মদিনায় মসজিদে নববীর পাশে বাড়ির মালিক হওয়ার সুযোগ, ১২০ ইউনিটে শুরু নিবন্ধন
মসজিদে নববীর পাশে বিলাসবহুল আবাসনের নতুন সুযোগ, ১২০ ইউনিটে মালিকানা নিতে আগ্রহীদের নিবন্ধন শুরু, মদিনায় বাড়ছে বিনিয়োগের আকর্ষণ।
মদিনায় মসজিদে নববীর পাশে বাড়ির মালিক হওয়ার সুযোগ, ১২০ ইউনিটে শুরু নিবন্ধন
মদিনায় মসজিদে নববীর কাছাকাছি এলাকায় বিলাসবহুল আবাসিক ইউনিটের মালিকানা নেওয়ার সুযোগ ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। রুয়া আল মদিনা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আন্তর্জাতিক মানের আবাসিক সুবিধা গড়ে তোলার অংশ হিসেবে ১২০টি বিলাসবহুল আবাসিক ইউনিট নিয়ে আগ্রহী ক্রেতাদের নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ফেয়ারমন্ট ব্র্যান্ডের অধীনে এসব আবাসিক ইউনিট গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর অবস্থান। মসজিদে নববীর কাছাকাছি হওয়ায় এখানকার আবাসিক ইউনিটগুলো বিশেষভাবে ধর্মীয় পর্যটক, দীর্ঘমেয়াদি বাসিন্দা এবং উচ্চমানের আবাসিক সম্পত্তিতে আগ্রহী ক্রেতাদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। প্রকল্পের প্রচারে আধুনিক আবাসিক নকশা, উন্নত সেবা এবং পবিত্র মসজিদের নিকটবর্তী অবস্থানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। বর্তমানে যে নিবন্ধনের কথা বলা হচ্ছে, সেটিকে সরাসরি ১২০টি ইউনিটের চূড়ান্ত বিক্রয় বা মালিকানা হস্তান্তর হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন মূলত সম্ভাব্য ক্রেতাদের আগ্রহ প্রকাশের সুযোগ। চূড়ান্ত ক্রয়, মূল্য, ইউনিট নির্বাচন, চুক্তি এবং মালিকানা হস্তান্তর সংশ্লিষ্ট আইন ও শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করবে।
মদিনায় বিদেশিদের সম্পত্তি কেনার বিষয়টি ২০২৬ সালে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সৌদি আরবের রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, অ-সৌদি নাগরিকদের সম্পত্তি মালিকানার নতুন ব্যবস্থা ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকা ও নির্ধারিত নিয়মের অধীনে বিদেশিদের সম্পত্তি কেনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য সরকারি ‘সৌদি প্রপার্টিজ’ প্ল্যাটফর্মও চালু রয়েছে।
মক্কা ও মদিনার ক্ষেত্রে অবশ্য বিশেষ নিয়ম রয়েছে। সৌদি সরকারের প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, এসব পবিত্র শহরে বিদেশি ব্যক্তির আবাসিক সম্পত্তি মালিকানা মুসলিম ব্যক্তিদের জন্য সীমাবদ্ধ। একই সঙ্গে কোন এলাকায় কোন ধরনের সম্পত্তি কেনা যাবে এবং মালিকানার ক্ষেত্রে কী সীমা থাকবে, তা সংশ্লিষ্ট বিধি ও ভৌগোলিক সীমার ওপর নির্ভর করে।
এর ফলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মুসলিম নাগরিকদের জন্য মদিনায় সম্পত্তি কেনার সুযোগ আগের তুলনায় নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। তবে কোনো ব্যক্তি শুধু আগ্রহ নিবন্ধন করলেই মালিকানা নিশ্চিত হয়ে যাবে—এমনটি বলা যাবে না। ক্রেতার যোগ্যতা, সম্পত্তির অবস্থান, প্রকল্পের অনুমোদন এবং সৌদি সরকারের নির্ধারিত নিয়ম অবশ্যই যাচাই করতে হবে।
রুয়া আল মদিনা প্রকল্প নিজেই মদিনার বড় নগর উন্নয়ন উদ্যোগগুলোর একটি। এর উদ্দেশ্য শুধু আবাসিক ভবন নির্মাণ নয়; বরং মসজিদে নববীর আশপাশের এলাকাকে আধুনিক হোটেল, আবাসিক স্থাপনা, বাণিজ্যিক সুবিধা ও দর্শনার্থীসেবার সমন্বয়ে নতুনভাবে উন্নত করা। সৌদি আরবের বৃহত্তর পর্যটন ও ধর্মীয় পর্যটন পরিকল্পনার সঙ্গেও প্রকল্পটির সম্পর্ক রয়েছে।
