যুক্তরাষ্ট্রে এক সেমিস্টার পড়ার সুযোগ বাংলাদেশি মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশের মাধ্যমিক

বাংলাদেশি মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার সুযোগ, ইয়েস কর্মসূচিতে বৃত্তিতে মিলবে বিদ্যালয়, স্বাগতিক পরিবার ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের অভিজ্ঞতা।

যুক্তরাষ্ট্রে এক সেমিস্টার পড়ার সুযোগ বাংলাদেশি মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশের মাধ্যমিক

যুক্তরাষ্ট্রে এক সেমিস্টার পড়ার সুযোগ বাংলাদেশি মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশের মাধ্যমিক


পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে উচ্চবিদ্যালয়ে পড়াশোনা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সুযোগ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কেনেডি-লুগার ইয়ুথ এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড স্টাডি ইয়েস কর্মসূচিতে। ২০২৭ সালের বসন্তকালীন কর্মসূচিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে স্থানীয় উচ্চবিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ পাবে।

বাংলাদেশে এই কর্মসূচি নতুন নয়। ইয়েস কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সাল থেকে প্রায় ৫৩০ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এতে অংশ নিয়েছে। কর্মসূচিটি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের অধীনে পরিচালিত এবং বাংলাদেশে এর বাস্তবায়নে আমেরিকান কাউন্সিলস, এএফএস ও আইইএআরএনের অংশীদারিত্ব রয়েছে।

এই কর্মসূচির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো—নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে একটি যাচাই-বাছাই করা স্বাগতিক পরিবারের সঙ্গে বসবাস করবে এবং স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ে মার্কিন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পড়াশোনা করবে। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ ও সংস্কৃতি সম্পর্কে সরাসরি জানার পাশাপাশি নিজেদের দেশ ও সংস্কৃতি সম্পর্কেও অন্যদের জানাতে পারবে। নেতৃত্বের দক্ষতা, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও আন্তঃসাংস্কৃতিক যোগাযোগ তৈরির ওপরও কর্মসূচিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর বয়স ২০২৭ সালের ১৫ জানুয়ারি ১৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে হতে হবে। জন্মতারিখ হতে হবে ২০১০ সালের ১৫ জানুয়ারি থেকে ২০১২ সালের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে। আবেদন করার সময় শিক্ষার্থীকে বাংলাদেশের কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয় বা কলেজের অষ্টম, নবম, দশম অথবা একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত থাকতে হবে। বিদেশে পড়াশোনা করা বাংলাদেশি নাগরিকরা এই কর্মসূচির জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

শিক্ষাগত ফলাফলের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট যোগ্যতা রয়েছে। আবেদনকারীর গড় ফলাফল কমপক্ষে ‘বি’ মানের সমতুল্য হতে হবে এবং কোনো বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া যাবে না। ২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের একাডেমিক নথি দিতে হবে। গত তিন শিক্ষাবর্ষে পড়াশোনায় বিরতি বা একই শ্রেণিতে পুনরায় পড়ার ঘটনাও গ্রহণযোগ্য নয়।

শুধু ভালো ফলাফল থাকলেই হবে না; ইংরেজিতে পড়াশোনা ও যোগাযোগ করার মতো সক্ষমতাও দেখাতে হবে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ইংরেজি দক্ষতা পরীক্ষা, নির্ধারিত পরিবেশে রচনা লেখা, পূর্ণাঙ্গ আবেদন এবং সাক্ষাৎকারসহ একাধিক ধাপ রয়েছে। চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচন করা হয় মেধার ভিত্তিতে।

নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মসূচিটি মূলত অর্থায়িত বিনিময় কর্মসূচি। এর আওতায় নিজ দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া-আসার বিমানভাড়া, যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগতিক পরিবারের সঙ্গে থাকার ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যবিমা, সীমিত মাসিক ভাতা এবং কর্মসূচির বিভিন্ন কার্যক্রম ও প্রয়োজনীয় উপকরণের খরচ দেওয়া হয়। তবে পাসপোর্ট তৈরি, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরীক্ষা ও টিকা এবং ব্যক্তিগত অতিরিক্ত খরচ শিক্ষার্থীর পরিবারের বহন করতে হতে পারে।

ইয়েস কর্মসূচির ওয়েবসাইটে বর্তমানে ২০২৭ সালের বসন্তকালীন সেমিস্টারকে সামনে রেখে কর্মসূচির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশ থেকে আবেদন করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও সর্বশেষ নির্দেশনা জানতে বাংলাদেশে ইয়েস কর্মসূচির দায়িত্বপ্রাপ্ত কার্যালয়ের ঘোষণাই অনুসরণ করা উচিত।

আবেদনসংক্রান্ত কোনো বিষয়ে জানতে [email protected] অথবা [email protected] ইমেইল ঠিকানায় যোগাযোগ করা যাবে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর