২৫ বছর পরও ৯/১১-এর ক্ষত অমলিন, স্বজন হারানোর শোক বয়ে চলেছে আমেরিকা

৯/১১-এর ২৫ বছরেও অমলিন শোক, পেন্টাগনে নিহতদের স্মরণে ট্রাম্প বললেন, আমেরিকা কখনো তাদের ভুলবে না।

২৫ বছর পরও ৯/১১-এর ক্ষত অমলিন, স্বজন হারানোর শোক বয়ে চলেছে আমেরিকা
২৫ বছর পরও ৯/১১-এর ক্ষত অমলিন, স্বজন হারানোর শোক বয়ে চলেছে আমেরিকা

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্ণ হলো। এক প্রজন্ম পেরিয়ে গেলেও সেই দিনের ভয়াবহতা, স্বজন হারানোর বেদনা এবং হাজারো পরিবারের শোক আজও আমেরিকার জাতীয় জীবনে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। ২৫তম বার্ষিকীতে নিউইয়র্ক, পেন্টাগন ও পেনসিলভানিয়ার শ্যাঙ্কসভিলে আয়োজিত স্মরণ অনুষ্ঠানে নিহতদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়েছে। 

পেন্টাগনে আয়োজিত স্মরণ অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প অংশ নেন। নিহত ১৮৪ জনের নাম একে একে পাঠ করা হয় এবং প্রতিটি নামের পর ঘণ্টাধ্বনির মাধ্যমে তাদের স্মরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে ট্রাম্প নিহতদের জীবন ও তাদের পরিবারের কথা স্মরণ করে বলেন, “আমরা কখনো, কখনো ভুলব না।” 

ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে ৯/১১-এর পর যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া ঐক্যের কথাও তুলে ধরেন। তাঁর ভাষায়, হামলার পরের ভয়াবহ দিনগুলোতে আমেরিকানদের মধ্যে এক ধরনের ঐক্য ও পারস্পরিক সহমর্মিতা তৈরি হয়েছিল—সেই সময় সবাই নিজেদের নিউইয়র্কবাসী এবং একই পরিবারের সদস্য হিসেবে অনুভব করেছিলেন। 

২০০১ সালের ওই দিনে আল-কায়েদার হামলাকারীরা চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে। দুটি বিমান নিউইয়র্কের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের টুইন টাওয়ারে আঘাত করে। তৃতীয় বিমানটি পেন্টাগনে আছড়ে পড়ে। আর চতুর্থ বিমানটি পেনসিলভানিয়ার শ্যাঙ্কসভিলে বিধ্বস্ত হয়। হামলায় মোট ২ হাজার ৯৭৭ জন নিহত হন। পেন্টাগন হামলায় প্রাণ হারান ১৮৪ জন।

নিউইয়র্কের গ্রাউন্ড জিরোতেও ছিল আবেগঘন পরিবেশ। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা তাদের স্বজনদের ছবি হাতে নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেন। স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪৬ মিনিটে, যে সময়ে প্রথম বিমানটি বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের উত্তর টাওয়ারে আঘাত করেছিল, নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে স্মরণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর নিহতদের নাম পাঠ করা হয়। 

এবারের ২৫তম বার্ষিকীতে ৯/১১-পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকিও বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়েছে। হামলার পর ধ্বংসস্তূপ ও বিষাক্ত ধুলোর সংস্পর্শে আসা উদ্ধারকর্মী, দমকলকর্মী, পুলিশ কর্মকর্তা, স্বেচ্ছাসেবক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে পরবর্তী বছরগুলোতে গুরুতর অসুস্থতায় আক্রান্ত হন। এ কারণে হামলার দিন নিহতদের পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে ৯/১১-সংশ্লিষ্ট অসুস্থতায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদেরও স্মরণ করা হয়েছে। 

পেনসিলভানিয়ার শ্যাঙ্কসভিলেও স্মরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ৯৩-এর যাত্রী ও ক্রুদের স্মরণ করা হয়। বিমানটির যাত্রীরা ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন বলে ইতিহাসে ওই ঘটনার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। 

২৫ বছর পরও ৯/১১-এর প্রভাব শুধু স্মৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ওই হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গোয়েন্দা তৎপরতা, বিমানবন্দর নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবিরোধী নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। আফগানিস্তান ও ইরাকে দীর্ঘ সামরিক অভিযানসহ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতেও এর গভীর প্রভাব পড়ে।

পেন্টাগনের অনুষ্ঠানে ট্রাম্প ৯/১১-এর স্মৃতিকে বর্তমান জাতীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গেও যুক্ত করেন। তিনি সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা রক্ষায় দেশটির সামরিক বাহিনীর ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। 

তবে ৯/১১-এর ২৫তম বার্ষিকী শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য বা রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার বিষয় নয়। এটি হাজারো পরিবারের কাছে হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের স্মরণ করার দিন। কারও বাবা, কারও মা, কারও সন্তান, স্বামী, স্ত্রী কিংবা সহকর্মী—২ হাজার ৯৭৭টি জীবন সেদিন থেমে গিয়েছিল। তাদের শূন্যতা বহু পরিবারের জীবনে আজও রয়ে গেছে।

২৫ বছর পরও তাই যুক্তরাষ্ট্রের স্মরণবার্তার কেন্দ্রে একটি কথাই ফিরে আসে—সময় পেরিয়ে যেতে পারে, কিন্তু যারা হারিয়ে গেছেন তাদের স্মৃতি মুছে যায় না। পেন্টাগনে ট্রাম্পের বক্তব্য এবং দেশজুড়ে আয়োজিত স্মরণ অনুষ্ঠান আবারও সেই প্রতিশ্রুতিই সামনে এনেছে—৯/১১-এর নিহতদের আমেরিকা ভুলবে না।

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…