ডার্ক ফ্লিট: ট্যাঙ্কার ব্যবহার করে জ্বালানি চোরাচালানে মেক্সিকান কার্টেলের বিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য
মেক্সিকোর CJNG কার্টেল ট্যাঙ্কার ও ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে বিলিয়ন ডলারের ডিজেল চোরাচালান সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে।
ডার্ক ফ্লিট: ট্যাঙ্কার ব্যবহার করে জ্বালানি চোরাচালানে মেক্সিকান কার্টেলের বিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য
একটি দীর্ঘ তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে, মেক্সিকোর সবচেয়ে শক্তিশালী অপরাধী সংগঠন হালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল (CJNG) মাদক থেকে এখন জ্বালানি চোরাচালানের বিশাল ব্যবসা গড়ে তুলেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কার্টেল একাধিক ফ্রন্ট কোম্পানি ও ট্যাঙ্কার ব্যবহার করে কানাডা থেকে ডিজেল আমদানি করত “লুব্রিক্যান্ট” নামে ভুয়া ঘোষণা দিয়ে। এই জ্বালানি পাঠানো হতো মেক্সিকোতে, যেখানে সেটি গ্রহণ করত Intanza নামের একটি প্রতিষ্ঠান, যা আসলে কার্টেলের নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই প্রক্রিয়ায় CJNG এখন মেক্সিকোর ডিজেল বাজারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ দখল করে ফেলেছে, যার বার্ষিক মূল্য ২০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
হিউস্টনভিত্তিক কোম্পানি Ikon Midstream এই চোরাচালানের মূল কেন্দ্র বলে তদন্তে জানা গেছে। কোম্পানিটি কানাডা থেকে ডিজেল কিনে মিথ্যা কাগজপত্রে ‘লুব্রিক্যান্ট’ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে রপ্তানি করত, যাতে সীমান্তে ধরা না পড়ে।
অভিযোগ আছে, মেক্সিকোর কিছু নৌবাহিনী কর্মকর্তা ও কাস্টমস কর্মকর্তাও এই চোরাচালানে সহায়তা করছিলেন। এ নিয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষ ব্যাপক দুর্নীতির তদন্ত শুরু করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই “ডার্ক ফ্লিট” নামে পরিচিত ট্যাঙ্কার নেটওয়ার্ক শুধু অবৈধ অর্থ উপার্জনই করছে না, বরং বৈধ জ্বালানি ব্যবসাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সরকারের রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি বাজারে জ্বালানির দামের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর কর্তৃপক্ষ এখন যৌথভাবে এই জ্বালানি চোরাচালান রোধে অভিযান চালাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, CJNG এখন শুধু মাদক নয়, জ্বালানিকেও অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে তাদের অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য বাড়াতে।