১২০টি আবাসিক ইউনিটের প্রতি আগ্রহের আরেকটি কারণ হলো আন্তর্জাতিক আতিথেয়তা ব্র্যান্ডের সম্পৃক্ততা। ফেয়ারমন্ট নামটি বিশ্বব্যাপী বিলাসবহুল হোটেল ও আবাসিক সেবার সঙ্গে যুক্ত। ফলে সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে এটি সাধারণ আবাসিক ভবনের তুলনায় ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতার প্রতিশ্রুতি তৈরি করছে।
মসজিদে নববীর কাছে বসবাসের বিষয়টি অনেক মুসলিমের কাছে আর্থিক বিনিয়োগের চেয়েও বেশি আবেগের বিষয়। যারা মদিনায় দীর্ঘ সময় থাকতে চান কিংবা নিয়মিত জিয়ারতের জন্য আসেন, তাদের কাছে মসজিদে নববীর কাছাকাছি একটি নিজস্ব আবাসনের ধারণা বিশেষ আকর্ষণীয় হতে পারে।
তবে সম্ভাব্য ক্রেতাদের আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় ভালোভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। ইউনিটের প্রকৃত মূল্য, আয়তন, বুকিং বা অগ্রিম অর্থের নিয়ম, কিস্তি ব্যবস্থা, হস্তান্তরের সময়, বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, মালিকানার ধরন এবং বিদেশি ক্রেতাদের জন্য প্রযোজ্য সরকারি ফি সম্পর্কে লিখিত তথ্য নিতে হবে।
বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো বিজ্ঞাপন দেখে ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব বা অননুমোদিত প্রতিষ্ঠানে টাকা পাঠানো উচিত নয়। সৌদি আরবের সরকারি সম্পত্তি মালিকানা ব্যবস্থার আওতায় অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করাই নিরাপদ। সরকারি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অ-সৌদি নাগরিকদের সম্পত্তি মালিকানা সংক্রান্ত তথ্য ও আবেদন ‘সৌদি প্রপার্টিজ’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
এ ছাড়া প্রকল্পটি যদি নির্মাণাধীন বা ভবিষ্যৎ আবাসিক ইউনিট বিক্রয়ের আওতায় পড়ে, তাহলে সৌদি আরবের অফ-প্ল্যান সম্পত্তি বিক্রয়সংক্রান্ত অনুমোদনও যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটি জানিয়েছে, অফ-প্ল্যান সম্পত্তি বিক্রয় ও ইজারা কার্যক্রমের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প ও ডেভেলপারকে নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে হয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মদিনায় বিদেশি মালিকানার সুযোগ তৈরি হলেও এর অর্থ এই নয় যে যেকোনো বিদেশি নাগরিক যেকোনো সম্পত্তি কিনতে পারবেন। সরকারি নিয়মে নির্ধারিত ভৌগোলিক এলাকা, সম্পত্তির ধরন ও ক্রেতার যোগ্যতার বিষয়গুলো প্রযোজ্য। মক্কা ও মদিনায় মুসলিম ব্যক্তিদের জন্য আবাসিক সম্পত্তি মালিকানার বিশেষ বিধান রয়েছে।
ফলে ১২০টি বিলাসবহুল ইউনিটের এই উদ্যোগকে মদিনায় নতুন ধরনের আবাসিক ও বিনিয়োগ সম্ভাবনার অংশ হিসেবে দেখা যায়। মসজিদে নববীর নিকটবর্তী অবস্থান, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সম্পৃক্ততা এবং সৌদি আরবের নতুন বিদেশি সম্পত্তি মালিকানা কাঠামো—এই তিনটি বিষয় প্রকল্পটিকে বিশেষভাবে আলোচনায় এনেছে।
তবে এখনই ‘১২০টি বাড়ি সবার জন্য বিক্রি শুরু’ বলা পুরোপুরি সঠিক হবে না। নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুযায়ী, আগ্রহীদের নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে; কিন্তু প্রকৃত মালিকানা পেতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বিক্রয়প্রক্রিয়া এবং সৌদি সরকারের আইনগত শর্ত পূরণ করতে হবে।