ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে নতুন পদক্ষেপ — যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ একসাথে রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল

ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেল, গ্যাস ও আর্থিক খাতে নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে পুতিনকে ইউক্রেন শান্তি আলোচনায় আনতে। জেলেনস্কি পদক্ষেপটিকে স্বাগত জানালেও মস্কো একে অকার্যকর বলেছে।

PostImage

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে নতুন পদক্ষেপ — যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ একসাথে রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল


ব্রাসেলস : ইউরোপীয় ইউনিয়ন বৃহস্পতিবার রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যা একদিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার তেল শিল্পের ওপর নতুন শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার পর ঘোষণা করা হয়। রুশ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো এই নিষেধাজ্ঞাগুলোকে “অকার্যকর” বলে দাবি করলেও পশ্চিমা নেতারা একে ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো মস্কোর যুদ্ধ তহবিলের মূল উৎস — জ্বালানি আয় — বন্ধ করা এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “আমরা এটি অনেকদিন ধরে চেয়েছি। ঈশ্বর করুন, এটি কাজ করুক — এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

ইইউ-এর ২৭টি সদস্য দেশের নেতারা ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনে নতুন নিষেধাজ্ঞার প্যাকেজ ঘোষণা করেন, যা রাশিয়ার তেল ও গ্যাস শিল্প, ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা পুরনো ট্যাঙ্কার বহর, এবং আর্থিক খাতকে লক্ষ্য করছে। পাশাপাশি, রুশ কূটনীতিকদের ইইউ দেশগুলোর মধ্যে চলাচলে সীমাবদ্ধতা আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকেও রাশিয়ার তেল জায়ান্ট রসনেফট (Rosneft)লুকঅয়েল (Lukoil)-এর ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, পুতিনের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে কারণ “এখন আলোচনা অর্থহীন হবে।”

রুশ অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো জ্বালানি রপ্তানি, যা পুতিনকে সামরিক ব্যয় বহনে সহায়তা করছে। তাই পশ্চিমা এই পদক্ষেপগুলো রাশিয়ার অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

রুশ সংবাদমাধ্যমগুলো অবশ্য এই নিষেধাজ্ঞাকে তুচ্ছ বলে দেখিয়েছে। জনপ্রিয় পত্রিকা কোমসোমলস্কায়া প্রাভদা লিখেছে, “চাপ বা নিষেধাজ্ঞা—কিছুই জেলেনস্কির অবস্থা মিষ্টি করে তুলবে না, বরং শান্তির পথ আরও দূরে সরিয়ে দেবে।” রুশ রাষ্ট্রীয় সংস্থা রিয়া নভোস্তি মন্তব্য করেছে, “নিষেধাজ্ঞাগুলো বেদনাদায়ক, কিন্তু প্রাণঘাতী নয়।”

উল্লেখযোগ্যভাবে, রাশিয়ার পক্ষ থেকে বুধবারই পারমাণবিক বাহিনীর কৌশলগত মহড়ার নির্দেশ দিয়েছেন পুতিন, যা পশ্চিমা পর্যবেক্ষকদের মতে, একটি পরোক্ষ হুমকি।

ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভে রাশিয়া ড্রোন হামলা চালায়, যেখানে “ডাবল-ট্যাপ” আক্রমণের মাধ্যমে উদ্ধারকর্মীরা আহত হন এবং একজন নিহত হন। একই সময়ে কিয়েভে তিনটি অঞ্চলে ড্রোন হামলায় আটজন আহত হন। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা ১৩৯টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে, যদিও ইউক্রেনীয় সূত্র বলছে রাশিয়ার আরও কিছু তেল শোধনাগার ও বিদ্যুৎ স্থাপনায় সফল হামলা চালানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম নতুন নিষেধাজ্ঞার খবরের পর ব্যারেলপ্রতি দুই ডলারেরও বেশি বেড়ে যায়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নিষেধাজ্ঞা পুতিনের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করবে, কিন্তু যুদ্ধের দ্রুত অবসান এখনো অনিশ্চিত।

 (এপি)

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর