যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ৩.৪ শতাংশে, সুদ বাড়ানোর পথে ফেড চাপে মার্কিন অর্থনীতি

যুক্তরাষ্ট্রে আগস্টে মূল্যস্ফীতি ৩ দশমিক ৪ শতাংশ, সুদ বাড়ানোর সম্ভাবনা বেড়েছে, চাপে ভোক্তা ও ব্যবসা।

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ৩.৪ শতাংশে, সুদ বাড়ানোর পথে ফেড চাপে মার্কিন অর্থনীতি

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ৩.৪ শতাংশে, সুদ বাড়ানোর পথে ফেড চাপে মার্কিন অর্থনীতি


যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি আবারও ফেডারেল রিজার্ভের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। শুক্রবার প্রকাশিত আগস্টের ভোক্তা মূল্যসূচকের তথ্য অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে দেশটির ভোক্তা মূল্য ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। জুলাইয়েও বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল একই—৩ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে মাসিক হিসাবে আগস্টে ভোক্তা মূল্য বেড়েছে ০ দশমিক ৪ শতাংশ, যেখানে জুলাইয়ে বৃদ্ধি ছিল মাত্র ০ দশমিক ১ শতাংশ। 

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো খাদ্য ও জ্বালানির মতো অস্থির উপাদান বাদ দিয়ে হিসাব করা মূল মূল্যস্ফীতি। আগস্টে এই সূচক মাসিক ভিত্তিতে ০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। বার্ষিক হিসাবে মূল মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৪ শতাংশ, যা ফেডের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে। 

মূল্যস্ফীতির ওপর জ্বালানি খাতের চাপ বিশেষভাবে লক্ষণীয়। আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম মাসিক ভিত্তিতে প্রায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগও জ্বালানির দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। এর প্রভাব পরিবহনসহ বিভিন্ন পণ্য ও সেবার দামে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

এই পরিস্থিতিতে আগামী সপ্তাহে ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠককে ঘিরে সুদের হার নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। বাজারে ২৫ ভিত্তি পয়েন্ট সুদ বাড়ানোর সম্ভাবনা দ্রুত বেড়েছে; রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর বাজারে এই সম্ভাবনা প্রায় ৯১ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছিল। 

ফেডের জন্য পরিস্থিতি অবশ্য সহজ নয়। একদিকে মূল্যস্ফীতি এখনো ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে, অন্যদিকে সুদের হার বাড়ালে ঋণের খরচ বাড়বে এবং ভোক্তা ও ব্যবসার ব্যয় আরও চাপের মুখে পড়তে পারে। ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে ভারসাম্য রাখা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আগস্টের উৎপাদক মূল্যসূচকের তথ্যও মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে। উৎপাদক পর্যায়ে দাম এক বছরে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে এবং জ্বালানি খাতেও উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেছে। 

ফলে আগামী ১৫–১৬ সেপ্টেম্বর ফেডের বৈঠক এখন বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সুদের হার বাড়ানো হলে বাড়ি, গাড়ি, ক্রেডিট কার্ড ও ব্যবসায়িক ঋণের খরচে প্রভাব পড়তে পারে। অন্যদিকে সুদ না বাড়ালে মূল্যস্ফীতি আরও দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ পর্যায়ে থাকার ঝুঁকি রয়েছে।

আগস্টের মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্য মার্কিন অর্থনীতিতে স্বস্তির পরিবর্তে সুদের হার নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এখন সবার নজর ফেডারেল রিজার্ভের আগামী বৈঠকের সিদ্ধান্তের দিকে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর