক সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন এবং ওয়ার্কার জাস্টিস সেন্টার অব নিউইয়র্কের অভিযোগ, অভিযানে ১০০ জনের বেশি মানুষকে আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। তাদের দাবি, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও বৈধভাবে বসবাসকারী ব্যক্তিও ছিলেন। সংগঠন দুটি ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ফেডারেল আদালতে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের বিরুদ্ধে শ্রেণি-ভিত্তিক মামলা করেছে।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, অনেক শ্রমিককে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ কিংবা আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার আগেই আটক কেন্দ্রে নেওয়া হয়। সংগঠনগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের পর ২০ জনের বেশি শ্রমিক তাদের সন্তানদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হন এবং কয়েকজনকে পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়। এসব অভিযোগ এখন আদালতে বিচারাধীন।
অভিবাসন অধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো অভিযানে বিপুলসংখ্যক শ্রমিককে আটক করা হলেও তাদের সবার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়নি। এপি-কে দেওয়া আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, ৫৭ জন গ্রেপ্তার ব্যক্তির মধ্যে মাত্র পাঁচজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছিল এবং সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ ছিল বেআইনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পুনঃপ্রবেশ। তবে এ বিষয়টি মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য হিসেবে দেখা উচিত।
অন্যদিকে, ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল কর্মীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া, পরিচয়পত্র ও সম্ভাব্য জাল নথি ব্যবহারের বিষয়ে তদন্ত করা। অভিযানের সময় কর্মকর্তারা বিভিন্ন নথি ও ইলেকট্রনিক তথ্য জব্দের বিষয়েও আলোচনা করেন।
ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় আসার অন্যতম কারণ দেহক্যামেরার ভিডিও। ভিডিওতে কর্মকর্তাদের অভিযানের বিভিন্ন ধাপ, শ্রমিকদের আটক করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক কর্মীদের কখন ছেড়ে দেওয়া হবে—এসব নিয়ে কর্মকর্তাদের আলোচনা ধরা পড়েছে। এপি জানিয়েছে, এমন ভিডিও কর্মক্ষেত্রে অভিবাসন অভিযান কীভাবে পরিচালিত হয় তার বিরল চিত্র তুলে ধরেছে।
অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীতে থাকা অযৌক্তিক তল্লাশি ও জব্দের বিরুদ্ধে সুরক্ষার প্রশ্নও সামনে আনতে পারে। তবে আদালতে মামলাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং সরকারের পক্ষের পূর্ণ আইনি অবস্থান ও আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়েছে।
ঘটনাটি নিউইয়র্কের অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যেও নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে যেসব পরিবারে একজন অভিভাবক আটক বা বহিষ্কারের মুখে পড়েন, তাদের সন্তানদের জীবন, পারিবারিক আয় ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার বিষয়টি মামলায় গুরুত্ব পেয়েছে।