গর্ভবতী কর্মীদের অধিকার নিয়ে অ্যামাজনের বিরুদ্ধে মামলা
গর্ভবতী কর্মীদের অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অ্যামাজনের বিরুদ্ধে নিউইয়র্কের আদালতে বড় মামলা, সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
গর্ভবতী কর্মীদের অধিকার নিয়ে অ্যামাজনের বিরুদ্ধে মামলা
যুক্তরাষ্ট্রের ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজনের বিরুদ্ধে গর্ভবতী কর্মীদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগে প্রস্তাবিত দেশব্যাপী শ্রেণি মামলা হয়েছে। নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতে চার সাবেক গুদামকর্মী মামলাটি করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, গর্ভাবস্থায় প্রয়োজনীয় কর্মস্থল সুবিধা চাওয়া, চিকিৎসার জন্য সময় নেওয়া এবং শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে কাজের পরিবেশে পরিবর্তন চাওয়ার ক্ষেত্রে কর্মীরা নানা বাধার মুখে পড়েছেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, কিছু গর্ভবতী কর্মীকে বসার জন্য চেয়ার বা স্টুল, অতিরিক্ত শৌচাগার ও পানি পানের বিরতি, হালকা দায়িত্ব এবং প্রসবপূর্ব চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সময় দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ রয়েছে, কর্মীরা নির্ধারিত সময়ের বেশি কাজে অনুপস্থিত হলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং কারও কারও চাকরিও চলে গেছে।
বাদীদের একজন জেনিফার হ্যাচ। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ২০২৫ সালের শুরুতে গর্ভবতী হওয়ার পর চিকিৎসকের কাছ থেকে নিয়মিত বসার সুযোগ, ভারী জিনিস তোলার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা এবং নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টার সুপারিশ পান। তিনি এসব সুবিধার জন্য আবেদন করলেও অ্যামাজন তা অনুমোদনে দেরি করে এবং পরে আবেদন প্রত্যাখ্যান করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হ্যাচ দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে কাজ করার সময় শারীরিক সমস্যায় পড়েছিলেন। এক পর্যায়ে কর্মস্থলে থাকা একটি চেয়ার ব্যবহার করতে চাইলে তার সুবিধার আবেদন অনুমোদিত না হওয়ায় তাকে বসতে দেওয়া হয়নি বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। পরে গর্ভাবস্থাজনিত পেটের ব্যথার কারণে তাকে একাধিকবার হাসপাতালে যেতে হয়। এসব অনুপস্থিতি তার ছুটির হিসাবকে প্রভাবিত করে এবং শেষ পর্যন্ত উপস্থিতি-সংক্রান্ত নীতি ভঙ্গের অভিযোগে তার চাকরি চলে যায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
আরেক বাদী উইলামিনা বার্কলের ক্ষেত্রেও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে গর্ভাবস্থাজনিত জরুরি অবস্থার কারণে তাকে অ্যামাজনের একটি গুদাম থেকে হাসপাতালে নিতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই ঘটনার পর তাকে উপস্থিতি ও বেতনবিহীন ছুটির সীমা সংক্রান্ত বিষয়ে সতর্ক করা হয় এবং কয়েক দিনের মধ্যেই তার চাকরি শেষ করে দেওয়া হয়।
বাদীদের পক্ষে শ্রমিক অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন এ বেটার ব্যালান্স এবং একটি আইনজীবী প্রতিষ্ঠান মামলা পরিচালনা করছে। তাদের দাবি, গর্ভবতী কর্মীদের জন্য একটি চেয়ার, হালকা দায়িত্ব, প্রয়োজনীয় বিরতি কিংবা চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সময়ের মতো সাধারণ সুবিধা না দেওয়া হলে তা কর্মীদের অধিকার লঙ্ঘনের পর্যায়ে যেতে পারে।
মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের গর্ভবতী কর্মীদের ন্যায্যতা আইন এবং নিউইয়র্কের শ্রম আইনের আওতায় করা হয়েছে। ২০২২ সালে পাস হওয়া ফেডারেল আইনটি ২০২৩ সালের জুন থেকে কার্যকর হয়। এতে গর্ভাবস্থা ও সন্তান জন্মদানের সঙ্গে সম্পর্কিত শারীরিক বা চিকিৎসাগত প্রয়োজনের ক্ষেত্রে যোগ্য কর্মীদের যুক্তিসংগত কর্মস্থল সুবিধা দেওয়ার বিধান রয়েছে, যদি তা প্রতিষ্ঠানের জন্য অযৌক্তিক চাপ তৈরি না করে।
অ্যামাজন অবশ্য মামলার সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কোম্পানির মুখপাত্র কেলি ন্যান্টেল বলেছেন, মামলায় উপস্থাপিত ঘটনাগুলোর বর্ণনায় ভুল রয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য বাদ দেওয়া হয়েছে। অ্যামাজনের দাবি, তারা প্রতিবছর হাজার হাজার কর্মীকে গর্ভাবস্থা-সংক্রান্ত সুবিধা দিয়ে থাকে এবং গত এক বছরে এ ধরনের ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশের বেশি আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে।
মামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের হারানো বেতন ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষতিপূরণ, শাস্তিমূলক অর্থ এবং ভবিষ্যতে গর্ভবতী কর্মীদের বিরুদ্ধে কথিত বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধে আদালতের নির্দেশ চাওয়া হয়েছে।
অ্যামাজনের বিরুদ্ধে গর্ভবতী ও প্রতিবন্ধী কর্মীদের কর্মস্থল সুবিধা নিয়ে এর আগেও নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে আইনি পদক্ষেপ হয়েছে। নতুন মামলাটি তাই যুক্তরাষ্ট্রে বড় কর্মসংস্থানদাতা প্রতিষ্ঠানটির কর্মপরিবেশ ও কর্মীদের অধিকার নিয়ে চলমান আইনি বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।
তবে মামলায় করা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। অ্যামাজন সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং বলেছে, বাদীদের বর্ণনায় ভুল ও অসম্পূর্ণ তথ্য রয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ হবে।