নিউইয়র্কে ব্রিটিশ নাগরিকের মামলা খারিজ, আটক-বহিষ্কারের পথে নতুন মোড়

নিউইয়র্কে ইমরান আহমেদের মামলা খারিজ, আটক ও বহিষ্কারের পথ খুলে দিল আদালতের নতুন রায়, আপিলের সুযোগ থাকছে পাঁচ দিন।

নিউইয়র্কে ব্রিটিশ নাগরিকের মামলা খারিজ, আটক-বহিষ্কারের পথে নতুন মোড়

নিউইয়র্কে ব্রিটিশ নাগরিকের মামলা খারিজ, আটক-বহিষ্কারের পথে নতুন মোড়


নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত ব্রিটিশ নাগরিক ও অনলাইন ভুলতথ্যবিরোধী প্রচারক ইমরান আহমেদের করা মামলা খারিজ করে দিয়েছেন। তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের তাকে আটক ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের উদ্যোগ ঠেকাতে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন। 


মামলাটি খারিজের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন মার্কিন জেলা বিচারক লোরেটা প্রেসকা। তিনি বলেছেন, আহমেদের সাংবিধানিক অধিকার—বিশেষ করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া পাওয়ার অধিকার—নিয়ে উত্থাপিত কিছু দাবির ভিত্তি থাকতে পারে। তবে সাম্প্রতিক একটি আপিল আদালতের রায়ের কারণে তার আদালতের এই মামলাটি বিচার করার এখতিয়ার নেই বলে তিনি সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। 

আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা এবং ওয়াশিংটনে বসবাস করেন। তার স্ত্রী ও সন্তান দুজনই মার্কিন নাগরিক। তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্টার ফর কাউন্টারিং ডিজিটাল হেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।


এর আগে আহমেদকে আটক করার পথ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে আদালত একটি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। নতুন রায়ের পর বিচারক সেই নিষেধাজ্ঞা আরও পাঁচ কার্যদিবস বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে আহমেদ সিদ্ধান্তটির বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পান। 


মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আহমেদের বিরোধের সূত্রপাত মূলত তার অনলাইন কর্মকাণ্ডকে ঘিরে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র তারসহ কয়েকজন ইউরোপীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। প্রশাসনের অভিযোগ ছিল, তারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণ বা মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আহমেদ এসব অভিযোগের বিরোধিতা করেছেন। 


আহমেদের মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার নিয়ে বড় প্রশ্ন সামনে এনেছে। বিশেষ করে স্থায়ী বাসিন্দাদের রাজনৈতিক মতামত বা কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে আটক ও বহিষ্কারের উদ্যোগ কতটা বৈধ—তা নিয়ে দেশটিতে ইতোমধ্যে একাধিক আইনি লড়াই চলছে। 


রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আহমেদের মামলাটি খারিজ হওয়ায় প্রশাসনের জন্য তাকে আটক ও বহিষ্কারের উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার পথ খুলেছে। তবে পাঁচ কার্যদিবসের জন্য আগের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় তিনি আপিলের মাধ্যমে পরবর্তী আইনি প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। 


এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বাসিন্দা ও বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিবাসন পদক্ষেপ নিয়ে আদালতগুলোর মধ্যে মতপার্থক্যও দেখা যাচ্ছে। ফলে আহমেদের মামলাটি শুধু একজন ব্যক্তির আটক ও বহিষ্কারের বিষয় নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সরকারের নির্বাহী ক্ষমতার সীমা নিয়ে চলমান বৃহত্তর বিতর্কের অংশ হয়ে উঠেছে। 


তবে আদালতের এই সিদ্ধান্তকে আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার রায় হিসেবে দেখা যাবে না। বিচারক নিজেই উল্লেখ করেছেন যে তার সাংবিধানিক দাবির কিছু অংশের ভিত্তি থাকতে পারে; মামলাটি খারিজের মূল কারণ ছিল আদালতের এখতিয়ার-সংক্রান্ত বিষয়।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর